অসুস্থ ইরফানের মর্মস্পর্শী স্ট্যাটাস

0
156

এক বিরল জটিল রোগে আক্রান্ত ভারতীয় অভিনেতা ইরফান খান। জীবনযুদ্ধের সেই লড়াই লড়ার জন্যে সুদূর লন্ডন পাড়ি দেন অভিনেতা, সঙ্গে যান গোটা পরিবার। খবরটি প্রথম প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় নানা জল্পনা। দীর্ঘ কয়েকমাস লন্ডনের হাসপাতালে চিকিৎসা চলার পর অবশেষে মুখ খুললেন ইরফান। জানালেন তিনি হাইগ্রেড নিউরোএন্ডোক্রাইন ক্যান্সারে আক্রান্ত। এই বিরল ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে গবেষণাও এখনও সেভাবে হয়নি। তাই অনিশ্চয়তাই এই রোগের একমাত্র নিশ্চয়তা।

ইরফান আরও বলেন, প্রথমে ছিল এই রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আতঙ্ক, তারপর এল এক অদ্ভূত শান্তি। কারণ, এখন তিনি বুঝেছেন জীবনের এই বিশাল সমুদ্রে তিনি সামান্য এক নাবিক। যিনি চাইলেও সমুদ্রের স্রোতকে কোনওভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। বরং যেভাবে স্রোত আসবে, সেভাবেই তাঁর এগিয়ে যাওয়া উচিত। যতদিন ডুববেন না ততদিন তিনি সৈনিক। যেদিন সময় আসবে সেদিন তিনি তলিয়ে যাবেন অতলে।

একটা চলন্ত ট্রেনে এতদিন ছুটছিলেন অভিনেতা। সেখানে ছিল ব্যস্ততা, স্বপ্ন ভাঙা-গড়ার আনন্দ, লক্ষ্য, পরিকল্পনা। আচমকা টিকিট পরীক্ষক ডেকে তাঁকে জানিয়েছেন, তোমার গন্তব্য এসে গিয়েছে। নেমে যেতে হবে এবার। যদিও তিনি রাজি নন, মানতে চাননি যে তাঁর গন্তব্য এত তাড়াতাড়ি এসে যাবে। কিন্তু বাস্তব এটাই তিনি গন্তব্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছেন।

বেশ কয়েকমাস ধরে লন্ডনের যে হাসপাতালে ইরফানের চিকিৎসা চলছে, তার ঠিক উল্টোদিকেই রয়েছে ঐতিহাসিক লর্ডস স্টেডিয়াম। যদিও ইরফানের কথায় সেটা তাঁর এতদিন লক্ষ্যই পড়েনি। তবে হাসপাতালের বারন্দা থেকে আজ যখন ইরফানের সেই স্টেডিয়ামের দিকে চোখ যায়, তখন তাঁর যেন মনে হয়, এই দুনিয়ার সঙ্গে তাঁর কোনওদিন যোগাযোগ ছিলই না। জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে সেখানে যেন একটি রাস্তা রয়েছে। লর্ডস স্টেডিয়ামে উদযাপিত হয় প্রাণের উৎসব, উল্টোদিকে তাঁর হাসপাতালে মৃত্যু এসে ঘন্টা বাজায়। তাঁর যে ঘরে চিকিৎসা চলছে, হাসপাতালে তার ঠিক ওপরের ওয়ার্ডেই রয়েছে কোমা সেকশন। সেখানে দাঁড়িয়ে বারংবারই এক অদ্ভূত নিস্তব্ধতা গ্রাস করে তাঁকে, তারমধ্যে মিশে থাকে জীবনযুদ্ধে হেরে যাওয়ার আশঙ্কা। তবে এরমধ্যেই আশার আলো সেইসমস্ত পরিচিত ও অপরিচিত অসংখ্য মানুষের প্রার্থনা, যারা আজ তাঁর বেঁচে থাকার শক্তি। এবিপি আনন্দ।