জেনে নিন পানি কখন পান করলে বেশি উপকার পাবেন

0
106

পানি কখন পান করলে- নির্দিষ্ট কিছু সময়ে পানি পান করলে সর্বোচ্চ উপকারিতা পাওয়া যায়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরপর এক থেকে দুই গ্লাস পানি পান করে নিন। এটি শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে উদ্দীপ্ত করবে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করতে সাহায্য করবে।

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস পানি পান করে নিন। এতে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমবে। গোসলের আগে পানি পান করুন। এটি রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে। খাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে পানি পান করুন। এটা কেবল হজম ভালো করতে সাহায্য করবে না, খিদেও কমাবে।

এতে খাওয়ার সময় কম খাওয়া হবে। তাই ওজন কমাতে খাওয়ার আগে পানি পান করুন। খাওয়ার আধা ঘণ্টা পরে পানি পান করুন। এটি খাবার ভালোমতো শোষণে সাহায্য করবে। এক গ্লাস পানি ব্যায়ামের আগে পান করে নিন। এটি শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করবে।

এ ছাড়া ব্যায়াম করার পরও পানি পান করুন। এটি ব্যায়ামের কারণে হওয়া পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করবে। সাধারণ দিনের চেয়ে যখন অসুস্থ থাকবেন, তখন বেশি বেশি পানি পান করুন। এটি শরীরকে আর্দ্র রাখবে এবং যে কোনো ধরনের পানিশূন্যতা কমাবে। এটি ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসকে প্রতিরোধেও সাহায্য করবে।

ক্ষুধা পেলে যে ৪ খাবার ভুলেও খাবেন না

প্রচণ্ড ক্ষুধা পেলে ঘরে যা থাকে তাই খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করি। কেননা ক্ষুধা পেলে খাবার না খাওয়া পর্যন্ত কিছুই ভালো থাকে না। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খাবার খেয়ে ক্ষুধা মেটানো হয়।

কিন্তু এ সময় সব ধরনের খাবার খাওয়া উচিত নয়, কারণ কিছু খাবার আছে যেগুলো খিদের সময়ে খেলে যেমন পেটের ক্ষিদে মিটবে না তেমনি শরীরের অনেক বড় ক্ষতি হতে পারে।

তাহলে জেনে নিন, ক্ষুধার সময় যে ৪ ধরণের খাবার খাওয়া উচিত নয়-

১) ফল : খালি পেটে ফল খেতে নেই- এই কথাটা আমরা আমাদের ছেলেবেলা থেকেই জানি। একটি আপেল বা একটি কলা খেয়ে কখনই পেটের ক্ষুধা মিটে না। বরং আপনার খিদে খিদে ভাব আরও বেড়ে যাবে।

যদি ফল খেয়েই থাকেন তাহলে এর সঙ্গে আপনার খাওয়া উচিত কোনও প্রোটিন ধরণের খাবার। ফলের সঙ্গে খেতে পারেন সামান্য পরিমাণ বাদাম, পিনাট বাটার বা পনির।

২) ঝাল খাবার : কোন কাজের জন্য দুপুরের খাবার সারতে দেরি হয়েছে। এ সময় প্রচণ্ড ক্ষিদে পেয়েছে, তাই হাতের কাছে পাওয়া ঝাল ঝাল কোনও মুখরোচক খাবার খেয়ে বসলেন।

এতে আপনার হজমের সমস্যা তৈরি হবে। খালি পেটে ঝাল খাবার খেলে এই মশলা আপনার পাকস্থলীর আবরণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। তাই ঝাল ঝাল খাবার খাওয়ার আগে দুধ বা দই খেতে পারেন। এতে সরাসরি ঝালের প্রভাব পাকস্থলীর ওপর পড়বে না।

৩) কমলালেবু বা কফি : এই সব খাবার খালি পেটে খেলে অ্যাসিডিটি তৈরি করে। এতে পেট খারাপ হবার সম্ভাবনা তৈরি হয়। বিশেষ করে যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য খালি পেটে কফি পান করাটা অত্যন্ত ক্ষতিকর।

সবজি পেটের জন্য এতোটা ক্ষতিকর না। তাই সবজির সালাদ খেতে পারেন। সেদ্ধ ডাল বা মুরগীর মাংসও (কম মশলাদার হলে চলবে) এ সময়ে খাওয়া যেতে পারে।

