বিনোদনের নতুন দুই ‘কনটেন্ট’

0
35

টেলিভিশনে বিনোদনের ‘কনটেন্ট’ হিসেবে তিনটি বিষয় পরিচিত-এক ঘণ্টার নাটক, ধারাবাহিক ও টেলিছবি। কিন্তু অনলাইনের বদৌলতে এই তিন কনটেন্টের সঙ্গে যোগ হচ্ছে আরও দুটি। একটি ওয়েব সিরিজ এবং অন্যটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। বিনোদনজগতে এই দুটি কনটেন্ট বেশ আলোচিত হচ্ছে সম্প্রতি। নির্মাতারা ঝুঁকছেন ওয়েব সিরিজ ও স্বল্পদৈর্ঘ্য নির্মাণে।







‘আয়নাবাজি’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করে আলোচিত নির্মাতা অমিতাভ রেজাও হাত দিয়েছেন ওয়েব সিরিজে। ‘ঢাকা মেট্রো গ-৯১০৬’ ওয়েব সিরিজটির প্রথম মৌসুম নির্মাণ শুরু হয় গত বছরের ডিসেম্বরে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় শুটিং হয়েছে এটির। বাংলাদেশে ওয়েব সিরিজের সম্ভাবনা নিয়ে অমিতাভ রেজা বলেন, ‘এটা খুবই ভালো। আমি খুবই আশাবাদী। নিজের গল্প বলার জন্য সবচেয়ে ভালো এবং একটা নতুন “স্পেস”। এ সময় এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বাজেট, পছন্দ, স্পনসরের কোনো চাপ নেই। নতুন মাধ্যম, সুতরাং নতুন শিল্পীও তৈরি হচ্ছে। অভিনয়শিল্পীরাও এটার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, দর্শকদের এখানে কী দেখব, কী দেখব না, তা পছন্দ করার সুযোগ আছে। দর্শকের ওপর কোনো কিছু চাপানো হচ্ছে না। আরেকটা ব্যাপার হলো, এর সঙ্গে নির্মাতা ও দর্শকের সরাসরি সম্পর্ক। মাঝখানে যে সিন্ডিকেটের একটা ব্যাপার থাকে, সেটি কিন্তু নেই।’







এই মুহূর্তে বাংলাদেশে ঠিক আন্তর্জাতিক মানের ওয়েব সিরিজ তৈরির জন্য আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে বলে মনে করেন ‘কালি’ ওয়েব সিরিজের নির্মাতা অমিত আশরাফ। তাঁর মতে, এটি আলাদা মাধ্যম। এর আলাদা ভাষা আছে। এটি টেলিভিশন নাটকের মতো নয়। সুতরাং পরিচালক থেকে শুরু করে লেখক, অভিনেতা, প্রযোজনাসংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি বুঝে আগাতে হবে। তবে বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি।







বেশ কিছু ওয়েব ফিকশন ও সিরিজ তৈরি করেছেন পরিচালক মাবরুর রশীদ। তিনি বলেন, মানুষ চাপিয়ে দেওয়া কোনো কিছু নিতে চায় না। টেলিভিশনে ইচ্ছা করলেই অন্য কিছু দেখার সুযোগ নেই। অনলাইনে দর্শকের পছন্দ করার সুযোগ আছে। সেই সূত্র ধরে ওয়েব সিরিজ নতুন একটা মাধ্যম হিসেবে বাংলাদেশে উঠে আসছে। ওয়েব সিরিজ নতুন মাধ্যম হিসেবে ভালো। তবে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানের ওয়েব সিরিজ তৈরি হয়নি। সামনে হবে।

‘ডিটেকটিভ লাভলু মিয়া’ নামে একটি ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন অভিনেতা আজাদ আবুল কালাম। একটি ওয়েব সিরিজ লেখারও দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। লেখক ও অভিনেতা হিসেবে নতুন এই মাধ্যমকে কীভাবে দেখছেন তিনি? আজাদ আবুল কালাম বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা একটা ইতিবাচক দিক। কারণ হচ্ছে, এখন টেলিভিশনের থেকে ইউটিউবে মানুষ বেশি কনটেন্ট দেখে। তার মানে হচ্ছে, অনলাইনে যেসব জিনিস চলে, তার প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ওয়েব সিরিজ হচ্ছে। এই মাধ্যমটা ভালো। কর্মক্ষেত্র হিসেবেও একটা জায়গা বাড়ল, সেটা ভালো।’







ওয়েব সিরিজের পাশাপাশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে দর্শকের কাছে। ইউটিউব, ফেসবুক থেকে শুরু করে নানা অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দেখানো হচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে এসব স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বানানোর প্রবণতা দেখা যায়। তবে সম্প্রতি বাণিজ্যিকভাবেই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বা স্বল্পদৈর্ঘ্যের সিরিজ তৈরি হচ্ছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে কেন্দ্র করে। একটা বিষয় পরিষ্কার থাকা দরকার, আগেও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৈরি হতো, তবে তা কেবল বিদেশি উৎসবগুলোতে দেখানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।







‘শহরের শর্টস’, ‘প্রজন্ম টকিজ’, ‘ইতি তোমারই ঢাকা’ প্রকল্পের আওতায় বেশ কিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৈরির খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দিবস ও ইস্যুভিত্তিক একক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও তৈরি হচ্ছে। ‘শহরের শর্টস’ প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে ছিলেন নির্মাতা আদনান আল রাজীব। বাণিজ্যিকভাবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রবণতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, কাজে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ায় মানুষের ধৈর্য কমে গেছে। তাই ভালো হয় যদি কনটেন্ট ছোট করে দেখানো যায়। ফলে কনটেন্টের একটা ফর্মও তৈরি হয়েছে। যা স্বল্পদৈর্ঘ্য হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে এটা আগেও ছিল। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে এত বেশি আলোচিত হচ্ছে অনলাইনের কারণে। অনলাইনের সুবিধাটা হলো, যেকোনো জায়গায় বসে যেকোনো সময় ১০ থেকে ১৫ মিনিটের গল্প যেকোনো দর্শক দেখে ফেলতে পারেন।’







স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেই পরিচিতি পেয়েছেন নির্মাতা ভিকি জাহেদ। মোমেন্টস, অবিশ্বাস, মায়াসহ বেশ কিছু চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন এটা একটা আলাদা ইন্ডাস্ট্রির মতোই দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। আমি স্বল্পদৈর্ঘ্য বানিয়ে পরিচিতি পেয়েছি। অনেকেই এখন এদিকে এগিয়ে আসছে। এই কনটেন্টটি আলোচনার জায়গা তৈরি করেছে। তাই বলা যায়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্ট হিসেবে উঠে আসছে ইন্ডাস্ট্রিতে।’