বিশ্বকাপে বলিউডের তারকাদের কার পছন্দের দল কোনটি ?

0
33

বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে মাতামাতি চলছে পুরো বিশ্বে। ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বিভিন্ন দেশের পক্ষ নিয়ে ফুটবল সমর্থকরা পতাকা ওড়াচ্ছেন নিজেদের বাড়ি কিংবা অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। এদিকে, সাধারণ মানুষের মতো ফুটবল-জ্বরে আক্রান্ত বলিউডের তারকারাও। শুধু বলিউড নয়, হলিউড তারকারাও আক্রান্ত একই জ্বরে। এমনকি খেলা দেখার জন্য নিজেদের ব্যস্ত শিডিউল থেকেও সময় বের করে নিয়েছেন বলিউড-হলিউডের এই তারকারা।

চলুন দেখে নেওয়া যাক বলিউড-হলিউড তারকারা কে কোন দলের সমর্থক।
অমিতাভ বচ্চন
অন্যদের মতো বলিউডের মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চনও ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। ৭৫ বছর বয়সী এই অভিনেতার পছন্দের দল ব্রাজিল। তবে পছন্দের খেলোয়ার লিওনেল মেসি।

শাহরুখ খান

নিজের ব্যস্ত শিডিউল থেকে সময় বের করে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে পছন্দ করেন শাহরুখ খান। বলিউডের কিংয়ের প্রিয় দলগুলোর তালিকায় রয়েছে ব্রাজিল, স্পেন এবং জার্মানি।

জন আব্রাহাম
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জন আব্রাহাম। ব্যক্তিগতভাবে ফুটবল খেলা বেশ পছন্দ করেন তিনি। একবার এক সাক্ষাৎকারে জন বলেছিলেন, তিনি একজন পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় হতে পারতেন যদি না তাকে এমবিএ করার চাপ প্রয়োগ করা হতো। বলিউডের এই অভিনেতার পছন্দের খেলোয়াড় আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, অ্যাগুয়েরো, গনজালো হিগুয়াইন। কিন্তু তিনি ব্রাজিলের সমর্থক।

আদিত্য রয় কাপুর
‘আশিকি টু’তে অভিনয় করে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন আদিত্য রয় কাপুর। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই রূপালি পর্দার আড়ালে রয়েছেন আদিত্য। বলিউডের এই অভিনেতা পছন্দের দল জার্মানি। তবে ব্রাজিলের খেলার ধরন তার সবচেয়ে বেশি প্রিয়।

সিদ্ধার্থ মালহোত্রা
ব্রাজিল দল নিয়ে সবসময় বেশ আশাবাদী থাকেন সিদ্ধার্থ মালহোত্রা। মন থেকে এই দলকেই সমর্থন করেন বলিউডের এই অভিনেতা। ব্রাজিলের পাশাপাশি জার্মানি ও স্পেনও রয়েছে ‘এক ভিলেন’খ্যাত এই তারকার পছন্দের তালিকায়।

টাইগার শ্রফ

টাইগার শ্রফের পছন্দের দল আর্জেন্টিনা। শুধুমাত্র লিওনেল মেসি জন্যই নাকি তিনি এই দলটির সমর্থন করেন। টাইগারের মতে, লিওনেল মেসি ফুটবল খেলার ‘ঈশ্বর’। তবে বলিউডের এই অভিনেতার পছন্দের দল ব্রাজিল।

আরো পড়ুনঃ এতো দুঃখ কই রাখবেন লানজিনি! বিস্তারিত পড়ুন

‘তীরে এসে তরী ডুবল!’
প্রবাদটা এখন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লানজিনির সঙ্গে খুব যায়। বিশ্বকাপের একদম আগ মুহূর্তে অনুশীলনে ডান হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ায় রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। এভাবে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হওয়াটা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে তাঁর। কিন্তু এমন অবস্থাতেও দলের জন্য শুভকামনায় কোনো ঘাটতি নেই ওয়েস্টহাম মিডফিল্ডারের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামের বার্তায় তাঁর বদলে সুযোগ পাওয়া এনজো পেরেজকেও শুভকামনা জানিয়েছেন।

