কিশোরগঞ্জে নিজের জীবন দিয়ে বাবাকে বাঁচাল ৭ বছরের মেয়ে !

0
194

জীবন দিয়ে বাবাকে বাঁচাল- দেশে প্রতিনিয়ত ট্রেনে কাটা পড়ে লোক মারা যাচ্ছে । আজ এমনি একটি ঘটনা ঘটলো কিশোরগঞ্জে জানা যায়, নিজের জীবন দিয়ে বাবাকে বাঁচাল ৭ বছরের মেয়ে। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় মৃত্যুর হাত থেকে বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে প্রাণ হারান এই শিশু।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কটিয়াদী উপজেলার মানিকখালী রেল স্টেশনের দক্ষিণ পাশের সিগন্যাল এলাকায় ঘটনা ঘটে। মৃত লিজার বাড়ির কটিয়াদী উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের মদিনাজপাড়া গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনটি মানিকখালী রেল স্টেশনের সিগন্যাল অতিক্রম করার সময় বাবা হাসেন আলী রেল লাইনের ওপর মোটরসাইকেলসহ আটকা পড়েন।

এ সময় রেল লাইনের অপর পাশে থাকা সাত বছর বয়সী মেয়ে লিজা দৌড়ে এসে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে বাবাকে পার করে দেয়। মেয়ের ধাক্কায় বাবা রেল লাইন পার হয়ে বেঁচে যান। এর ফাঁকে ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় লিজা।

এ দুর্ঘটনার ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবরটি শুনেছি, বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে লিজা মারা যায়। পরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্থান্তর করে। মেয়ের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারচেন না লিজার বাবা।

ধরা পড়লো ‘ইয়াবা রাণী’৭ বছরের মেয়ে নিজের জীবন

কক্সবাজারের টেকনাফে ইয়াবা রাণী হিসেবে পরিচিত ইয়াসমিন আক্তার। তাকে দীর্ঘদিন ধরেই খুজছিল র‌্যাব পুলিশ। অবশেষে ধরা পড়েছেন ইয়াসমিন আক্তার।

বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে তার বাড়ি থেকে বস্তাভর্তি ইয়াবা জব্দ করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। ওই বস্তায় ছিল ৭২ হাজার ২৯০ টি ইয়াবা।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইয়াসমিন আক্তারের নাম গোয়েন্দাদের তালিকায় শীর্ষে থাকলেও তাকে ধরা যাচ্ছিলো না।বৃহস্পতিবার ইয়াবা রাণী হিসেবে খ্যাত ইয়াসমিন আক্তার (৩৩) ও তার সহযোগী মো. হাশেম (৩৫) নামে এক রোহিঙ্গা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর মেহেদি হাসান জানান, ইয়াসমিনের বাড়ি টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া এলাকায়। তার স্বামীর নাম নূর মোহাম্মদ।

বৃহস্পতিবার তার বাড়িতে পাচারের জন্য ইয়াবা মজুদের খবর পেয়ে অভিযান চালায় র‌্যাব। এসময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াবার বস্তা নিয়ে পালানোর সময় ইয়াসমিন আক্তার ও রোহিঙ্গা নাগরিক মো. হাশেমকে হাতেনাতে ধরা হয়। হাশেম জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক-ডি/৪ এর বাসিন্দা। পরে বস্তা থেকে ৭২ হাজার ২৯০ টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

ইয়াসমিন আক্তার দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে আসছেন বলেও জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা। আর ইয়াবা পাচার কাজে তিনি ব্যবহার করেন রোহিঙ্গা নাগরিকদের। এদের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মামলা হয়েছে।

যাত্রীদের নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ, বিমানের জরুরি অবতরণ

বৃহস্পতিবার সকালে মুম্বাই থেকে যাত্রা করেছিল জেট এয়ারওয়েজের একটি বিমান। কিন্তু মাঝ আকাশে হঠাৎ করেই যাত্রীদের অনেকেই অসুস্থ বোধ করছিলেন। অনেকেরই মাথা ঘুরছিল আবার কারো কারো নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।

কেবিন ক্রুদের ভুলে মারাত্মক বিপদের মুখে পড়েছিলেন জেট এয়ারওয়েজের যাত্রীরা। একটুর জন্য রক্ষা পেলেন ১৬৬ জন যাত্রী। মাঝ আকাশে হঠাৎ করেই বিমানের কেবিনের এয়ার প্রেসার কমে যায়। যার ফলে, শ্বাসকষ্ট শুরু হয় যাত্রীদের।

বেশ কয়েকজনের নাক এবং কান দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে। মাথায় যন্ত্রণা অনুভব করেন অনেকেই। শেষ পর্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে আবারও মুম্বাই বিমান বন্দরে ফিরিয়ে আনা হয় বিমানটিকে।

সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জেট এয়ারওয়েজের ফ্লাইটটি মুম্বাই থেকে জয়পুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ বিমানের এসি বিকল হয়ে যায়।

