অবশেষে প্রেমের জয় বিসিএস উত্তীর্ণ সিনথিয়ার !

0
74

গত কয়েক দিনের সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জয় হলো প্রেমের। সোমবার নেত্রকোনার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করার কথা জানান ৩৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ তাসলিমা সুলতানা সিনথিয়া।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ আগস্ট সিনথিয়ার সঙ্গে নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌরসভার প্রথম মেয়র প্রয়াত আব্দুল হক ভূঞার ছোট ছেলে রাতুল হাসান বাবুর রেজিষ্ট্রি কাবিনমূলে বিয়ে হয়।

কিন্তু বিয়ের ১ মাস ৯ দিন পর সিনথিয়াকে অপহরণের অভিযোগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর কেন্দুয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন তার মা রাজিয়া সুলতানা। পরদিন সিনথিয়ার মা রাজিয়া ও বাবা সুলতান আহমেদ মেয়েকে উদ্ধারের দাবিতে থানায় অবস্থান নেন।

সেদিন সিনথিয়ার মা-বাবা দাবি করেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর কেন্দুয়া পৌর শহরের আরামবাগ মহল্লার বাসা থেকে কিছু দুষ্কৃতিকারী সিনথিয়াকে অপহরণ করে।

রাজিয়া সুলতানা মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, কেন্দুয়া পৌরসভার প্রথম মেয়র প্রয়াত আব্দুল হক ভূঞার ছোট ছেলে বর্তমান পৌর মেয়র মো. আসাদুল হক ভূঞার ভাতিজা রাতুল হাসান বাবু, সাফিম, ভাগিনা জুনায়েদ, পুলক ও কাউরাট গ্রামের মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে অজ্ঞাত আরও ১৫/২০ জন সিনথিয়াকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে গেছে।

মামলার পর কেন্দুয়া পৌরসভার মেয়র মো: আসাদুল হক ভূঞা গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, এটি কোন অপহরণের ঘটনা নয়। সিনথিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই রাতুল হাসান বাবুর প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল।

সম্পর্ককে প্রতিষ্ঠিত করতেই প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়ে চলতি বছরের ১১ আগস্ট ৩৬১ এ্যালিফেন্ট রোড নিউ মার্কেট ঢাকা-১২০৫ কাজী মো: বিল্লাল হোছাইনের অফিসে ৩ লাখ টাকার দেন মোহরে বিয়ে করেন। বিয়ের পর সিনথিয়া তার বাবার বাড়িতে যায়।

তিনি জানান, সামাজিক আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিনথিয়াকে বধূ হিসেবে বরণ করতে সিনথিয়ার মামা আশরাফ উদ্দিন ভূঞার সঙ্গে আলোচনা চলছিল।

এছাড়া রাতুলে মাসহ আরও কয়েকজন মুরুব্বি সিনথিয়ার বাবা-মার কাছে গিয়ে সামাজিক আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বধূ বরণের প্রস্তাব দেন। কিন্তু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অপহরণ মামলা দায়ের করেন সিনথিয়ার মা।

সোমবার মেয়র আসাদুল হক ভূঞা বলেন, আমাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য সিনথিয়ার মা থানায় এ মামলা দায়ের করেন। কিন্তু সিনথিয়া নিজেই আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজের মতামত আদালতকে জানিয়েছে।

আদালতে সিনথিয়া বলেছে, নিজের ইচ্ছাতেই রাতুল হাসান বাবুর সঙ্গে বিয়ে হয়েছে। তাকে কেউ অপহরণ করেনি। বিচারক তার বক্তব্য গ্রহণের পর তার নিজের জিম্মাতেই তাকে দিয়েছেন।

এদিকে সিনথিয়ার মামা কেন্দুয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলর আশরাফ উদ্দিন ভূঞা ফোনে বলেন, সিনথিয়া আদালতে গিয়েছিল, তবে আদালতে কি বক্তব্য দিয়েছে তা এখনও জানতে পারিনি।

কেন্দুয়া থানার ওসি ইমারত হোসেন গাজী সমকালকে বলেন, মামলার সূত্র ধরেই তাসলিমা সুলতানা সিনথিয়া আদালতে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। আদালতের বক্তব্যের কপি এখনও আমরা হাতে পাইনি। তবে আদালত তাকে তার নিজের জিম্মায় নিজ বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

‘ছোট বোনকে বিয়ে করে আমার সর্বনাশ করল রাব্বি’

নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া নির্মম কিছু কথা জানালেন প্রেমিকের ধর্ষণে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক কিশোরী। কিশোরী জানায়, তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে রাব্বি নামের এক যুবক।

এরপর বিয়ের কথা বলে তার সাথে ঘনিষ্ঠ হয় ওই যুবক। পরে তারই খালাতো বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তাকে বিয়ে করে রাব্বি।

ওই কিশোরী ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সাত নম্বর চর নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামের সবজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে লেখাপড়ার সময় তার জীবনে ঘটে এমন ঘটনা। বিয়ের আশ্বাসে একাধিকবার তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হয় রাব্বি।

কিশোরী বলে, প্রথমে আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে রাব্বি। পরে বিয়ের কথা বলে আমার সর্বনাশ করে। কিছু দিন পর সেই রাব্বি আমাকে রেখে আমার খালাতো বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে।

পাঁচ মাস আগে আমার সেই ছোট বোনকে বিয়ে করে রাব্বি। এর মধ্যে আমি অন্তঃসত্ত্বা হই। আমার সর্বনাশ করে ছোট বোনকে বিয়ে করল রাব্বি।

ওই কিশোরী আরও জানায়, রাব্বির সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারে তার আপন দুলাভাই রিপন। ওই সময় প্রেমের ঘটনাটি ফাঁস করে দেবে বলে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তার সর্বনাশ করে দুলাভাই রিপন। রিপন মিয়া পাশের ইউনিয়নের চর ঝাউগাড়া গ্রামের কালীবাড়ি এলাকার মৃত সালাম মিয়ার ছেলে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। লোকমুখে বিষয়টি শুনেছি। বিস্তারিত খোঁজ খবর নেয়ার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

নির্যাতিত ছাত্রীর বাবা বলেন, আমার মেয়ে কেবল পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। মিথ্যা আশ্বাসে রাব্বি ও আমার মেয়ের জামাই মিলে তার ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়েছে। আমি এর জন্য আইনের আশ্রয় নেব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিপনের স্ত্রী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায়, এসব কথা শোনার পরই আমি বাবার বাড়িতে চলে আসি। আমি আমার স্বামীর উপযুক্ত বিচার চাই।

রিপনের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি। বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় গা ঢাকা দিয়েছে রিপন।

তবে, রাব্বির মা মদিনা বেগম বলেন, আমার ছেলে রাব্বিকে প্রায় পাঁচ মাস আগে বিয়ে করিয়েছি। আমার ছেলে কে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে ওই মেয়ে।