মা তোমার ছোট ছেলেকে মেরে ফেললাম’

0
78

সকাল হতে অনেক দেরি। পাশের ঘরে ছোট ছেলে বসে পড়ছে, আর বড় ছেলে ঘুমাতে চলে গেছে। এ দৃশ্য দেখেই শুতে গিয়েছিলেন মা। আচমকাই দরজায় সজোরে ধাক্কা। ধড়পড়িয়ে ঘুম থেকে উঠে পড়েন মা। দরজা খুলতেই বড় ছেলে ঘরে ঢুকে পড়েন। গম্ভীর কন্ঠে বলেন, মা তোমার ছোট ছেলেকে মেরে দিলাম।

আধঘুম চোখে কিছুই বুঝতে পারেননি মা। আকস্মিকতার ঘোর কাটিয়ে ওঠার আগেই বড় ছেলে হুড়মুড় করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। বিপদ আঁচ করে ছোট ছেলের ঘরে ঢুকে শরীর দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বেয়ে যায় তার। খাটের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছে ছোট ছেলে। নাক, কান, মুখ দিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে। বিছানার ওপর পড়ে রয়েছে ছোপ ছোপ তাজা রক্ত।

ওই মায়ের চিৎকারেই প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন ওই যুবককে। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ভারতের বনগাঁর পুরাতন কালীতলা এলাকায়।

কালীতলার বাসিন্দা ইতু বাগচির দুই ছেলে। ছোট ছেলে তারণ, বড় ছেলে বেঞ্জামিন। তারণ বনগাঁ দীনবন্ধু মহাবিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র। বেঞ্জামিন পড়াশোনার পাট চুকিয়েছেন আগেই। ইতুদেবীর স্বামী অন্য রাজ্যে কর্মরত। সেখানেই বাবার সঙ্গে বেশ কিছুদিন কাজ করেছিলেন বেঞ্জামিন।

বাবার সঙ্গে থাকাকালীন হেরোইনের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে বেঞ্জামিন। পরে বাড়িতে নিয়ে আসা হয় তাকে। বেশ কিছুদিন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাও চলে তার। কিন্তু লাভ হয়নি। সম্প্রতি আরও বেশি বেসামাল জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে বেঞ্জামিন।

ছোট ছেলে তারণের ইচ্ছা ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার। সামনেই পরীক্ষা ছিল তার। সেজন্য রাত জেগে পড়াশোনাও করত। সোমবার রাতে দুই ভাই একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে। এরপর বেঞ্জামিন শুতে চলে যান বলে ইতুর দাবি। তারণ নিজের ঘরে পড়াশোনা করছিল। তারপর মাঝরাতেই মায়ের ঘরের দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন বেঞ্জামিন।

ইতুর অভিযোগ, বেঞ্জামিনই তারণকে খুন করেছে। বিছানার পাশে পুরনো টেবিলের ভাঙা পা পড়তে থাকতে দেখেছিলেন তিনি। ওই কাঠের টুকরো দিয়েই তারণের মাথায় করে বেঞ্জামিন। কিন্তু কী কারণে খুন, সেটা স্পষ্ট নয় ইতুর কাছেও। নেশার টাকা না পেয়ে কয়েকবছর আগে মায়ের পেটে ধারালো অস্ত্র বেঞ্জামিন ঢুকিয়ে দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। জিনিউজ।