ইলিশের স্বাদ এবার ‘দুধ মাছে’! রুই-কাতলার থেকেও দামে সস্তা

0
42

বাঙালির ইলিশ বিলাসিতায় অনেক সময়ই বাধা হয়ে দাঁড়ায় চড়া দাম। ইলিশের জোগানও অপ্রতুল। নতুন এই মাছ সেই সমস্যা মেটাতে পারে।

এবার ১২০০ কিংবা ৮০০ টাকার ইলিশ নয়। মাত্র দেড়শো টাকা কেজির মাছেই ইলিশের স্বাদ-গন্ধ পেতে পারেন ভোজনরসিক বাঙালি। যা দেখতে এবং স্বাদে একেবারে ইলিশের মতো। আদতে ফিলিপিন্সের এই মাছের নাম মিল্ক ফিশ। স্থানীয় ভাবে যাকে ‘দুধ মাছ’ নামে ডাকছেন মৎস্যজীবীরা।

রাজ্যে এই প্রথম এবার পরীক্ষামূলক ভাবে মিল্ক ফিশ চাষ শুরু হল পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায়। মৎস্য দফতরের উদ্যোগে মাছ চাষিদের মাধ্যমে রাজ্যে প্রথম এই মাছের চাষ শুরু করল হলদিয়া ব্লক মৎস্য দফতর।

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে এবারে পুজোতেই বাজারে চলে আসতে পারে এই মাছ। স্বাদে-গন্ধে এবং রূপে অবিকল ইলিশের মতোই মিল্ক ফিশ। কয়েক শতাব্দী আগে ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়াতে বাণিজ্যিক ভাবে এই মাছের চাষ শুরু হয়েছিল। দক্ষিণ ভারতের সমুদ্র উপকূলে এই মাছ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন মৎস্য দফতরের কর্তারা। মিল্ক ফিশের বিজ্ঞানসম্মত নাম চ্যানস চ্যানস।

মিল্ক ফিশের এই চারা দেওয়া হচ্ছে চাষিদের।

হলদিয়া ব্লকের মৎস্য সম্প্রসারণ আধিকারিক সুমনকুমার সাউ জানান, ‘‘এই মিল্ক ফিশকে ইলিশের মাসতুতো ভাই বলা চলে। এরা সমুদ্রের নোনা জলেই থাকে। কিন্তু ইলিশের মতোই ডিম পাড়ার সময়ে নদীর মিষ্টি জলে আসে। এই মাছের পোনা বিমানে চেন্নাই থেকে আসে কলকাতায়। সেখান থেকে সড়কপথে হলদিয়ায় আনা হয়েছে। হলদিয়া ব্লকের চারজন মৎস্যচাষির হাতে এই মাছ তুলে দেওয়া হয়েছে।’’

এই ধরনের মাছ চাষ করার সুযোগ পেয়ে খুশি হলদিয়ার বাঁশখানার বাসিন্দা রণজিৎ ভৌমিক। তাঁর কথায়, ‘‘মাছের জন্য বিশেষ খাঁচা তৈরি করে ২ হাজার চারা ছাড়া হয়েছে। আদতে এই মাছকে দক্ষিণের ইলিশ বলা হয়। দামেও কম হবে। ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যেই ইলিশের স্বাদ পাবে বাঙালি।’’