একটি মেয়ে সুন্দরী হওয়ার চেয়েও,

0
60

একটি মেয়ে সুন্দরী হওয়ার
চেয়েও,

চরিত্রবান হওয়াটা বেশি জরুরী,
চরিত্রটাই মেয়েদের বড় সম্পদ।

ছবির গল্পকেও সব সময় জীবনের গল্পই হতে হয়

লক একটানা প্রায় দুই ঘণ্টা গান করেছেন এ অনুষ্ঠানে। তাঁর গানের নির্বাচনে ছিল বৈচিত্র্যের ছাপ। তিনি ব্যান্ডের গান, আধুনিক গান, লোকগান সবই পরিবেশন করেছেন এ অনুষ্ঠানে। নিজের গানের পাশাপাশি গেয়েছেন অন্যের জনপ্রিয় গান। তাঁর পরিবেশিত উল্লেখযোগ্য গানের মধ্য ছিল ‘আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে মনে পড়ল তোমায়’, ‘তুই ছাড়া বল কী আর বাঁচা’, ‘অন্তরে অন্তরে মওলা তোমার ঘর’ ইত্যাদি।

তাঁর কণ্ঠ সুরেলা এবং গানও করেছেন সব সুরেই। তাঁর গায়কির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যের কথা বললে প্রথমেই বলব, তিনি সব গানই করেছেন বেশ উঁচু পর্দায়। উঁচু পর্দায় তাঁর কণ্ঠের ওঠানামা ছিল বেশ সাবলীল। কিন্তু সে তুলনায় নিচু পর্দায় তাঁর কণ্ঠের চলন অতটা সাবলীল মনে হয়নি। আরেকটা সমস্যা দেখা গেছে মাইক্রোফোনের ব্যবহারে। বিশেষ করে তিনি যখন কথা বলছিলেন, তখন প্রথম দিকে তাঁর কথা প্রায় বোঝাই যায়নি। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি যখন মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে কথা বলেছেন এবং গান করেছেন, তখন সমস্যা অনেকটাই কেটে গেছে। অনুষ্ঠান সম্পর্কে সংক্ষেপে বলব, তরুণ শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘ইচ্ছে গানের দুপুর’ অনুষ্ঠানটি বেশ জনপ্রিয় ও দর্শকনন্দিত। অনুষ্ঠানের নামকরণও বেশ কাব্যিক এবং আকর্ষণীয়। আমরা মনে করি বাংলা গানের অনুষ্ঠানের নামকরণ এমনই হওয়া উচিত।Eprothomalo

২৬ জুলাই রাত ১১টায় এটিএন-এ প্রচারিত হলো সাপ্তাহিক টেলিছবি যাবজ্জীবন। রচনা শফিকুর রহমান শান্তনু, পরিচালনা করেছেন কায়সার আহমেদ এবং অভিনয় করেছেন শখ, নিলয়, অ্যানি প্রমুখ। টেলিছবির গল্পে দেখানো হয়েছে জিকো প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার আর শুভ বিরাট ব্যবসায়ী। দেশে-বিদেশে তার ব্যবসা। মালয়েশিয়ায় তার মার্কেটের ফটোশুট করার জন্য শুভ জিকোকে দায়িত্ব দেয়। পাশাপাশি তার স্ত্রী রায়নার সঙ্গে তার ডিভোর্স মোকাবিলার জন্যও সে জিকোর সাহায্য নেয়। কিন্তু রায়নার সঙ্গে রয়েছে জিকোর পূর্ব পরিচয় ও প্রণয়। আবার এদিকে নৃত্যশিল্পী ও মডেল রিনির সঙ্গেও দেখানো হয় জিকো এবং শুভর প্রেমের দ্বন্দ্ব। শেষে শুভ রিনিকে বিয়ে করতে চায় কিন্তু রিনি জিকোকেই ভালোবেসে ফেলে। অতঃপর রিনি শুভকে প্রত্যাখ্যান করে চিঠি লিখে চলে যায়। জিকোও শুভর টাকার লোভ প্রত্যাখ্যান করে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ইত্যাদি ইত্যাদি। এককথায় বলব, গল্পের কোনো আগামাথা নেই। আর গল্পের বুনন ও সংলাপ যেভাবে রচনা করা হয়েছে তা দেখে একবারও টেলিছবিটিকে আমাদের জীবনের গল্প মনে হয়নি, মনে হয়েছে সস্তা সিনেমার গল্প। সুন্দর কিছু স্থান ও সুন্দর কিছু দৃশ্য দেখানোর জন্য লেখক ও নির্মাতা গল্প সাজিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে তার সম্পর্ক হলো কি না, দর্শকের কাছে তা বিশ্বাসযোগ্য হলো কি না, সেদিকে খেয়াল রাখেননি। এ ছাড়া সংলাপ নাটক ও টেলিছবির প্রাণ। এ ক্ষেত্রেও লক্ষণীয় যে টেলিছবিটিতে যেমন অগোছালো প্রেম দেখানো হয়েছে, তেমনি দেওয়া হয়েছে অন্তঃসারশূন্য কিছু প্রেমের সংলাপ। যা না হয়েছে বাস্তবানুগ, না হয়েছে মর্মস্পর্শী। শেষে বলব, সুন্দর কিছু দৃশ্যায়ন ছাড়া ছবিটির কাহিনি, সংলাপ এবং অভিনয় কোনোটিই দর্শকহৃদয় স্পর্শ করতে পারেনি। আর টেলিছবিটির নাম কেন যাবজ্জীবন রাখা হলো, তাও বুঝলাম না।

