ঝিনাইগাতীতে বাবা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, মেয়ে সেরা শিক্ষার্থী!

0
283

বাবা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক- বাবা ঝিনাইগাতী উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও মেয়ে উপজেলার সেরা শিক্ষার্থী। এমন বিরল রেকর্ড করেছেন শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম এবং তার মেয়ে বর্তমানে ৬ষ্ঠ শ্রেনীর শিক্ষার্থী তাসনিয়া তাহিরা লামিয়া।

নজরুল ইসলাম ঝিনাইগাতী উপজেলার ঝুলগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে শিক্ষকতা করছেন। তিনি এবার উপজেলার সেরা শিক্ষক হওয়ার গৌরব অর্জনের পাশাপাশি উপজেলার সর্বত্র একজন শিক্ষানুরাগী শিক্ষক হিসেবে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছেন।

অপরদিকে তার মেয়ে তাসনিয়া তাহিরা লামিয়া উপজেলার ঘাঘড়া দক্ষিন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় উপজেলার সর্বচ্চ নাম্বার ৫৭৯ পেয়ে সেরা শিক্ষার্থীর সম্মান অর্জন করেন।

একই সাথে সে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। বর্তমানে সে উপজেলার তিনআনী মাইলস্টোন পাবলিক স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে অধ্যয়ন করছে।তার স্ত্রী লতিফা ইয়াসমিন একই উপজেলার বনগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে সহাকারী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করছেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি দুই মেয়ে সন্তানের জনক।

সুদের টাকাই কেড়ে নিলো ছায়েদ মাঝির প্রাণ

পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় লক্ষ্মীপুরের কুশাখালীর নলডগী এলাকায় আবু ছায়েদ মাঝি নামে এক ব্যাক্তি নিহত হয়েছে।

সোমবার সকালে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় সাগর উদ্দিন নামে একজনকে আটক করছে পুলিশ।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানায়, সুদ ব্যবসায়ী বেলাল উদ্দিনের কাছ থেকে আবু ছায়েদ মাঝি কিছু টাকা ধার নেন। সম্প্রতি সকল টাকা পরিশোধ করেন আবু ছায়েদ মাঝি কিন্তু আবু ছায়েদের কাছে সুদের আরো টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবী করেন বেলাল উদ্দিন।

এ নিয়ে রোববার সন্ধ্যায় দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রাতের কোন এক সময়ে বেলাল উদ্দিন এবং তার লোকজন আবু ছায়েদ মাঝিকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে বাড়ির সামনে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা।

সকালে তার লাশ বাড়ির সামনে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. জাফর আহমদ জানান, পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আবু ছায়েদ মাঝিকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাগর উদ্দিন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

আমাদের সমাজ কি তাহলে চূড়ান্ত ধ্বংসের পথে?

বাচ্চা পেটে আসার ২৮ সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চা নষ্ট করলে সেটাকে এবরশন বা গর্ভপাত বলে। আমাদের দেশে আইন অনুযায়ী, এবরশন বা গর্ভপাত নিষিদ্ধ হলেও এর সংখ্যা দিনে দিনে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

শুধুমাত্র ২০১৪ সালেই দেশে প্রায় ১২ লাখ এবরশন করানো হয়। (সূত্র: গুটম্যাকার, ২০১৭)। সবচেয়ে চিন্তার দিক হল, এবরশন পরবর্তী জটিলতায় মাতৃমৃত্যুর হারও বাড়ছে। ২০১০ সালে যেখানে এবরশনের কারণে ১ ভাগ মাতৃমৃত্যু হত, সেখানে ২০১৬ সালে বৃদ্ধি পেয়ে সেটা হয়েছে ৭ ভাগ। (BMMS ২০১৬)।

এর কারণ হল, একদিকে যেমন এবরশন বাড়ছে, অপরদিকে এটা গোপন করার হারও বাড়ছে। বিশেষ করে অবিবাহিত মেয়েরা বয়ফ্রেন্ডের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে গর্ভবতী হয়ে গোপনে এবরশন করাচ্ছে।

একটা তথ্যে পাওয়া যায়, আমাদের দেশে বিবাহিতদের চেয়ে অবিবাহিত কিশোরীদের এবরশন করানোর হার পঁয়ত্রিশ ভাগ বেশি। (আহমেদ, ২০০৫)।

কিন্তু এবরশন পরবর্তী জটিলতা যেমন – ইনফেকশন, রক্তক্ষরণ ইত্যাদি হলে লোকলজ্জার ভয়ে আর সেটার চিকিৎসা করায় না। ফলে অনেকে এবরশনের পরে মারা গেলেও সেগুলো পর্দার অন্তরালে থেকে যাচ্ছে।

এই ১২ লাখ এবরশন ছাড়াও রয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার এমআর। সে হিসেবে প্রতি বছর (২০১৪ অনুযায়ী) বাচ্চা নষ্টের পরিমাণ প্রায় ১৬ লাখেরও বেশি। যেখানে দেশে মোট গর্ভের সংখ্যাই প্রায় সাড়ে ৪২ লাখ। (গুটম্যাকার, ২০১৭)

এতো গেল এবরশনের কথা। এর সাথে সাথে নবজাতক হত্যার সংখ্যাও দিনে দিনে বাড়ছে। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৮ সালেই প্রথম চার মাসে রাস্তাঘাটে, ডাস্টবিনে ২৭ জন অজ্ঞাত নবজাতকের লাশ পাওয়া গেছে।

আর এই চলতি মে মাসের প্রথম পনের দিনেই মোট ২৮ জন নবজাতককে ডাস্টবিনে পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ১৭ জন ছিল মৃত। বাকি আটজন জীবিত (ইত্তেফাক, ১৯ মে ২০১৮)। তিনজনের তথ্য পাওয়া যায়নি।

অবৈধ মেলামেশার ফলাফল তো আছেই, এর পাশাপাশি বৈধ সম্পর্কের ফলে জন্ম নেওয়া কন্যা সন্তানদেরও এরকমভাবে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রের খবরে জানা গেছে।

সমাজের অধঃপতন কোন দিকে যাচ্ছে তা এখান থেকে সহজেই অনুমেয়। ঠিক যেন আরবের অন্ধকার যুগের প্রতিচ্ছবি। যেভাবে তারা পুত্র সন্তানের আশায় কন্যা সন্তানকে জীবিত পুঁতে রেখে হত্যা করত।

যার সন্তান নেই, সে জানে এটা কত বড় একটা নিয়ামত। একটা সন্তান পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর চেষ্টা করে যাচ্ছে, এমন কোন জায়গা নেই সেখানে যাচ্ছে না।

ছেলে হোক বা মেয়ে- পিতা মাতার জন্য যে কোন সন্তানই হল স্রষ্টা প্রদত্ত সবচেয়ে বড় উপহার। অথচ এ মূল্যবান প্রাণ নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে। নৈতিক অবক্ষয় কোথায় গিয়ে পৌঁছাচ্ছে তা ভাবতে গেলেও গা শিহরিত হয়। এ নির্মমতার শেষ কোথায়?

লেখক: ডা. তারাকী হাসান মেহেদী, মেডিকেল অফিসার, বিসিএস