কেবিন প্রেসার কমতে থাকে। যাত্রীদের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। বেরিয়ে আসে অক্সিজেন মাস্ক। কিন্তু সেই মাস্ক পরে আরও ভয়ানক অবস্থায় পড়েন যাত্রীরা।

যাত্রীদের প্রত্যেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। অন্তত ৩০ জন যাত্রীর নাক এবং কান থেকে রক্ত বের হতে শুরু করে। বাধ্য হয়ে বিমানটিকে মুম্বাই বিমান বন্দরে ফিরিয়ে আনা হয়। অসুস্থ যাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ডব্লিউ ৬৯৭ ফ্লাইটের ক্রু সদস্যরা ভুল করে একটি সুইচ চাপার কারণেই এমন মারাত্মক ঘটনা ঘটেছে।

কেবিনের এয়ার প্রেসার স্বাভাবিক রাখতে যে সুইচ চাপার কথা তার বদলে অন্য সুইচ চাপা হয়েছিল। এই ঘটনায় ক্ষমা চেয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে জেট এয়ারওয়েজ। এই ঘটনার তদন্ত চলছে।

সোনার খনি খুঁড়তে গিয়ে মিলল আরো দামি যে সম্পদ

কানাডার উত্তর-পশ্চিমে সোনার খনি। আর ইয়ুকুনের এই সোনার খনি নিয়েই চলছিল তথ্যচিত্র নির্মাণের কাজ। ছিল খনির কর্মীরাও। সেই সময় মিলল ৫০ হাজার বছরেরও বেশি প্রাচীন দুটি পশুর মমি।

একটি নেকড়ের ছানা আর একটি ক্যারিবু হরিণের শাবকের মমি মিলেছিল ২০১৬ সালেই। বৃহস্পতিবার একটি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে এলো সেই প্রাণীদের মমিগুলোর ছবি।

রোম, ত্বক, পেশী এগুলো জীবাশ্মের মধ্যে পাওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা নষ্ট হয়নি। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ধরলে বিশ্বের প্রাচীনতম ‘মামিফায়েড টিস্যু’-র মধ্যে পড়বে এটি।

ক্যারিবু শাবকটির ক্ষেত্রে মাথা, দুটি পা ও এবং হাত ও মাথা বাদ দিয়ে ধড়ের সম্পূর্ণ অংশটিই প্রায় এক রকম রয়ে গিয়েছে। আর নেকড়ের ছানাটির ক্ষেত্রে একটুও নষ্ট হয়নি পেশী কিংবা রোম। যেন সদ্য মারা গেছে এই দুটি প্রাণী।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রাণীগুলো তুষার যুগে বিরাজ করত পৃথিবীতে, ঠিক যখন ম্যামথের মতো প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী, প্রাচীন আমলের গন্ডার ও হাতি ছিল পৃথিবীতে।

প্রাচীন যুগের এই প্রাণীগুলো আবিষ্কার কিন্তু ডিসকভারি চ্যানেলের গোল্ড রাশ শোয়ের টোনি বিটসের দল । ফেসবুকে এ কথা তিনি শেয়ারও করে নিয়েছেন। নিমেষের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়। দেড় হাজার জন তা লাইক করেন।

ডেস মোয়েনেস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ জুলিয়ে মিয়েশেন গবেষণা করেছেন এই প্রাণীগুলি নিয়ে। বছর দুয়েক গবেষণার পর এ গুলিকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হল।

এই পশুগুলোর বয়স ৫০ হাজার বছরের বেশি, তা রেডিও-কার্বন ডেটিং পদ্ধতির মাধ্যমে বলা গেলেও তা নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। এই প্রাণীগুলির খাদ্যনালীতে যদি প্রাচীন কোনও ব্যাকটিরিয়া থাকে, করা হবে তার সন্ধান।

একটি প্রাণী অপর প্রাণীটির শিকারই ছিল এ ক্ষেত্রে। তবুও কবে তাদের মৃত্যু হয়েছিল, কী খেত তারা, জিনের গঠনই বা কেমন, এ গুলি জানতে পারলে প্রাচীন স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সম্পর্কে আরো অনেক কিছু জানা সম্ভব হবে।

ডওসন সিটির সংগ্রহশালায় রাখা রয়েছে এই প্রাচীন প্রাণীগুলি। এরা ঘুরত-ফিরত বেরিঞ্জিয়ায়। বেরিঞ্জিয়া প্রাগৈতিহাসিক যুগের একটি স্থলভাগ যা এশিয়া ও উত্তর আমেরিকাকে সংযুক্ত করেছিল।

প্লিস্টোসিন যুগের কিছু পর্বে পৃথিবীর তাপমাত্রা এত নিচে নেমে গিয়েছিল যে ভূ-পৃষ্ঠের বেশির ভাগ জল বরফে পরিণত হয়েছিল। সেই তুষার যুগের (চতুর্থ পর্যায়) প্রাণীগুলোকে দেখতে ভিড় জমছে সংগ্রহশালায়।