প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়াতে ছাত্রকে এসিড মারল কলেজ ছাত্রী!

0
521

প্রেমের প্রস্তাবে- জামালপুর পৌরসভার রশিদপুর গ্রামের মাহমুদুল হাসান মারুফ (১৭) নামের এক কলেজ ছাত্র এসিড নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এসিডে তার মুখমণ্ডল ও কাঁধ ঝলসে গেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিবেশী ভাবনা আক্তার রিয়া নামের এক কলেজছাত্রীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ওই ছাত্রী ও তার মা হাসি বেগম সুজেদাকে আটক করেছে। এ ব্যাপারে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

জানা গেছে, জামালপুর পৌর এলাকার রশিদপুর গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে মাহমুদুল হাসান মারুফ জামালপুর সরকারি টেকনিকেল স্কুল এন্ড কলেজে ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজির প্রথম বর্ষের ছাত্র।

একই গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে ভাবনা আক্তার রিয়া কিছুদিন ধরে মাহমুদুল হাসান মারুফকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। রিয়া মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া বঙ্গবন্ধু কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী।

তাদের মধ্যে মাঝেমাঝে ফোনে কথাও হতো। মারুফ গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে তার এক বন্ধু সাইফুল ইসলামকে সাথে নিয়ে রিয়াদের বাড়ির সামনে দিয়ে আরেক বন্ধুর বাড়িতে যাচ্ছিল।

এ সময় রিয়া তাকে ডেকে বাড়ির ভেতরে নিয়ে ঘরের বৈদ্যুতিক লাইনের ত্রুটি সারাতে বলে। তখন ওই বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না। মারুফ দিনের বেলা এসে ঠিক করে দিবে বলে চলে যেতে চায়। কিন্তু রিয়া তাকে ঘরে যেতে বললে মারুফ অস্বীকৃতি জানায়।

এ সময় আকস্মিক মারুফের মুখে এসিড ছুড়ে মারার ঘটনা ঘটে। মারুফ তখন চিৎকার দিয়ে দৌড়ে স্থানীয় রশিদপুর বাজারে যায়। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে।

এসিডে মারুফের দুই চোখ ছাড়া মুখমণ্ডলের বেশিরভাগ স্থান ঝলসে গেছে। তার ডান কাঁধেও সামান্য এসিড দগ্ধ হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে রেফার্ড করা হয়েছে।

জামালপুর সদর থানা পুলিশ গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রিয়া ও তার মা হাসি বেগম সুজেদাকে রশিদপুরের বাড়ি থেকে আটক করেছে। এ ঘটনায় ভিকটিম মারুফের বাবা দুদু মিয়া বাদী হয়ে এসিড নিয়ন্ত্রণ আইনে শুক্রবার দুপুরে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ভাবনা আক্তার রিয়া ও তার মা হাসি বেগম সুজেদাকে আসামি করা হয়েছে।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. মো. শফিকুজ্জামান বলেন, ‘ভিকটিম এসিড দ্বারাই আক্রান্ত হয়েছে। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে রেফার্ড করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছিমুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, মারুফ নামের কলেজছাত্র এসিড নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

আটক ভাবনা আক্তার রিয়া ও তার মাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এদিকে এসিড নির্যাতনের স্বীকার মারুফের স্বজনরা জানায়, ঢাকা মেডিকেলের বান ইউনিটে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ওয়ালটন টিভি কিনে গাড়ি পেলেন চা দোকানি বাবলু

চলছে ‘ওয়ালটন ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-৩’। এর আওতায় ওয়ালটন পণ্য কিনে রয়েছে নতুন গাড়ি পাওয়ার সুযোগ। ক্যাম্পেইনের শুরুতেই বাজিমাত। এবার ওয়ালটন টেলিভিশন কিনে নতুন গাড়ি পেয়েছেন চুয়াডাঙ্গার মো. বাবলু হোসেন। কিস্তিতে ওয়ালটন টিভি কিনে নতুন গাড়ি পেয়ে চায়ের দোকানদার বাবলুর ঘরে এখন চাঁদের হাট।

বৃহস্পতিবার বাবলু হোসেনের হাতে নতুন গাড়ির চাবি তুলে দেন ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম এবং মো. হুমায়ুন কবীর।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটনের ডেপুটি ডিরেক্টর রাকিবুল হোসাইন, মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের জোনাল ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম, যশোর জোনের এরিয়া ম্যানেজার ফজলে রাব্বি সিদ্দিকী এবং গোল্ডস্টার ইলেকট্রনিক্সের স্বত্ত্বাধিকারী মাহফুজ-উর-রহমান জোয়ার্দার।

বাবলু হোসেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গবর গাড়া গ্রামের বাসিন্দা। গত সোমবার শহরের বাদুরতলার গোল্ডস্টার ইলেকট্রনিক্স থেকে ১৪ হাজার টাকা মূল্যের একটি ২৪ ইঞ্চি এলইডি টিভি কেনেন তিনি। ৫ হাজার টাকা ডাউন পেমেন্ট দিয়ে কিস্তিতে টিভিটি কেনেন বাবলু। এরপর মোবাইল ফোন দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করলে নতুন গাড়ি পাওয়ার মেসেজ পান তিনি।

উল্লেখ্য, অনলাইনে দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সারা দেশে ডিজিটাল ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে ওয়ালটন। চলতি বছরে এর আগেও দুই দফা চলেছে এই ক্যাম্পেইন।

দুই সিজনেই ব্যাপক গ্রাহকপ্রিয়তা পাওয়ায় ১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের সিজন-৩ শুরু হয়েছে। দেশের যে কোনো ওয়ালটন প্লাজা বা পরিবেশক শোরুম থেকে ফ্রিজ, টিভি কিংবা এয়ার কন্ডিশনার কিনে রেজিস্ট্রেশন করলেই ক্রেতারা পাচ্ছেন নতুন গাড়ি, মোটরসাইকেল, ফ্রি পণ্য অথবা নিশ্চিত ক্যাশব্যাক।

বাবলু হোসেন জানান, মা, স্ত্রী, এক ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার। অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চলছিল না। ধার-দেনা করে দুবাই গিয়েছিলেন। দুই বছর সেখানে থেকেও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।

অসুস্থ শরীর নিয়ে গত মাসে দেশে ফিরে ছোট্ট একটা চায়ের দোকান করেন। দোকানে ক্রেতা আকৃষ্ট করতে একটি টিভির প্রয়োজন হয়।

মোহসিন আলী নামে তার এক ভাতিজার কাছে শোনেন ওয়ালটন পণ্য খুবই ভালো। দামও সাধ্যের মধ্যে। কিস্তিতে কেনা যায়। তাকে সাথে নিয়েই ওয়ালটন শোরুমে যান বাবলু।

২৪ ইঞ্চির একটি এলইডি টিভি পছন্দ করেন। কিন্তু সাথে কোনো টাকা না থাকায় তখনকার মতো চলে যান। পরে ৫ হাজার টাকা নিয়ে কিস্তিতে টিভিটি কেনেন। এই টিভি কিনেই ওয়ালটন ডিজিটাল ক্যাম্পেইনে নতুন গাড়ি পান তিনি।

নতুন গাড়ি নেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবলু। তিনি বলেন, ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় পরের দেশে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখান থেকে খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে। আসলে আমার সৌভাগ্য লেখা ছিল দেশেই। দেশেরই একটি কোম্পানির টিভি কিনে ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। ধন্যবাদ ওয়ালটনকে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত নতুন গাড়ি পেয়েছিলেন পাঁচজন। এরা হলেন ঢাকার পুলিশ কনস্টেবল আরাধন চন্দ্র সাহা, চট্টগ্রাম চান্দগাঁও এর গৃহিনী সীমা শীল,

একই জেলার রাঙ্গুনিয়ায় কাপড়ের দোকানি টিশু দাশ, রংপুর জেলার পীরগঞ্জের কৃষক টিটু মিয়া ও নরসিংদীর কৃষক আবু তাহের। এছাড়া হাজার হাজার ক্রেতা ফ্রি পেয়েছেন মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টিভি, এসিসহ বিভিন্ন ওয়ালটন পণ্য।

এর আগে ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চালানো ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-১ এর আওতায় ওয়ালটন পণ্য কিনে আমেরিকা ও রাশিয়া ভ্রমণের ফ্রি বিমান টিকিট পেয়েছিলেন শরীয়তপুরে জাজিরার কবিরাজ কান্দি গ্রামের বাসিন্দা ও পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্পের মাঠকর্মী তানজিন সুলতানা নিপু,

গাজীপুর কোনাবাড়ীর বাবুল, দিনাজপুরে পার্বতীপুরের মাহমুদুল হাসান, গাইবান্ধায় বসবাসরত পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম।