অবশেষে পর্দা কাঁপানো এই নায়িকাদের গোপন প্রেমের সকল তথ্য ফাঁস!

0
406

তারকাদের ব্যাক্তিজীবন নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের কমতি থাকে না। আর সেটা যদি হয় প্রেম-বিয়ে নিয়ে তাহলে তো কথাই নেই। এদিকে তারকাদের প্রেম-বিয়ের গুঞ্জন নতুন কিছু নয়। হলিউড, বলিউড, টালিউড ও ঢালিউডে যুগে যুগে, কালে কালে তারকাদের প্রেম-প্রণয়ের গুঞ্জনে বাতাস ভারি হয়েছে, এখনো হচ্ছে।

ঢালিউডে সুজাতা, সুচন্দা, সুচরিতা থেকে মৌসুমি, শাবনূর, পপি, পূর্ণিমা সহ অনেকেরই নামের সাথে এই গুঞ্জন তৈরী হয়েছে। নব্বই দশক থেকে শুরু হয়ে এবং রেসি পর্যন্ত ঢালিউডে আসা সাত নায়িকার প্রেমের গুঞ্জন অথবা সত্যিকারের প্রেম-বিয়ের চিত্র জেনে নিন।

শাহনাজ
১৯৯১ সালে এহতেশামের ‘চাঁদনী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নায়িকা হয়ে আসেন শাবনাজ। ওই চলচ্চিত্রে তার নায়ক ছিলেন নাঈম। চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করতে গিয়ে ঘনিষ্ঠ হন দুজন। একসঙ্গে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেন। শুরু থেকেই তাদের প্রেম কাহিনী মিডিয়ায় চাউর হয়। কিন্তু এ খবর তারা অস্বীকার করেন। অবশেষে ১৯৯৬ সালে বিয়ের পিঁড়িতে বসে অবসান ঘটান সব জল্পনা-কল্পনার।

মৌসুমী
১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে নায়িকা হিসেবে অভিষিক্ত হন মৌসুমী। শুরুতেই এই চলচ্চিত্রের নায়ক সালমান শাহকে জড়িয়ে তার প্রেমের গুঞ্জন রটলেও পরে আরেক হার্টথ্রব নায়ক ওমর সানীর সঙ্গে মৌসুমীর প্রেমের খবর চলচ্চিত্রাঙ্গনসহ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। যথারীতি প্রথমে অস্বীকার, পরে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। এরপরেও অনেকের সঙ্গে জড়িয়ে মৌসুমীর প্রেমের গুঞ্জন রটলেও এখনো মৌসুমী-সানির সুখী দাম্পত্য জীবন অনেকের কাছে ঈর্ষণীয়।

শাবনূর
১৯৯৩ সালে এহতেশামের ‘চাঁদনী রাতে’ চলচ্চিত্রের নায়িকা হিসেবে পাওয়া যায় শাবনূরকে। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সাব্বির, সালমান শাহ, রিয়াজসহ অনেকের সঙ্গে তার প্রেমের খবর চাউর হতে থাকে। অনেক জল্পনা কল্পনার পর অস্ট্রেলিয়া নাগরিকত্ব পাওয়া অনীক মাহমুদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর তিনি পুত্র সন্তানের মা হন।

পপি
৯০ দশকের মাঝামাঝি সময় মনতাজুর রহমানের আকবরের ‘কুলি’ চলচ্চিত্রে সুশ্রী নায়িকা হিসেবে আবির্ভূত হন পপি। পরবর্তীতে শাকিল খানের সঙ্গে পপি অভিনয় করেন ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’ চলচ্চিত্রে। একসঙ্গে জুটি হয়ে বেশ কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন দুজন। কিন্তু এ জুটি প্রথম চলচ্চিত্র থেকেই প্রেমের গুঞ্জনের জন্ম দেন। এক পর্যায়ে পপিকে স্ত্রী হিসেবেও দাবি করেন শাকিল খান। কিন্তু পপির অস্বীকৃতিতে ঘটনা আদালতে গড়ায়। শেষ পর্যন্ত দুজন দুই মেরুতে চলে যান।

পূর্ণিমা
৯০ দশকের মাঝামাঝিতে চলচ্চিত্রে আসেন মিষ্টি মেয়ে পূর্ণিমা। সুদর্শন নায়ক রিয়াজের সঙ্গে জুটি হয়ে অনেক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র উপহার দেন। তাদের প্রেম কাহিনী এক সময় কানে কানে ফিরতে থাকে। এরপর অবশ্য আরও এক নায়ক ও নির্মাতার সঙ্গেও পূর্ণিমার প্রেমের খবর রটে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্র জগতের বাইরে বিয়ে করায় পূর্ণিমার প্রেম উপাখ্যান আর হালে পানি পায়নি।

অপু
অপু-শাকিব জুটি এখনো প্রেমিক যুগল হয়ে আছেন ঢালিউডে। তাদের প্রেম-বিয়ের খবরে পত্রিকাগুলো সরব থাকলেও দুজনের কেউই এখনো বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার করছেন না। তাদের গোপন বিয়ের খবরও ফিল্মপাড়াসহ সর্বত্র মুখরোচক গল্প হয়ে আছে।তারপর সত্যি কথা বের হয় । তাদের বিয়ে হয়েছে এবং তাদের একটি ছেলে রয়েছে ।বর্তমান তাদের ডির্ভোস হয়েছে ।

মৌসুমি, শাবনূর, পপি, পূর্ণিমা
রেসি
২০০৮ সালে বুলবুল জিলানীর ‘নীল আঁচল’ চলচ্চিত্রে নায়িকা হয়ে আসেন রেসি। প্রথমে এই নির্মাতা, পরে এক মডেল সর্বশেষ অভিনেতা ডিপজলের সঙ্গে রেসির প্রেম-বিয়ের গুঞ্জন ঢালিউডের বাতাস ভারি করেছে। অবশেষে ২০১২ সালে রেসি বিয়ে করেন এক ব্যবসায়ীকে। অবসান ঘটে জল্পনা-কল্পনার।শাকিব খানের চোখের পাগল আমি: টাপুর টুপুর অভিনেত্রী সাবর্ণী

এ মাসের ২১ সেপ্টেম্বর বড় পর্দায় মুক্তি সঞ্জয় ব্যানার্জী’র ‘হিরো’ ছবিটি। তার ক্যারিয়ারে এটি তৃতীয় ছবি। মূলত টালিগঞ্জের অভিনেত্রী সাবর্ণীর যাত্রা শুরু ২০১১ সালে র‌্যাম্প মডেলিংয়ের মধ্য দিয়ে। ২০১২ সালে স্টার জলসার জনপ্রিয় মেগা ধারাবাহিক নাটক ‘টাপুর টুপুর’-এ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বেশ জনপ্রিয়তা পান তিনি। এফডিসিতে ‘ওহ মাই লাভ’ সিনেমার শুটিং এর ফাঁকে শাবর্ণীর সাথে কথা হয় বিনোদন সাংবাদিক আকাশ নিবিরের সঙ্গেকলকাতা বা মুম্বাইয়ের অনেক নায়িকাই ঢাকাই ছবিতে অভিনয় করে চলেছেন।

সম্প্রতি ঢালিউডের ‘ওহ মাই লাভ’ ও ‘পাগলামী’ ছবিতে অভিনয় করছেন কলকাতার টাপুর টুপুর সিরিয়াল খ্যাত অভিনেত্রী সাবর্ণী রয়। বাঙ্গালী মা আর বিহারী বাবার আদরের মেয়ে সাবর্ণী মূলত একজন ইঞ্জিনিয়ার। শখের বসেই এসেছিলেন মডেলিং করতে।

এছাড়াও এ মাসের ২১ সেপ্টেম্বর বড় পর্দায় মুক্তি পাচ্ছে তারই অভিনীত ও সঞ্জয় ব্যানার্জী’র ‘হিরো’ ছবিটি। ‘হিরো’ ছবিটি প্রসঙ্গে সাবর্নী বলেন, ‘এটি আমার বড় পর্দার তৃতীয় ছবি। আমার ভিষণ খুশি লাগছে আমার। এরপর আবার বাংলাদেশের দুটি ছবিতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। সব মিলিয়ে খুবই ভালো লাগছে আমার। ছবিটির প্রচারের জন্য আগামী ২০ সেপ্টেম্বর কলকাতায় ঢুকব। এছাড়া বাংলাদেশেও মুক্তির ব্যাপারে কথা চলছে। ছবিটি মুক্তি পেলে বাংলাদেশের দর্শকও দেখতে পারবেন’।