২৭ জুলাই রাত ১০টায় মাহমুদুর রহমানের রচনা ও পরিচালনায় ইটিভিতে প্রচারিত হলো এ সপ্তাহের নাটক আনমনে তুমি। অভিনয়ে অপূর্ব, মম, প্রিয়া বিপাশা, সাব্বির হাসান প্রমুখ।

সংক্ষেপে নাটকের গল্পটি হলো, হাসপাতালে ভর্তি দুজন রোগী অপূর্ব ও মম। দুজনই মারাত্মক রোগে আক্রান্ত। অপূর্বর কিডনি বিকল আর মমর ব্রেন টিউমার। হাসপাতালেই দুজনের পরিচয় হলো, তারপর হাসপাতালেই লুকিয়ে লুকিয়ে দুজনের দেখা করা, গল্প করা। এরপর হাসপাতাল থেকে পালিয়ে তাদের বাইরে ঘুরে বেড়ানো, বৃষ্টিতে ভেজা, ফুটবল খেলা, আবার হাসপাতালে ফিরে আসা। এর মাঝে দুজন দুজনের রোগ নিয়ে রসিকতা করেছে, বন্ধু ডাক্তারের চোখ ফাঁকি দিয়ে আবার বাইরে গেছে। শেষে দেখানো হয়েছে অপারেশনের পর চাদরে ঢাকা মমকে ট্রলিতে নিয়ে যাচ্ছে, পাশে অপূর্ব কান্নায় ভেঙে পড়ছে। অপূর্বর কাঁধে হাত রাখছে তার স্ত্রী।

প্রথমেই বলব, বাস্তবতা থাক আর নাই থাক, নাটকটি বেশ মজারই হয়েছে। ঘটনাপ্রবাহ, চিত্রনাট্য, সংলাপ, অভিনয়, সবই ছিল বেশ মজার। বিশেষ করে অপূর্ব ও মমর অভিনয় ছিল অনবদ্য। কিন্তু দুর্ভাগ্য, নাটকটি মোটেও বাস্তবসম্মত হয়নি। এমন কঠিন রোগে আক্রান্ত দুজন রোগীর হাসপাতালে পরিচয় ও প্রণয়টাও না হয় মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু হাসপাতাল থেকে পালিয়ে ডেটিং করা, বৃষ্টিতে ভেজা, ফুটবল খেলা, মোটেই বাস্তব বলে মেনে নেওয়া যায় না। এ ছাড়া এমন দুজন রোগী, অথচ তাদের কোনো আপনজন বা আত্মীয়স্বজনকে দেখানো হয়নি। আবার হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা এবং তদারকিও দেখানো হয়েছে বড়ই কৃত্রিম। তাই শেষে বলব, নাটকটি মজার হলেও বাস্তবসম্মত হয়নি। আর দর্শকের চোখে মজা লাগলেও, মনে দাগ কাটেনি।

৩০ জুলাই রাত ৯টায় তানিয়া হকের উপস্থাপনায় এশিয়ান টিভিতে প্রচারিত হলো রূপচর্চাবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘ঈপ্সিতা’স মেকওভার’। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রূপ বিশেষজ্ঞ ফারজানা রহমান ও অভিনেত্রী নাফিসা চৌধুরী। এ দিনের আলোচনায় বিশেষভাবে স্থান পায় চোখের মেকআপ। এ সম্পর্কে রূপ বিশেষজ্ঞ ফারজানা রহমান ও অভিনেত্রী নাফার উপলব্ধি ও মতামত তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে এবং তাঁদের মতামতের আলোকে একজন মডেলের চোখের মেকআপও দেখানো হয়। এককথায় বলা যায়, অনুষ্ঠানটি সৌন্দর্য সচেতন নারীদের জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয়।

বৈশাখী টিভির একটি সংক্ষিপ্ত সংগীতানুষ্ঠানের নাম ‘গোল্ডেন সং’। আফরিন অথৈর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হলো ৩০ জুলাই রাত ৮টায়। এ দিন শিল্পী ছিলেন মং উচিত মারমা। ক্ষুদ্র জাতিসত্তার একজন শিল্পীর কণ্ঠে বাংলা গান শুনতে ভালোই লাগছিল। কিন্তু বারবার মনে হয়েছে মংয়ের বোধহয় তালে কিছুটা সমস্যা। এ ছাড়া ‘চলো না ঘুরে আসি অজানাতে’ গানটি পরিবেশনের সময় তিনি বাণী ভুলে গেলেন। এটি নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। তাঁর অন্তত দুঃখ প্রকাশ করা উচিত ছিল। আর শেষ গান ‘পৃথিবী বদলে গেছে’ অর্ধেকও হলো না উপস্থাপক ইতি টেনে দিলেন, এটা কেমন হলো। আর অনুষ্ঠানের নাম ‘গোল্ডেন সং’ কেন রাখা হলো তাও বুঝলাম না।