ইনস্টাগ্রামের পোস্টে লানজিনি লিখেছেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বিশ্বকাপে খেলার খুব স্বপ্ন ছিল। স্বপ্নের এত কাছে এসেও তা হাতছাড়া হয়ে যাওয়া আমার জন্য অনেক দুঃখজনক। আমাকে সমর্থন করার জন্য পরিবার, সহকর্মী এবং সকল ভক্তদের ধন্যবাদ জানাতে চাই’। তবে এত হতাশার মাঝেও রাশিয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলকে শুভকামনা জানাতে ভুল করেন, ‘আশা করছি আমার সহকর্মীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে।’

লানজিনির শূন্যতা পূরণে দলে জায়গা পেয়েছেন এনজো পেরেজ। গতবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা আর্জেন্টিনা দলেও ছিলেন পেরেজ। তাই অভিজ্ঞতার দিক থেকে লানজিনির চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে এই মিডফিল্ডার। পেরেজকে নিয়ে লানজিনিরও একই ধারণা। পেরেজের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তার জন্য শুভ কামনা রইল। তিনি একজন অসাধারণ খেলোয়াড়। এটা লজ্জাজনক তাকে ২৩ সদস্যের স্কোয়াডের বাইরে রাখা হয়েছিল। আশা করছি তার জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। তার যে অভিজ্ঞতা তা প্রয়োগ করার জন্য তাকে দলের হয়ে খেলতে হবে।’ শুভকামনা জানালেও মনে মনে যে পুড়ে যাচ্ছেন লানজিনি তা আর বলার প্রয়োজন নেই। ডান হাঁটুর ব্যথা যে এখন বুকের মাঝেও ছড়িয়ে পরেছে তাঁর। যে বিশ্বকাপে মাঠ চষে বেড়াবার কথা সেই বিশ্বকাপটিই তাঁকে দেখতে হবে টিভি পর্দায়। এত কষ্ট কোথায় রাখবেন লানজিনি!

আরো পড়ুনঃ মারামারি নয়, সাব্বির বলছেন ভুল বোঝাবুঝি

আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি চলার সময় ড্রেসিংরুমে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছিলেন সাব্বির রহমান। উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় গড়ায় মারামারি পর্যন্ত। সাব্বির-মিরাজের ঝগড়ার বিষয়টি ধরা পড়ে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে দেরাদুনে যাওয়া বোর্ডের এক কমর্কর্তার চোখে। শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ শেষ ম্যাচে দল থেকে বাদ পড়েন সাব্বির। জুনিয়র সতীর্থের সাথে গণ্ডগোলের এমন খবরে দিনভর উত্তাল ছিল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো। চলেছে নিন্দা ও সমালোনার ঝড়। ঘটনার একদন পর মিরাজকে সাথে নিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন সাব্বির। জানালেন, মারামারি নয়, পুরো বিষয়টা ছিল ভুল বোঝাবুঝি। হাস্যোজ্জ্বল মিরাজ এসময় সাব্বিরের পাশেই ছিলেন।

নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে এ প্রসঙ্গে সাব্বির বলেন, ‘আজকে যার সাথে আমি লাইভে এসেছি, স্টার বয় মেহেদী হাসান মিরাজ। ছোটভাই আমার। আসলে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে আমাদের মধ্যে। আপনারা হয়তো শুনেছেন, দেরাদুনে আমাদের মধ্যে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। অনেক সময় এরকম হয়, পরিবারে ছোটোখাটো গণ্ডগোল বা ভুল বোঝাবুঝি হয়। এটা পরিবারের মধ্যেই শেষ হওয়া ভালো।’ সাব্বির আরও বলেন, ‘আসলে বড় হয়ে যে কাজটা ওর সাথে হয়েছে সেটা উচিত হয় নাই। সবসময়ই চেষ্টা করি, ছোট ভাইদের ভালোবাসার, স্নেহ করার। একজন ছোটভাই হিসেবে ওর সাথে আমার অনেক ভালো সম্পর্ক। ওর বাসায় এসেছি, ডিনারে ইনভাইট করেছে, ডিনার করতে এসেছি। আর যেটা হয়েছে সেটা হিট দ্য মোমেন্ট। কিছু বলার নেই।’