অন্যদিকে বাংলাদেশে শুটিং করতে এসে তাকে বেশ হাসি খুশি দেখা গিয়েছিল তাকে। তার শুটিং সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শোবিজে কাজ শুরু করার পর বাংলাদেশে কাজের অন্য অনেক অফার পেয়েছি। সেখান থেকে এবার বাংলাদেশে শুটিং করছি। একথায় যদি বলি খুব ভালো। এখানকার টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে প্রোডাকশনের লোকজন পর্যন্ত খুবই আন্তরিক।

আমি এখানে ভালোমত ফাইট করেছি। আমাদের ফাইট ডিরেক্টর আরমান স্যার আমাকে দিয়ে খুব ভালোভাবে ফাইট করিয়েছেন। আমি ফাইটারের কাঁধে উঠে সামনের ফাইটারকে লাথি মেরে ফেলে ঘুষি মেরে ঘায়েল করেছি। এখানে বলে রাখি আমি আসলে কুংফু শিখেছিলাম। সবাই খুব ভালভাবেই আমাকে গ্রহণ করেছে। খুব ভালো লাগছে এখানে কাজ করে।’

শুধু তাই নয়, তিনি দেশিয় চলচ্চিত্রের সুপারস্টার শাকিব খানের চুরি করে হলে গিয়ে দেখেছিলেন একাধিকবার। দেশিয় ছবির সুপারস্টার শাকিব খান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি শাকিব খানের ছবি প্রথম যেটি দেখেছিলাম সেটি হল ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’। যেখানে শাকিব খানের বিপরীতে নায়িকা ছিলেন জয়া আহসান। তখন থেকেই শাকিবকে আমার ভীষণ পছন্দ। শাকিব খানের চোখের মাঝে একটা ভিন্নতা আছে। তাই আমি তার চোখের পাগল। শাকিব খানের একটা নিজস্বতা রয়েছে।

যেমনটা শাহরুখের আছে, দেবের আছে বা সালমানের আছে। তেমনি তখনই আমার মূলত শাকিবকে ভালো লেগেছিল। তখন আমি ভেবেছিলাম যদি আমি বাংলাদেশে কখনও সিনেমা করি তাহলে শাকিবের সাথে একটা সিনেমা করব। এটা আমার একটা ইচ্ছা। এক কথায় বলতে পারেন শাকিব আমার চাইল্ডহুড ফ্যান্টাসি।’

দেশিয় চলচ্চিত্রের সুপারস্টার শাকিব খানের বিপরীতে কাজ করতে চান কি না প্রসঙ্গে সাবর্ণী রয় বলেন, ‘একশত বার চাইব। কেন চাইব না। কেননা সে এখন দুই বাংলার সুপারস্টার। তার সাথে কাজ করতে পারাটা সত্যি ভাগ্যের ব্যাপার। তবে সুযোগ আসলে বা অফার পেলে অবশ্যই শাকিব খানের সাথে কাজ করতে চাই আমি।

আমার একটি কথা মনে আছে, যখন শাকিবের পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী রিলিজ হয় তখন আমি অনেক ছোট। তখন আমি ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন নতুন ঢুকেছি মাত্র। তহন থেকেই তো আমি তার ফ্যান। এখন যেহেতু ইন্দো বাংলা চলচ্চিত্রে আমি কাজ করছি আর সুযোগ যেহেতু আছে। যদি সুযোগ আছে তাহলে আমি কেন সে সুযোগ মিস করব।’

প্রসঙ্গত, সাবর্ণীর ঢালিউডে অভিষেক হয় নায়ক বাপ্পি চৌধুরীর বিপরীতে। তার সঙ্গে দেড় বছর আগে শুরু হয়েছিল কমল সরকার পরিচালিত ‘পাগলামি’ নামে একটি ছবির শুটিং। কিন্তু বেশিদূর এগোয়নি ছবিটির দৃশ্যধারণ। শুটিং শুরুর পরই বাঁধার মুখে পড়ে ছবিটি। ফলে বন্ধ হয়ে যায় শুটিং। অভিযোগ ছিল এই ছবিতে কলকাতার বেশ কয়েকজন শিল্পী কাজ করছিলেন; যাদের বাংলাদেশে কাজের অনুমতি ছিল না।

এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই গত বছরের ২৯ মার্চ কক্সবাজারে শুটিং বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এরপর আবার কলকাতায় ফেরত চলে গেলে পূণরায় প্রযোজক জাহাঙ্গীর সিকিদার ও হিমেলের দেশিয় চলচ্চিত্রে ‘ও মাই লাভ’ থেকে মাহিয়া মাহীর পরিবর্তে সাবর্ণীকে নেয়া হয়েছিল।