বরের বয়স ৩৫ শুনে বিষ খেল ১৫ বছরের স্কুলছাত্রী

0
144

বরের বয়স ৩৫- ৩৫ বছর বয়সী যুবকের সঙ্গে ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রীর বিয়ের আয়োজন করেছে পরিবার। কিন্তু বিষয়টি মেনে নেয়নি স্কুলছাত্রী ইয়াসমিন আক্তার (১৫)। প্রতিবাদ করায় মারধরের শিকার হতে হয় তাকে।

উপায় না পেয়ে অবশেষে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ইয়াসমিন। বুধবার সকালে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। মৃত ইয়াসমিন সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের মেয়ে ও সৈয়দপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী।

স্থানীয়রা জানান, ইয়াসমিন গত বছর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাস করতে পারেনি। এজন্য একই শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। এর মধ্যে বাবা ইসমাইল ও মা লাকী বেগম তাকে বিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করে। একপর্যায়ে ফুফাতো ভাই কুয়েত প্রবাসী রাশেদের (৩৫) সঙ্গে বিয়ে দেয়ার জন্য তাকে চাপ সৃষ্টি করা হয়। রাশেদ উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের সমাষপুর গ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে। তিনি এর আগেও বিয়ে করেছে। প্রায় ৩ বছর আগে পারিবারিক কলহের জের ধরে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তাই রাশেদকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায় ইয়াসমিন।

এদিকে, বিয়েতে রাজি না হওয়ায় রোববার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ওই ছাত্রীকে তার মা-বাবা মারধর করে। এতে অভিমান করে সোমবার সকালে সে বিষপান করে। পরিবারের লোকজন দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে দুপুরে মরদেহ উপজেলার দত্তপাড়ার সৈয়দপুরের বাড়িতে আনা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি আহসানুল কবির রিপন বলেন, বাল্যবিয়ে দেয়ার জন্য ওই ছাত্রীকে পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ দেয়া হয়। এতে অভিমান করে বিষপান করে সে আত্মহত্যা করেছে।

দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘আমাকে বলা হয়েছে, খালেদা জামিন পাবেন না’

বিএনপি একটি বিধ্বস্ত দল। আগামী নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার জামিনের সম্ভাবনা নেই। আর আওয়ামী লীগের সংকট থাকলেও তা আমলে নেন না শেখ হাসিনা।

লবিস্ট নিয়োগ আর জাতিসংঘে দৌড়ঝাঁপ নিয়ে বিএনপি যখন আলোচনায় তখন বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম।

সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে একাত্তর টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

উইলিয়াম বি মাইলাম বলেন, ‘বিএনপির দশা খারাপ। দলটির প্রধান জেলে। তিনি নির্বাচনের আগে জামিন পাবেন না। অন্য নেতাদের নামেও মামলা আছে। কেউ কেউ জেলে, কেউ পলাতক। বিধ্বস্ত একটা দল। গত নির্বাচনের আগের অবস্থার সাথে খুব বদল কিছু দেখতে পাচ্ছি না।’

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছে যে, জামিন পাবে না, কে বলেছে বলা যাবে না। আমি বলতে পারি, আমার মনে নেই।’

তিনি বলেন, ‘আগের বার আমি বলেছিলাম বিএনপি মৃত প্রায়। বুঝেছিলাম, আহত। এখন আরও বিধ্বস্ত, শেষ হওয়ার পথে কিন্তু মরে গেছে, তা বলতে চাই না। আর তিন বছরের আগের চেয়ে আওয়ামী লীগে বিভক্তি বেড়েছে। দলের ভেতর ক্ষমতার জন্য দ্বন্দ্ব প্রকট। নিশ্চিত করে বলতে পারব বা না কে কি চায়, কোথায় ভাঙন। কারণ, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এগুলো স্বাভাবিক বলে মনে করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি তো প্রায়ই আওয়ামী লীগের বিভক্তির আলাপ শুনি, গুজব মনে হয় না। তবে এগুলো শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করে না।’