বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বাতাস খেলেন হাতপাখার শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

0
64

বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে – সারাদেশে প্রতিনিয়ত কোন না কোন ভিন্ন রকম ঘটনা ঘটে। তেমনি আজ রাজবাড়ীতে ঘটলো একটি ঘটনা । জানা গেছেপ্রায় ৪৮ ঘণ্টা টানা বিদ্যুৎ বিপর্যায়ের কারণ জানতে আজ রবিবার দুপুরে রাজবাড়ীর ওজোপাডিকো’র বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র পরিদর্শনে যান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী।

তবে সেখানে গিয়েও তাকে বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়েছে প্রায় দশ মিনিট। সে সময়ও গরম থেকে বাঁচতে হাতপাখা ব্যবহার করতে হয়েছে তাকে। রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলীও একই পরিস্থিতির শিকার হন।

জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে রাজবাড়ী জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড় ও বৃষ্টিতে বিদ্যুৎব্যবস্থার বিপর্যয় ঘটেছে। ফলে টানা প্রায় দুই দিন নেই বিদ্যুৎ, সেই সাথে রয়েছে তীব্র গরম। যে কারণে ঈদ আনন্দে নেমে এসেছে বিষাদ। বেড়াতে আসা নারী, শিশুসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই হয়ে যাচ্ছেন অসুস্থ। কেউ কেউ এই ভোগান্তি থেকে বাঁচতে ছুটি শেষ হবার আগেই ফিরে যাচ্ছেন। কবে নাগাদ এই অসহনীয় অবস্থা দূর হবে, তা সঠিকভাবে বলতে পারছেন না খোদ বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা।

এদিকে, বিদ্যুতের এই বিপর্যয় থেকে মুক্তি পেতে রবিবার দুপুরে রাজবাড়ীর ওজোপাডিকো’র বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে ছুটে যান এমপি আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী। তিনি বিদ্যুতের এই নাকাল অবস্থা সম্পর্কে ওজোপাডিকো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুর রহমানের অফিস রুমে যান। এর অল্প কয়েক মিনিট পর সেখানে আসেন জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী। তারা ওই সময় ওজোপাডিকো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুর রহমানের কাছে জানতে চান এই বিপর্যায়ের কারণ।

জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ঝড়ের কারণে ফরিদপুরের বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে থাকা ব্রেকার আগুনে পুড়ে গেছে। আরেকটি ব্রেকার দিয়ে কোনরকমে সচল করা হয়েছে সংযোগ লাইন। তবে সেধেছে সংযোগ লাইনগুলো। ঝড় ও বজ্রপাতের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রবেশের কারণে বিভিন্ন স্থানে ওই লাইনগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। স্বল্প সংখ্যক জনবল দিয়ে দিন-রাত তারা চেষ্টা করছেন লাইন চালু করার। ইতিমধ্যে জেলা শহরের কিছু লাইন চালু করা হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাইনগুলো সচল করতে আরো কিছু সময় লাগবে।

জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী বলেন, হাজারো মানুষ তাকে ফোন করছেন এই অসহনীয় অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য। তিনি মোবাইল ফোনে ওজোপাডিকো’র নির্বাহী প্রকৌশলীকে না পেয়ে কার্যালয়ে ছুটে এসেছেন। ইতিমধ্যে লো-ভোল্টেজের কারণে তার বাসার একটি পাম্প পুড়ে গেছে। সেই সাথে অসহ্য গরমে তিনিও ভুগছেন। এ অবস্থার কারণ এবং কত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে তা জানতেই তিনি এখানে এসেছেন। তিনি এসে দেখেন এ কার্যালয়ে একই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এসেছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

এ ব্যপারে এমপি জানান, গত শনিবার প্রায় সারা রাত তিনি হাতপাখা দিয়ে কোনরকমে টিকে ছিলেন। রবিবার ভোরে কিছু সময়ে জন্য বিদ্যুৎ আসলেও তা চলে যায়। তা ছাড়া সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অনেকেই ফোন করে বলেছেন, তাদের ফ্রিজের খাবার, পানির ট্যাঙ্কি থাকা পানিও শেষ হয়ে গেছে। ফলে হাহাকার এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে তিনি এ কার্যালয়ে এসেছেন। তিনি এ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীর পাশাপাশি ফরিদপুর ও ঢাকার উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের সাথেও কথা বলেছেন। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি সন্তোষজনক অবস্থায় নিয়ে আসবেন বলে জানিয়েছে।