ফেসবুকের প্রেম থেকে ভারতে পালিয়ে বিয়ে, অতঃপর…

0
41

ফেসবুকের প্রেম থেকে- চট্টগ্রামে নিখোঁজের সাত মাস পর স্কুলশিক্ষিকা মনিকা বড়ুয়া রাধাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার ভোমরা ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

মনিকা নগরীর লিটলস জুয়েল স্কুলের গানের শিক্ষিকা। গত ১২ এপ্রিল নগরীর লালখানবাজার হাইলেভেল রোড থেকে নিখোঁজ হন মনিকা। এ ঘটনায় তার স্বামী দেবাশীষ বড়ুয়া বাদী হয়ে ২৮ এপ্রিল খুলশী থানায় মামলা দায়ের করেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম বৃহস্পতিবার সিএমপি সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মামলার সূত্র ধরে গত ৪ নভেম্বর ভারতীয় নাগরিক কমলেশ কুমার মল্লিককে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে কমলেশ কুমার মল্লিক জানান, গত ১২ এপ্রিল কমলেশ নিজে এসে চট্টগ্রাম থেকে মনিকা বড়ুয়াকে সীমান্তে নিয়ে যায়। সেখান দিয়ে মনিকাকে পাসপোর্ট ও ভিসা ব্যতিত ভারতে অনুপ্রবেশ করায়। মনিকা কলকাতায় তার নিজস্ব ফ্ল্যাট সিদ্ধেশ্বরী এ্যাপার্টমেন্টে ছিল।

পরে নানা কৌশলে মনিকা বড়ুয়াকে মঙ্গলবার সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা সীমান্ত ডেকে এনে আটক করা হয়।

এ প্রসঙ্গে নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. কামরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ভারতে মনিকার নামে ভারতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য কার্ড তৈরি করা হয়। সেখানে মনিকার নতুন নাম রাখা হয় অনামিকা মল্লিক এবং স্বামী হিসেবে কমলেশ মল্লিক উল্লেখ করা হয়েছে।

কমলেশ মল্লিক জানিয়েছে, তারা ধর্মীয়ভাবে মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করেছেন। তবে কোথাও কোনো রেজিস্টার করা হয়নি।

পুলিশ আরও জানায়, দুই সন্তানের জননী মনিকার সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয়ের পর প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন কমলেশ মল্লিক। এর জের ধরেই তারা পালিয়ে বিয়ে করেন।

সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়েছে মনিকার প্রেম কাহিনী

চট্টগ্রাম থেকে সাত মাসে আগে ‘নিখোঁজ’ গানের শিক্ষিকা মনিকা বড়ুয়া রাধাকে উদ্ধারের পর পুলিশ বলেছে, তিনি স্বেচ্ছায় সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। সেখানে কমলেশ মল্লিক নামে একজনকে বিয়েও করেছিলেন।

সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত থেকে মঙ্গলবার মনিকাকে ‘উদ্ধার’ করার পর বুধবার রাতে তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের(সিএমপি) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম বলেন, মনিকা স্বেচ্ছায় ভারতে গিয়েছিলেন। শুরুতে আমরা মনে করেছিলাম তাকে অপহরণ বা পাচার করা হয়েছে।

পরে জানতে পারি তিনি নিজ ইচ্ছায় গেছেন। যারা তার সন্ধান চেয়ে মানববন্ধন করেছেন তারাও জানতেন মনিকা ভারতে আছেন। এটা আমাদের জানা থাকলে আরও আগেই তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হত।

মনিকা বড়ুয়ার সন্ধান দাবিতে তার বোন ও পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রাম ও ঢাকায় কয়েক দফা মানববন্ধন করেন। তারা সে সময় অভিযোগ করেন, মনিকাকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ‘সন্তোষজনক’ নয়।

পুলিশ কর্মকর্তা আমেনা বেগম বলেন, এটা একটা সেনসেটিভ ঘটনা। তাই ঘটনার পর থেকেই আমরা সর্বোচ্চ সক্রিয় ছিলাম। কমলেশ কুমার মল্লিক নামে এক ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে চলে যাওয়ার পর মনিকা সেখানে তাকে বিয়ে করেন বলে জানানো হয় পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে।

গানের টিউশনিতে যাওয়ার কথা বলে গত ১২এপ্রিল চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজারের হাই লেভেল রোডের বাসা থেকে বের হয়ে ৪৫ বছর বয়সী মনিকা আর ফেরেননি বলে জানানো হয়েছিল তার পরিবারের পক্ষ থেকে।

মনিকার স্বামী দেবাশীষ বড়ুয়া ১৩ এপ্রিল এ বিষয়ে নগরীর খুলশি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ২৮ এপ্রিল সেটি ‘অপহরণ’ মামলায় রূপান্তর করা হয়।

দেবাশীষ শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন, তাদের মধ্যে কোনো দাম্পত্য সমস্যা নেই। কীভাবে, কেন মনিকা নিখোঁজ হয়েছেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

দুই মেয়ের জননী মনিকা নগরীর কাতালগঞ্জের লিটল জুয়েলস স্কুলে গান শেখাতেন। তার বড় মেয়ে নগরীর একটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তা আমেনা বেগম বলেন, গত ৪ নভেম্বর ঢাকার ধানম-ির ৩২ নম্বর সড়ক থেকে কমলেশ কুমার মল্লিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে কমলেশ জানান, তিনি নিজেই ১২ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে বাসে করে মনিকাকে বেনাপোলে নিয়ে যান। পরে পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই তাকে নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন।

পুলিশ বলছে, কলকাতায় মনিকার নতুন নাম দেওয়া হয় অনামিকা মল্লিক। স্বামী হিসেবে কমলেশ মল্লিকের নাম উল্লেখ করে সেখানে মনিকার জন্য পরিচয়পত্র ও অন্যান্য কার্ডও তৈরি করা হয়। মন্দিরে গিয়ে ধর্মীয় রীতিতে তারা বিয়ে করলেও তা রেজিস্ট্রি করা হয়নি।

চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, মনিকা কলকাতার একটি অ্যাপার্টমেন্টে আছেন জানতে পেরে ‘কৌশলে’ তাকে মঙ্গলবার ভোমরা সীমান্তে আনার ব্যবস্থা করা হয়। আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নিয়ে থাকা পুলিশ তাকে নিয়ে পরে চট্টগ্রামে আসে।

অন্যদের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. কামরুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

মদ খাইয়ে বিয়ের প্রস্তাব!! রাজি না হওয়ায় খুন

সিলেটের ওসমানীনগরের দয়ামীরে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা লাশের সঠিক পরিচয় পাওয়া না গেলেও এ ঘটনায় মামলা দায়ের করে ৪ জনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। আদালতে তারা ১৬৪ ধারা জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে আসামীরা জানিয়েছেন খুন হওয়া মহিলার নাম তিশা বেগম। তিশার ব্যাপারে পুলিশ এখনও কোন সন্ধান পায়নি।

৬ নভেম্বর এস আই সাইফুল মোল্লা বাদি হয়ে এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৩। বুধবার বিকাল ৪টার দিকে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-১ এর বিচারক কানন দেব আসামীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া আসামিরা হলেন, উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের খালপাড় গ্রামের মৃত হরমুজ আলীর ছেলে আব্দুল বারিক, তার কথিত স্ত্রী জামালপুর জেলার ভাটি গজারিয়া এলাকার ওয়াহিদ আলীর মেয়ে নাসরিন বেগম পাখি, তার ভাগ্নে একই গ্রামের মইন উদ্দিনের ছেলে মাসুম মিয়া।

এছাড়া একই আদালতে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ও মামলার প্রধান আসামি আবুল বারীকের মেয়ে ময়না বেগম, মোনালিসা, আব্দুল বারিকের বোন নেহার বেগম ও দয়ামীর বাজারের পাহারাদার আব্দুল গনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

আদালতের বরাত দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম জানান, ৪ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে তিশা বেগমকে নিয়ে আসামি সেলিম মিয়া দয়ামীরের খালপাড় গ্রামের আব্দুল বারিকের বাড়ি যায়। আব্দুল বারিককে দিয়ে মদ আনিয়ে সেলিম মিয়া ও তিশা বেগম দুজনে পান করে। মদপানকালে তিশাকে সেলিম মিয়া বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিশা বিয়েতে রাজি না হলে উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়।

জবানবন্দিতে আসামী বলেছে, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আব্দুল বারিকের শোয়ার ঘরে তিশার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে সেলিম মিয়া ও আব্দুল বারিক মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর রাতেই আব্দুর বারিকের কথিত স্ত্রী নাসরিন বেগম পাখি, তার ভাগ্নে মাসুম এবং আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি রিকশা চালকের সহায়তায় দয়ামীর বাজারের কনাইশা (র.) মাজারের পশ্চিমে একটি খালি জায়গায় লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখে।

ওসমানীনগর থানার ওসি এসএম আল মামুন তিন আসামির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিরা নিহত নারীর যে নাম ঠিকানা দিয়েছিল তাতে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উলেখ্য, গত ৫ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দয়ামীর বাজারের কনাইশা (র.) মাজারের পশ্চিমে একটি খালি জায়গা থেকে মাটিচাপা দেয়া এক অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করে ওসমানীনগর থানা পুলিশ।

ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ জনকে আটক করে পুলিশ। এর মধ্যে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ৪ জন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে