কোষ্ঠকাঠিন্যসহ ১০ রোগ থেকে বাঁচার ঘরোয়া পদ্ধতি

0
62

আজকাল কোনো এক অজানা কারণে অনেকেই প্রকৃতিক উপাদানের উপর ভরসা রাখতে পারেন না। পরিবর্তে অনেক টাকা খরচ করে অ্যালোপেথিক ওষুধ খেয়ে শরীরকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করেন। তাতে রোগ সারে ঠিকই, কিন্তু ওষুদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে নানা সব সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।

কোনো কোনো সময় তো শরীরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু দেখুন অয়ুর্বেদিক ওষুধের কোনো সাইড এফেক্টই নেই। তবু লোকে খেতে চায় না। একটি ঘরোয়া দাওয়াই কোষ্ঠকাঠিন্যসহ ১০ রোগ থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে পারে। সেই সঙ্গে শরীরকে চাঙ্গা রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

কী এই মহৌষধি? তেমন কিছুই নয়, ৩ চামচ আমলকির রসের সঙ্গে ১ চামচ মেথি পাউডার মিশিয়ে বানিয়ে ফেলতে হবে ওষুধটি। আর রোজ সকালে খালি পেটে শুরু করতে হবে খাওয়া। তাহলেই দেখবেন একাধিক রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না।

যে ১০ রোগ থেকে মুক্তি মিলবে

১. কোষ্ঠকাঠিন্য: এই রোগের যন্ত্রণা শুধু তিনিই বুঝেন যার একবার হযেছে। তাই নির্দ্বিধায় খেতে পারেন এই উপাদান। কারণ আমলিক এবং মেথি বীজের অন্দরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান, বিশেষত ফাইবার, শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে একদিকে যেমন কনস্টিপেশনের মতো সমস্যা কমে যায়, তেমনি যে কোনো ধরনের পেটের রোগের প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না।

২.খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমবে: বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে নিয়মিত এই আয়ুর্বেদিক ওষুধটি খেয়ে গেলে রক্তে উপস্থিত এল ডি এল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে। তাই যারা বেজায় অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করেন, সঙ্গে চলতে থাকে ফাস্ট ফুড খাওয়া, তাদের সুস্থভাবে বাঁচতে এই মহৌষধিটি পান করা মাস্ট!

৩. ডায়াবেটিসের মতো রোগ দূরে থাকবে: এই পানীয়টিতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন-সি, যা রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে দারুনভাবে কাজে আসে। তাই তো ডায়াবেটিস রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন এই পানীয়টি খেতেই পারেন।

৪. আলসার: এক্ষেত্রেও ভিটামিন-সি দারুনভাবে কাজে আসে। আসলে নির্দিষ্ট এই ভিটামিনটি মুখ গহ্বরে প্রদাহ কমানোর মাধ্যমে আলসারের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫. ওজন নিয়ন্ত্রণ: আমলা এবং মেথি সহযোগে বানানো এই পানীয়টি খেলে শরীরের প্রোটিন শোষণ করার ক্ষমতা ব্যাপক মাত্রায় বেড়ে যায়। ফলে মেটাবলিক রেট বাড়তে শুরু করে। যেমনটা আপনাদের সকলেরই জানা আছে যে মেটাবলিক রেট যত বাড়ে, তত শরীরে মেদ জমার হার কমে যায়।

৬. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন নাকি? তাহলে প্রতিদিন এই পানীয়টি খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন দারুন উপকার পাবেন। আসলে মেথি বীজ শরীরে প্রবেশ করার পর দেহের অন্দরে পটাশিয়ামের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে সময় লাগে না। এবার বুঝেছেন নিশ্চয় বন্ধু, যাদের পরিবারে এই মারণ রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের নিয়মিত মেথি বীজ এবং আমলকি খাওয়া উচিত কেন!

৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি: ভিটামিন-সি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটাতে দারুনভাবে সাহায্য করে। আর এই পানয়ীটিতে যেহেতু প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন-সি রয়েছে, তাই এটি খেলে নানাবিধ রোগের সঙ্গে শরীরের লড়াই করার ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। ফলে অনেক রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

৮. গলব্লাডার স্টোন হওয়ার ঝুঁকি কমবে: আমলা এবং মেথি দিয়ে বানানো এই জুসটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে, যা গলব্লাডার এবং লিভারে কোলেস্টেরল জমতে দেয় না। ফলে স্টোন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে থাকে না বললেই চলে।

৯. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে: ভিটামিন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে এই পানীয়টি নিয়মিত খেলে হার্টের পেশির ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে নানাবিধ হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।

১০. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে: এই পানীয়টিতে উপস্থিত নানাবিধ পুষ্টিকর উপাদান অপটিক নার্ভের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ফলে দৃষ্টিশক্তি ভাল হতে শুরু করে।-সূত্র: বোল্ডস্কাই।