৪) বিস্কুট বা চিপস : এমনটা হতে পারে যে আপনি আর দুই ঘন্টা পর দুপুরের খাবার খাবেন। তাই এখন ভারী কিছু খেতে চাচ্ছেন না। কিন্তু তা বলে বিস্কুট বা চিপস একেবারেই নয়! ছোট এক প্যাকেট বিস্কুট বা চিপস বেশিক্ষণ পেটে থাকবে না।

এগুলিতে থাকা কার্বোহাইড্রেট কিছুক্ষণের মধ্যেই হজম হয়ে যাবে। ফলে আপনার খিদে খিদে ভাব দ্রুত ফিরে আসবে। সে ক্ষেত্রে খেতে পারেন ২৫০-৩০০ ক্যালোরির কোনও খাবার। যেমন, একটা স্যান্ডউইচ বা একটা কেক।

মানুষের শরীরে পানি জমে কেন জানেন? সবার জেনে রাখা উচিত

মুখ ফোলা। পা ফোলা। আঙুল দিয়ে চাপ দিলে ত্বক দেবে যায়। সাধারণ ধারণা হলো, শরীরে পানি জমা মানেই কিডনি খারাপ। কিন্তু আসলে নানা কারণেই শরীরে পানি জমতে পারে। যাঁদের হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসে সমস্যা আছে, তাঁদেরও এমন হতে পারে।

ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ; যেমন: ক্রনিক ব্রংকাইটিস, ব্রংকিয়েকটেসিস, যক্ষ্মার নানা জটিলতা থেকে হৃদ্যন্ত্র আক্রান্ত হলে এই পরিস্থিতিকে বলে কোর পালমোনালি। এতে শ্বাসকষ্ট-জাতীয় সমস্যার সঙ্গে মুখ ও পা, কখনো সারা শরীর ফুলে যায়।

এমনিতে হৃদ্যন্ত্রের কার্যকারিতা কমে গেলেও (কার্ডিয়াক ফেইলিওর) শরীরে পানি আসতে পারে। সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্যন্ত্রের ভাল্বের ত্রুটি, ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ জটিল হয়ে পড়লে এ সমস্যা দেখা দেয়।

এসব রোগীর বুক ধড়ফড়, বুকে ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ থাকতে পারে। এ ধরনের রোগে শরীরে পানি জমার কারণ খুঁজতে বুকের এক্স-রে, ইসিজি বা ইকোকার্ডিয়ামের প্রয়োজন।

ফুসফুস বা হার্টের সমস্যা ছাড়াও যকৃতের অকার্যকারিতায় অন্ত্রের যক্ষ্মা, পেটের ভেতর কোনো টিউমার বা ক্যানসার ছড়িয়ে পড়লেও শরীরে পানি আসে।

কিডনির সমস্যা, থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা, রক্তে আমিষের অভাব ইত্যাদি রোগেও পানি জমা বিচিত্র নয়। অনেক সময় কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়ও শরীরে পানি জমতে পারে। শরীরে পানি জমলে তাই কারণ অনুসন্ধান করার মধ্য দিয়ে চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

একেবারে শুরুতে কোথায় পানি জমেছিল তা মনে করার চেষ্টা করুন ও চিকিৎসককে জানান। কিডনির সমস্যায় প্রথমে মুখ ফোলে, আবার যকৃতের সমস্যায় প্রথম পানি জমে পেটে। হার্টের রোগীদের প্রথম দিকে কেবল পা দুটো ফুলে যায়।

প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, প্রস্রাবের রং পরিবর্তন হলে কিডনি রোগ কি না ভাবতে হবে। আবার শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় হার্ট বা ফুসফুসের সমস্যাকে নির্দেশনা করে। জ্বর, খাদ্যে অরুচি, বমি ভাব, বমি বা মলের সঙ্গে রক্তপাত ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিলে যকৃৎ বা অন্ত্রের কোনো জটিল রোগ হয়েছে কি না খুঁজতে হবে।

পানি জমার আগে কী কী ওষুধ খেয়েছিলেন (ব্যথানাশক, অ্যামলোডিপিন-জাতীয় রক্তচাপের ওষুধ, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ইত্যাদি) তা মনে করে দেখুন।

অনেকে শরীরে পানি জমলে ওষুধের দোকান থেকে ল্যাসিক্স-জাতীয় পানি কমার ওষুধ কিনে খান। এতে পানি চলে যায় বটে, কিন্তু কারণ জানা হয় না। ফলে পরে রোগ জটিল হয়ে ওঠে। আর না জেনে এ ধরনের ওষুধ খাবার নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও আছে।

-ডা. মো. আজিজুর রহমান, বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ।