একজন প্রবাসীর কিছু দুঃখ ভরা কথা, একটু সময় করে পড়ে যান

0
206

প্রবাসীর কিছু দুঃখ ভরা কথা- গত ১৪ বছর আগে আমি বিয়ে করেছিলাম। পরে প্রায় দের বছর পরে আমার সন্তান জন্ম হয়। তখন আমি বিদেশে চলে আসি। এরপর আমার স্ত্রীর সাথে আমার মনোমালিন্য হয়। আমরা উভয়ের সম্মতিক্রমে ডিভোর্স করি।

আমার ছেলে সব সময়ে ওর মায়ের কাছেই থাকতো, আর আমি সব সময়ে আমার ছেলের খোজখবর রাখতাম, টাকা পয়সা সব আমি বহন করতাম, প্রায়ে ৯ বছর পরে আমি আমার ছেলে রাহিম মল্লিককে তার মায়ের অনুমতি নিয়ে আমার বাড়ীতে নিয়ে আসি,

ছেলেটা বড় হচ্ছে, সেজন্য তাকে নিয়ে আসা, তাকে নুরানি মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেই। ২ বছর পড়াশোনা করে, হঠাত করে আমার মা বাবা অসুস্ত হয়ে যায়। খবর পেয়ে তখন আমি দেশে আসি।

তখন আমার মা বাবা আমাকে বিয়ের জন্য বলে, চিন্তা করে দেখলাম মা বাবা অসুস্ত অনেক; কি করি! অনেক চিন্তা করে একটা মেয়েকে ঘটকের মাধ্যমে দেখতে যাই। মেয়ের নাম প্রিয়া। প্রথম দেখাতেই সে আমাকে অনেক লাইক করে। আমার সবকিছু জেনেই সে বিয়ের জন্য রাজি হয়।

কয়েক দিন পরে আমি আর আমার ছেলেকে নিয়ে নতুন শশুরবাড়ী যাই। ২ দিন থাকি। তখনি লক্ষ্য করলাম আমার শাশুড়ি আমার ছেলে রাহিমকে একটু হিংসা করে, কিন্তু প্রিয়া রাহিমকে অনেক আদর করতো।

কয়েক দিন পরে আমি বিদেশে চলে আসি, কিন্তু আমি সবসময় আমার ছেলে আর প্রিয়ার যোগাযোগ রাখতাম।

একদিন আমার ছেলে রাহিম বললো- আব্বু! নানু বলেছে যে; আমি যদি ওদের বাড়িতে যাই তাহলে আমাকে জিন্দা কবর দিবে।

একথা শুনে আমি প্রিয়াকে জিজ্ঞেস করলাম; কেন তোমার মা একথা বলেছে? প্রিয়া বলল- রাগের মাথায় বলছে। তুমি কিছু মনে করোনা।

তারপর একদিন রাহিমকে ফোন করে প্রিয়া বলল, তুমি আসো তারাতারি আমাদের বাড়ীতে, তোমাকে আজ একটা জামা কিনে দিবো।

অনেক খুশি হয়ে আমার ছেলে চলে গেল ওদের বাড়িতে, জামা কেনার কথা বলেই প্রিয়া ওকে নিয়ে গেলো বাজারে এটা তার একটা ছলনা ও অভিনয় ছিল,

ঐ রাতে ঠিক ৯ টার দিকে রাহিমকে রাহিমের আপন মা ফোন করে। তার সাথে কথা হয় অল্প মিনিট। তারপর আমার ছেলে রহিমকে রাতের অন্ধকারে প্রিয়া ও তার মা মিলে হত্যা করে।

তার পরের দিন ডাইনী প্রিয়া আমাকে ফোন দিয়ে বলে রাহিম মরে গেছে। ঘুম থেকে উঠে না; দিনের ১২ টা বাজে।

এরপর যখন পুলিশ পাঠাই তখন প্রিয়ার আসল চেহারা বের হয়ে আসে। পুলিশের ভয়ে স্বীকার করে যে সে নাকি খুন করেছে, ওর মা বাবা ও সাথে ছিল,

আজকে খবর পেলাম, আমার ছেলের খুনিদের কে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। ছেলেকে হারিয়ে আমি খুব অসহায়! আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। আপনারা দয়া করে আমার পাশে দাড়ান,

ছাত্রীর ‘অন্তরঙ্গ’ ছবি হবু স্বামীর ফেসবুক ইনবক্সে! এরপর…

পাত্রী পছন্দ হল পাত্রের। তাই দুপক্ষের সিদ্ধান্তে বিয়ের সব আয়োজন প্রায় সম্পন্ন। দুই পরিবারে চলছিল বিয়ের জোর প্রস্তুতি। এরই মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া কনের ‘অন্তরঙ্গ’ ছবি পৌঁছে গেল হবু স্বামীর ফেসবুক ইনবক্সে।

এক পর্যায়ে এসব স্পর্শকাতর ছবির কারণেই ভেঙে গেল বিয়ের আয়োজন। উভয় পরিবারের কাছেই অসম্মানের হয়ে গেলেন ওই মেয়ে।

এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাত ফেরদৌস (ছদ্মনাম)। এখন তিনি আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যান না। কঠিন সময় পার করছেন বাসায় বসে।

অথচ কয়েকদিন আগেও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কয়েকটি ছবির কারণে বিয়ে তো ভাঙলই, সেই সঙ্গে গেল ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মানসম্মানও।

জান্নাত ফেরদৌস চট্টগ্রামের একজন স্বনামধন্য চিকিৎসকের শ্যালিকা। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে আদিল মাহমুদের (ছদ্মনাম) সঙ্গে। সহপাঠী আদিলের সঙ্গে প্রেম চলত মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

রাতে দুজনই মেসেঞ্জারে চ্যাটিং করতেন। কখনো কখনো চলত ভিডিও চ্যাটিং। সমস্যা বাঁধে সেখানেই। খোলামেলা চ্যাটিংয়ের কিছু দৃশ্য ধারণ করে রাখেন প্রেমিক ও সহপাঠী আদিল মাহমুদ। এছাড়া দুজনের শারীরিক সম্পর্কের একাধিক ছবি ছিল আদিলের মোবাইল ফোনে। ওই ছবিই কাল হয়ে দাঁড়ায় জান্নাত ফেরদৌসের জীবনে।

জান্নাতের বিয়ে ভেঙে যাওয়া এবং ছবির বিষয়ে অনুসন্ধান করে নগরের স্বনামধন্য ওই চিকিৎসক জানতে পারেন তার শ্যালিকার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী আদিল মাহমুদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুজন শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়েছিলেন।

তারা ঘনিষ্ঠ সময়ের ছবিগুলো ধারণ করে মোবাইল ফোনে রেখেছিলেন। এসব বিষয়ে জানার পর গোয়েন্দা কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ দেন চিকিৎসক দুলাভাই।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর নির্দেশে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আদিল মাহমুদকে ধরতে অভিযান শুরু করেন।

অভিযানের একপর্যায়ে সন্দ্বীপ থেকে আদিল মাহমুদকে ধরে গোয়েন্দা কার্যালয়ে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আদিল মাহমুদ তার প্রেমিকার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার তথ্য স্বীকার করেন।

আদিল গোয়েন্দাদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, জান্নাত ফেরদৌস তার সহপাঠী। তাদের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। এরই মধ্যে জান্নাত ফেরদৌসের পরিবার অন্যত্র বিয়ে ঠিক করে।

জান্নাতের সঙ্গে কথা বলে বিয়ে না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন আদিল। কিন্তু জান্নাত নিজের বিয়ে ঠেকিয়ে রাখতে পারেননি। এই কারণে বিয়ে ভেঙে দিতে আদিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আশ্রয় নেন।

আদিল মাহমুদ মনে করেন, নিজেদের অন্তরঙ্গ ছবি প্রকাশ করলে কেউ জান্নাতকে বিয়ে করবে না।

ঘটনার বিষয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (বন্দর) আসিফ মহিউদ্দীন জানান, জান্নাত ফেরদৌস ও আদিল মাহমুদের সম্পর্কের তোলা অন্তরঙ্গ ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং করেন আদিল। তিনিই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জান্নাত ফেরদৌসের ছবি ছড়িয়ে দিয়েছেন।

তিনি জানান, মেয়ের পরিবারের সদস্যরা সামাজিক মর্যাদার কথা বিবেচনা করে আদিলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করতে রাজি হননি। তাই আদিলকে ছেড়ে দিতে হয়েছে।

তবে ছাড়ার আগে আদিলের মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস থেকে অন্তরঙ্গ ছবিগুলো মুছে দেওয়া হয়েছে। যদি পুনরায় জান্নাতের সঙ্গে যোগাযোগ করে বা অন্য কোনো ভাবে ছবিগুলো ব্যবহার করে তবে তাকে গ্রেফতার করা হবে।

তার মতে, ছাত্রজীবনে অনেকে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং বিশেষ মুহূর্তের ছবি ধারণ করা চরম ভুল। এই ধরনের ভুলের মাসুল পরবর্তীতে সারাজীবন দিতে হয়। তাই প্রত্যেকের উচিত, সময় থাকতেই সচেতন হওয়া। কখনো কখনো প্রেমিকরাও বিক্ষুব্ধ হয়ে ঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে।