বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, রাতে ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ের আশংকা

0
120

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ- বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আজ বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় বৃষ্টিও চলছে। ঘূর্ণিঝড়টির এখন পর্যন্ত যা গতিমুখ, তাতে এটি আজ রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে ভারতের উত্তর অন্ধ্র ও দক্ষিণ ওডিশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে এ কথা বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আজ রাত থেকে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। সেই সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নৌযানগুলোকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নৌযানগুলোকে সাগরে না যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রাবন্দর ও কক্সবাজারকে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, গভীর নিম্নচাপটি আজ রাত ১০টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে এটি ভারতের অন্ধ্র ও ওডিশা উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এর প্রভাবে বাংলাদেশে আগামী দুই-তিন দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে।

গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ৪৮ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত রয়েছে, যা ঝোড়ো হাওয়ার বেগে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে সাগর উত্তাল রয়েছে।

তবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে যখন ঝড়-বৃষ্টির দাপট চলছে, তখন দেশের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলে মৃদু দাবদাহ অব্যাহত আছে। আজও ভোলায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আজ রাত থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানীতে ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে নেত্রকোনায় ৩৪ মিলিমিটার। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানেও কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি আজ বেলা তিনটা পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে ৭৬৫ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ৬২০ ও পায়রা থেকে ৬৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। এর প্রভাবে বাতাসে বায়ুর চাপের তারতম্য দেখা দিয়েছে। বইছে ঝোড়ো হাওয়া।

হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা

গত কয়েকদিন যাবত খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগসহ ঢাকা, সীতাকুণ্ড, মাঈজদীকোর্ট এবং ফেনী অঞ্চলের উপর দিয়ে মৃদু তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনিভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত আছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশে কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় বিরাজমান রয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে আজ (বুধবার) চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কয়েক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া দেশের অন্যত্র আকাশ আজ আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানতঃ শুষ্ক থাকবে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। এ সময় সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

গতকাল (মঙ্গলবার) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রাঙ্গামাটিতে ২৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত যাবে সন্ধ্যা ৫টা ৫৮ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৪৬ মিনিটে।

রোহিঙ্গাদের জন্য ৪১০ কোটি টাকা ঋণসহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যের উন্নয়নের জন্য ৫ কোটি ডলার বা ৪১০ কোটি টাকা সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এ সহায়তার মধ্যে রয়েছে ৪ কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার অনুদান এবং ৮৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার ঋণ।

বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সম্মেলনকক্ষে এ ঋণ ও অনুদান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইআরডি সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান। এ সময় দুই সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কক্সবাজার জেলার স্থানীয় জনগণসহ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের এইচএনপিসহ অন্যান্য সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এ সহায়তা দেয়া হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার-কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার-কল্যাণ বিভাগের অধীনে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

৮৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার ঋণ দেয়া হচ্ছে বিশ্বব্যাংকের আইডিএ শাখা থেকে। এই অর্থ দিচ্ছে কানাডা সরকার। কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এই ঋণের অর্থ পরে অনুদানে পরিণত হবে বলে ইআরডি থেকে জানানো হয়েছে।

ইআরডি সচিব কাজী সফিকুল আযম বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগই হল নারী ও শিশু। তাদের এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বাস্থ্যসেবার।

বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান বলেন, কুতুপালং ক্যাম্পসহ প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি মোকাবেলা করছে। বিশ্বব্যাংকের এই অনুদান সরকারের পরিকল্পনা ও রোহিঙ্গাদের জন্য স্বাস্থ্য, পুষ্টিসেবা প্রকল্পে সহায়তা করবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য এটি বিশ্বব্যাংক সিরিজের প্রথম অর্থায়ন।