চুপ থাকেননি মিরাজও। তিনি বলেন, ‘আসলে অনেকের অনেক নেগেটিভ ধারণা। অনেক মানুষ অনেক মন্তব্য করছে। আসলে তেমন কিছুই না। আমার কাছে মনে হয়, অনেক সময় একসাথে থাকলে অনেক বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এটা এরকমই। অনেকে অনেকরকম মন্তব্য করেছে। অনেকে বলেছে, আমার সাথে সাব্বির ভাইয়ের মারামারি হইছে। তেমন কিছুই না। সাব্বির ভাই আমাকে অনেক আদর করে, অনেক ভালোবাসে। অনেক আগে থেকেই।’

এসময় মিরাজকে থামিয়ে সাব্বির বলেন, ‘ওর সাথে আমার ৮/৯ বছরের পরিচয়। যখন ও অনূর্ধ্ব- ১৩ দলে খেলে তখন ওর সাথে আমার পরিচয় হইছে। এটা লম্বা সময়ের বন্ধুত্ব। এটা ছোটভাই বড়ভাই বন্ধুত্ব। এটা অনেক বড় বন্ধুত্ব। এর চেয়ে বড় কিছু নাই। অনেক সময় যেটা নেগেটিভলি আসে, আমার ওর সাথে মারামারি বা হাতাহাতি হইছে। তেমন কিছুই হয় নাই। আমরা একটা ভুল বোঝাবুঝির মধ্যে ছিলাম। মারামারি হইলে তো আমি ওর সাথে থাকতে পারতাম না। ও আমাকে দাওয়াত দিত না। পরিবারের মধ্যে অনেক সময় ছোটভাই, বড়ভাই গণ্ডগোল হয়। এটা আবার ঠিকও হয়ে যায়। আমরাও ওই মুহূর্তে ঠিক হয়ে গেছি। যেটা ভাইরাল হয়েছে, আমরা মারামারি করেছি এটা ভুল। মারামারি করলে তো আর দুইজন একসাথে থাকতে পারতাম না। যেটা হয়েছে হয়ে গেছে।’

আরো পড়ুনঃ সবচেয়ে বেশি ক্লান্ত মেসি! কিন্তু কেন?

৯ মাসের দীর্ঘ ক্লাব মৌসুম শেষে বিশ্বকাপ। এ বিশ্বকাপের সেরা তারকাদের মধ্যে কে সবচেয়ে বেশি ক্লাবের হয়ে ঘাম ঝরিয়ে আসছেন বিশ্বকাপ খেলতে? এক মাসের একটা বিশ্বকাপ। ফাইনাল পর্যন্ত গেলে সাতটি মাত্র ম্যাচ। তাতে আবার ক্লান্তি-সতেজতার কী? আছে তো! বিশ্বকাপে যে খেলোয়াড়েরা আসছেন ৯ মাস লম্বা একটা ক্লাব মৌসুমের শেষে! তা বড় তারকাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্লান্তি নিয়ে বিশ্বকাপে আসছেন কে? ইএসপিএনের এই তালিকা বলছে, লিওনেল মেসি!
গত বছরের ব্যালন ডি’অরে মনোনীত সেরা ১০ জনকে নিয়ে তালিকাটা করেছে ইএসপিএন। জিয়ানলুইজি বুফনের ইতালি তো ৫৮ বছর পর বিশ্বকাপেই নেই, তাই তাঁকে আর হিসাবে আনা হচ্ছে না। আর নেইমারের এই তালিকায় ৯ নম্বরে জায়গা পাওয়ার কারণ চোট। ফেব্রুয়ারির পর আর মাঠেই না নামতে পারলে তালিকায় তো পেছাবেনই!
মৌসুমের শুরুতে চোট একটু-আধটু ভুগিয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও। তবে ৩৩ বছর বয়সী পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড সম্ভবত এই প্রথম কোনো তালিকায় এত পিছিয়ে থাকলেও খুব বেশি রাগ করবেন না। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসির চেয়ে তাঁর ৭৩৭ মিনিট কম মাঠে থাকার নেপথ্যে তো তাঁর আর সে সময়ের রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জিনেদিন জিদানের বুঝেশুনে নেওয়া সিদ্ধান্তই!

আরো পড়ুনঃ দর্শকদের সবচেয়ে অপ্রিয় হিগুয়েন, অনেকে বাদ দিচ্ছেন মেসিকেও! কিন্তু কেন?

আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ খেলতে রাশিয়া পৌঁছেছে দুদিন হলো। ব্রানোৎসিতে চলছে তাদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ১৬ জুন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে কোন একাদশ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করবে আর্জেন্টিনা, তা হয়তো সাজিয়ে ফেলেছেন হোর্হে সাম্পাওলি। তবে দল নির্বাচনে তাঁকে কিছু সহায়তা করতে পারেন দেশের মানুষেরা। সাম্পাওলি চাইলে দেখে নিতে পারেন, ৩২ বছরের বিশ্বকাপ খরা কাটাতে দেশের মানুষ প্রথম একাদশে কাদের দেখতে চান।

আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় দৈনিক ওলে জরিপ চালিয়ে দেখেছে, কাদের নিয়ে ঘটন করা যায় তাদের স্বপ্নপূরণের বিশ্বকাপ একাদশ? সেখানে মন খুলে ভোট দিয়েছে আর্জেন্টাইনরা। স্বাভাবিকভাবে সেখানে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন লিওনেল মেসি। আর সমর্থকেরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন গঞ্জালো হিগুয়েইনের দিক থেকে। ভোটাভুটিতে একাদশে ঢোকার সুযোগ মেলেনি দলের মূল ফরোয়ার্ডের!

সাম্প্রতিক সময়ে আর্জেন্টিনা মেসি নির্ভর দল, কথাটি সবারই জানা। যাকে ঘিরেই প্রতিপক্ষদের দুমড়ে মুচড়ে দেওয়ার জন্য সাম্পাওলির সব নকশা আঁকা। অথচ আর্জেন্টিনার কিছু মানুষ কিন্তু চান না, মেসি একাদশে খেলুক। অন্তত জরিপের ফল কিন্তু তাই বলছে। জরিপে মেসির পক্ষে ভোট পড়েছে ৯৯.৪৬%। অর্থাৎ ০.৫৪ শতাংশ মানুষ চান না মেসি একাদশে থাকুক। ভাবা যায়!

মজা আছে আরও। সমর্থকেরা একাদশ সাজিয়েছেন মাত্র তিনজন ডিফেন্ডারদের নিয়ে। আবার গোলরক্ষক হিসেবে তারা দলে চাচ্ছেন রিভারপ্লেটের গোলরক্ষক আরমানিকে। তিনি ভোট পেয়েছেন ৬৮ শতাংশ। কিন্তু দর্শকেরা যাই বলুক সাম্পাওলির একাদশে আর্জেন্টিনার তিন কাঠি সামলানোর দায়িত্বে থাকার কথা চেলসি গোলরক্ষক উইলি ক্যাবায়েরোর। যার পক্ষে ভোট পড়েছে মাত্র ৩১ ভাগ। দর্শকদের একাদশে নেই মার্কো রোহোও। কিন্তু আইসল্যান্ডের বিপক্ষে এই ফুলব্যাকেরও দলে থাকা প্রায় নিশ্চিত।

দর্শকদের ভোটের বিচারে আর্জেন্টাইন একাদশঃ
কাভায়েরো, মেসি, ওতামেন্ডি, মারকাদো, তাগলিয়াফিকো, মাচেরানো, লো সেলসো, পাভোন, আগুয়েরো, ডি মারিয়া ও মেজা।

আরো পড়ুনঃ বিশ্বকাপের পর অবসরের ইঙ্গিত দিলেন মেসি! কিন্তু কেন?

