জীবনের শেষ কনসার্টে ভক্তদের বারবার যা বলেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু?

0
124

জীবনের শেষ কনসার্টে- কোটি ভক্তদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু।

গত বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যুবরণ করেছেন গুণী এই শিল্পী। সকালে হঠাৎ অচেতন হয়ে পরেন নিজ বাসায় আইয়ুব বাচ্চু।পরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে আনার পর মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

রংপুরে শেষবারের মতো কনসার্টে অংশ নিয়েছিলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। ১৬ই অক্টোবর তিনি রংপুরের কনসার্টে অংশ নেন।

এই মঞ্চে আইয়ুব বাচ্চু পরিবেশনা শুরু করার আগে সর্বপ্রথম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের দেশ দিয়ে গেছেন।

এরপরই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা হাসিনা আপা গান খুব ভালবাসেন। এরপর তিনি সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের প্রশংসা করেন এবং তার সাথে থাকা বাদক দলের প্রশংসা করে গান শুরু করেন। তার প্রায় ২৬ মিনিটের পারফরম্যান্সে প্রথম গান ছিল সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে।

আর জীবনের শেষ গান ছিল ‘এক আকাশে তারা তুই’। রংপুর জেলা স্কুলের মাঠে এই গানটি গেয়ে বিদায় নেন কিংবদন্তি। তারপর আর কোনো কনসার্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেলেন না এবি।

গত মঙ্গলবার ‘এক আকাশে তারা তুই’ গান গেয়ে দর্শকদের মন জয় করেন আইয়ুব বাচ্চু। কনসার্টে তিনি সবগুলো লা্ইট বন্ধ করে বারবার দর্শকদের উদ্দেশ্যে মোবাইল ফোন উপরে তুলে ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালিয়ে উপরে তুলে ধরে হাত নাড়ানোর আহ্বান করেন।

আর সেই দৃশ্য দেখে অন্যরকম তৃপ্তি পেতেন উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ গিটারিস্ট আইয়ুব বাচ্চু। গানের মাঝেই গান থামিয়ে শ্রোতাদের সেই মোবাইল আলোর দৃশ্য নিজের ফোনে ক্যামেরাবন্দী করেন এবি। কিন্তু তখন পর্যন্ত কেউ জানতে পারেনি এটিই তার শেষ কনসার্ট। তাইতো সেই ছবি আর আপলোড করতে পারেননি তিনি।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে কনসার্টটির নাম ছিল ‘শেকড়ের সন্ধানে মেগা কনসার্ট’। মিডিয়া পার্টনার ছিল গানবাংলা।কনসার্ট শেষ করেই বুধবার ঢাকায় ফেরেন আইয়ুব বাচ্চু।

উল্লেখ্য,কিংবদন্তি সঙ্গীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মোহাম্মদ ইসহাক ও মা নূরজাহান বেগম।তিনি চট্টগ্রাম শহরের এক বনেদী হাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম রবিন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় চট্রগ্রামের মাদরবাড়িতে তার নানাবাড়িতে মায়ের কবরের পাশে চির নিদ্রায় সমাহিত করা হয়।

আইয়ুব বাচ্চু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০ টি গিটার দান করতে চেয়েছিলেন

বাংলাদেশের আরেকজন কিংবদন্তী শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে হারাল। এই ক্ষতি পুরন হবার নয়। দেশ ছেড়ে উপমহাদেশর মদ্ধেও তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ একজন গিটারিস্ট। তিনি এরই মধ্যে আমাদের উপহার দিয়েছেন অনেক কিছু।সেই কিংবদন্তী শিল্পী সবাইকে কাঁদিয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

চট্টগ্রামের চৈতন্য গলি কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে আইয়ুব বাচ্চুর শেষ ঠিকানা হলো। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে চট্টগ্রামে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর জানাজা শেষ হয়েছে। শনিবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে জানাজায় অংশ নিতে সাধারণ মানুষের ঢল নামে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ্ প্রাঙ্গণে।

এদিকে জানাজা শেষে আইয়ুব বাচ্চুর মামা আবদুল আলীম লোহানি বলেন, সে অত্যন্ত দানবীর ছিলো। কোন দিন কোন অ্যাসেট করতে যায়নি। ঢাকাতেও কিছু করেনি। শুধু মগবাজারে একটি বাড়ি আছে।

এ ছাড়া তার ৬০ পিছ গিটার আছে। সে গিটারগুলো একবার নিলামে দিয়েছিলো। আর সেই এটা বন্ধ করে দিয়েছিলো। পরে চট্টগ্রাম এসে আমাকে বলে, ৬০টা গিটার ছিল তার। এগুলো নিলামে দিয়েছিল।

পরে সেটা বন্ধ করে দেয়। আমাকে বলেছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়ে দিতে চায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে কথা বলতে। পরে সেটা আর হয়ে ওঠেনি। তার মনোবল খুব শক্ত ছিল।

পরে তার মামা বলেন, দেশ বাসীর কাছে আমার অনুরোধ, আপনারা আইয়ুব বাচ্চুর জন্য দোয়া করবেন। যাতে মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন।

আইয়ুব বাচ্চুর মামা বলেন, আইয়ুব বাচ্চু আমাদের কথায় জান্নাতে যাবে না। সে যা আমল করেছে, সেটাই পাবে। আপনাদের কাছে আমার আবারও অনুরোধ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে তার জন্য দোয়া করবেন।

তিনি আরো বলেন, আমার বাগিনা ছোট কাল থেকে আমি তাকে ভালভাবে চিনেছি, সে ছোটকাল থেকে এখানে বড় হয়েছে। সে নানার বাড়িতে বড় হয়েছে।

তার বাবা হিসেবে আমরা দুইভাই ছিলাম। ওনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। আমার বড় ভাই থাকা অবস্থায় তিনি তাদেরকে দেখাশুনা করতো। বড় ভাই মারা যাওয়ার পর আমি তাদেরকে দেখতাম।

উল্লেখ্য,কিংবদন্তি সঙ্গীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মোহাম্মদ ইসহাক ও মা নূরজাহান বেগম।তিনি চট্টগ্রাম শহরের এক বনেদী হাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম রবিন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।