আর্জেন্টিনার হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিজের পক্ষে যতটুকু সম্ভব, সবটুকুই দিয়েছেন লিওনেল মেসি। এতেও জাতীয় দলের হয়ে কোনো শিরোপা জেতা হয়নি তাঁর। টানা তিন বছরে বিশ্বকাপ আর দুটি কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। এবারই মেসির জন্য শেষ সুযোগ, অমরত্ব অর্জনের জন্য। মেসি নিজেও জানেন সেটা। এ জন্যই এবার টুর্নামেন্টের পরে জাতীয় দলের বুটজোড়া পাকাপাকিভাবে তুলে রাখার চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

অবসর কি এবার আসলেই নেবেন মেসি? মেসি নিজেও অনিশ্চিত, ‘জানি না, সেটা নির্ভর করছে এই টুর্নামেন্টে আমরা কিরকম করি, টুর্নামেন্ট কীভাবে শেষ হয় তার ওপর।’ নিজের দেশে মেসিদের তিন ফাইনাল খেলার অর্জনকে খাটো করে দেখা হয় এটাও মানেন গত বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়, ‘টানা তিন ফাইনালে ওঠা সহজ নয়, হ্যাঁ, টুর্নামেন্ট জেতা অবশ্যই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সে পর্যন্ত যাওয়াটাও কম কিছু না।’

কোনো ভাবে প্রথম রাউন্ডের বাধা পেরিয়ে নকআউট পর্বে উঠলেই বেলজিয়াম, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন—শক্তিশালী সব দলের মুখোমুখি হতে হবে মেসিদের। কিন্তু এতে ভয় পাচ্ছেন না, সাম্পাওলির ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে তাঁর, ‘আমাদের অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে যা অন্য দলগুলো তাদের স্কোয়াডে পেতে চাইবে, তাই আমরা কাউকে হিংসার চোখে দেখি না।’

আরো পড়ুনঃ বাতিস্তুতার চোখে আর্জেন্টিনার আদর্শ স্ট্রাইকার কে ? হিগুয়েন না এগুয়েরো?

নিজে ছিলেন আর্জেন্টিনার ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম স্ট্রাইকার। তিনি যখন ফর্মে থাকতেন, ডি-বক্সে ভীতি ছড়াতেন। অনেকেই বলেন, ডি বক্সে তাঁর চেয়ে ভীতিকর স্ট্রাইকার নাকি কমই ছিল। দেশের হয়ে ৫৭ ম্যাচে ৫৪ গোল করা বাতিস্তুতা বহুদিন ধরেই ছিলেন আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতা। স্বাভাবিকভাবেই কোনো স্ট্রাইকার সম্পর্কে বাতিস্তুতা কিছু বললে তা আলাদা গুরুত্ব বহন করে। তাঁর মতে, ২০১৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের আদর্শ ‘নাম্বার নাইন’ গঞ্জালো হিগুয়েইন।

নিজের মতের সপক্ষে ব্যাখ্যাও আছে তাঁর, ‘আমাদের দলের নাম্বার নাইন বা স্ট্রাইকার বলতে হিগুয়েইন। একজন আদর্শ নাম্বান নাইনের অন্যতম গুণ হলো সতীর্থদের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। একজন নাম্বার নাইন নিজে গোল করবে ঠিকই কিন্তু তার চেয়ে বেশি করে চাইবে দলের জয়। আমার মনে হয় হিগুয়েইনের ভাগ্যটা ওর প্রতি কখনোই সহায় ছিল না।’

বিশ্বকাপে কেমন করবে আর্জেন্টিনা? ২০০২ সালে তারায় ভরা দল নিয়ে বিশ্বকাপে যাওয়ার পরেও ইংল্যান্ড, সুইডেন, নাইজেরিয়ার সঙ্গে লড়ে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। সে দলের মূল কান্ডারি ছিলেন এই বাতিস্তুতা। প্রত্যেকবারই তারকা সমৃদ্ধ দল নিয়ে বিশ্বকাপে গিয়ে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে ব্যর্থ আর্জেন্টিনা। এর কারণটা কি? এই প্রশ্নের উত্তরটা দিয়ে বাতিস্তুতা যেন মেসির চাপকে একটু হালকা করার চেষ্টা করলেন, ‘আমরা এখন যন্ত্রের মতো খেলি না, যখন খেলতাম, তখন প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ পড়ে গিয়েছিলাম (২০০২ বিশ্বকাপে)। বিশ্বকাপে যে সব সময়ে সেরা দলটা জিতবে তার কোনো মানে নেই। কাজেই আমরা যদি মনে করি চ্যাম্পিয়ন না হওয়াটা সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা, তাহলে ভুল হবে।’