পেট্রোল ঢেলে পুলিশ কর্মকর্তাকে পুড়িয়ে হত্যা, ৩ নারীসহ গ্রেফতার ৪

0
80

পেট্রোল ঢেলে- পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মামুন ইমরান খান হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন নারীসহ ৪ আসামীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

বুধবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাতে রাজধানীর বাড্ডা ও হাজারিবাগ এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আসামিরা হলো, মিজান শেখ, মেহেরুন্নেসা স্বর্ণা ওরফে আফরিন, সুরাইয়া আক্তার ওরফে কেয়া এবং ফারিয়া বিনতে মীম। বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৮ জুলাই সবুজবাগ এলাকার বাসা থেকে বনানী গিয়ে নিখোঁজ হন পুলিশের বিশেষ শাখার ইন্সপেক্টর মামুন ইমরান খান। পরদিন তার বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম খান বাদী হয়ে সবুজবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের খিলগাঁও জোনাল টিম রহমত উল্ল্যাহ নামে মামুনের এক বন্ধুকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্য মতে ওই দিনই গাজীপুরের কালীগঞ্জের উলুখোলা রাইদিয়া এলাকার রাস্তার পাশে নির্জন একটি বাঁশঝাড় থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা হয় একটি হত্যা মামলা। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পরদিন রহমত উল্ল্যাহকে আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রহমত উল্যাহকে গ্রেফতারের পরই মামুনকে হত্যাকাণ্ডের পুরো চিত্র জানতে পারে পুলিশ।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। এরপর ধারাবাহিক অভিযানে একে একে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া এবং লাশ গুমের সঙ্গে জড়িত সবাইকে গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। ঘটনার পরপরই আসামিরা পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার পরপরই প্রথম গ্রেফতার হওয়া রহমত উল্ল্যাহর সূত্র ধরে প্রথমে যার জন্মদিনের কথা বলে মামুনকে বনানীর ২/৩ সড়কের ৫ নম্বর ভবনের এ-২ ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কথিত সেই নারী মডেল মেহেরুন্নেসা ওরফে শেখ আন্নাফি ওরফে আন্নাফি আফরিনকে গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় আনা হয়।

পরে ওই বাসাটিতে যে দেহব্যবসা ও অশ্লীল ছবি তুলে প্রতারণার ফাঁদ বসিয়েছিল সেই শেখ হৃদয় এবং তার স্ত্রী কথিত মডেল ও অভিনেত্রী সুরাইয়া আক্তার কেয়াকে আটক করা হয়।

তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একে একে আটক করা হয় মিজান, আতিক, রবিউল, ফারিয়া বিনতে মীম ওরফে মাইশাকে। বনানীর ওই বাসাটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ আদায় করার উদ্দেশ্যে।

একারণে ওই বাসায় কোনও ফার্নিচার ছিল না। এই চক্রটি সাধারণত কয়েক মাস ব্যবহারের পর অন্য কোনও এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে একই অপরাধ করে বেড়ায়। শেখ হৃদয় হলো এই গ্রুপের প্রধান।

নজরুল ইসলাম ওরফে নজরুল রাজ নামে এক ব্যক্তি নিজের নামে বাসা ভাড়া নিয়ে শেখ হৃদয়কে দিয়ে এসব কাজ করাতো। হৃদয় তার স্ত্রী কথিত মডেল ও অভিনেত্রী কেয়া, আন্নাফি আফরিন ও আফরিনের বোন মাইশা ওরফে মিমকে ব্যবহার করতো টোপ হিসেবে।

বাসায় সার্বক্ষণিক দেখভাল করার জন্য নিয়োজিত ছিল দিদার। আর একটি শৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক তিন সদস্য আতিক, মিজান ও স্বপন নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতো এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়ের কাজটি করতো।

তারণার অর্থ দুই ভাগ করে এক ভাগ শেখ হৃদয়কে আর অপর অংশ এই তিন জন নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিত। হৃদয়ের ভাগের অংশ থেকে দেওয়া হতো কথিত তিন নারী মডেল ও অভিনেত্রীকে। এর আগে ওই বাসাতে আরও কয়েক ব্যক্তিকে ডেকে নিয়ে অশ্লীল ছবি তুলে অর্থ আদায় করেছিল বলে আটকরা স্বীকার করেছে।

এদিকে জিজ্ঞাসাবাদে রহমত উল্লাহ্ দাবি করেছে, সংঘবদ্ধ এই চক্রটি তাকে টার্গেট করেছিল। কিন্তু তার সঙ্গে মামুন ওই বাসায় ঢোকায় তাদের দুজনের ওপরেই চড়াও হয়। এক পর্যায়ে মারধরের কারণে মামুন মারা গেলে সে নিজে বাঁচতে চক্রের সদস্যদের সঙ্গে মিলে লাশ গুমে অংশ নেয়।

এমনকি বনানীর ওই ফ্ল্যাট থেকে বস্তায় ভরে নিজের গাড়িতে করে লাশ নিয়ে গাজীপুরে যায়। তার সঙ্গে লাশ গুমে আতিক, স্বপন ও মিজান অংশ নিয়েছিল।

গাজীপুরের একটি পেট্রোল পাম্প থেকে ৭ লিটার তেল কেনে। লাশটি যখন নির্জন সেই বাঁশঝাড়ে ফেলা হয় তখন সে নিজের হাতে বস্তায় তেল ঢালার কথা স্বীকার করেছে। এসময় আতিক লাশের বস্তায় আগুন লাগিয়ে দেয়।

যে বিষয়গুলো জানা থাকলে মাছ কেনায় কখনো ঠকবেন না…

মাছ কিনতে গিয়ে ঠকে আসেন নি বা দোকানী পচা মাছ গছিয়ে দেয়নি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। যতই ফরমালিন বা রঙ দেওয়া হোক না কেন, টাটকা ও ওষুধ মুক্ত মাছ চিনে নেওয়ার জন্য কৌশল আছে। এই ৯টি কৌশল প্রয়োগ করতে পারলে জীবনে আর কখনো মাছ কিনে ঠকতে হবে না আপনাকে।

টাটকা মাছের চোখ সবসময় স্বচ্ছ হবে। একদম ঝকঝকে চোখ হবে, দেখলে মনে হবে মাছটি জীবন্ত। সময়ের সাথে সাথে এই চোখ ঘোলাটে, মৃত হয়ে আসে।

যত সময় যায়, চোখ তত নিষ্প্রাণ। ফরমালিনে মাছের মাংস পচে না ঠিকই, কিন্তু চোখের জীবন্ত ভাব নষ্ট হওয়া ঠেকানো যায় না। চোখ দেখলেই চিনে নিতে পারবেন তাজা মাছ।

টাটকা মাছ কখনোও শক্ত হবে না, আবার নরমও হবে না। তাজা মাছ হবে “বাউন্সি”। যদি আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে দেখেন যে মাছ একদম শক্ত, বুঝবেন যে সেটা ফ্রিজে রাখা ছিল।

আর যদি আঙ্গুল দিলেই দেবে যায় ভেতরে, বুঝবেন মাছের বয়স হয়েছে। তাজা মাছে আপনি আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে দেবে যাবে। কিন্তু আঙ্গুল সরিয়ে নিলেই জায়গাটা ঠিক হয়ে যাবে।

মাছের কানকো দেখাটা টাটকা মাছ চেনার একটা ভালো উপায়। যদিও মাছের কানকোতে এখন রঙ মিশিয়ে রাখেন দোকানিরা। তাই শুধু কানকো দেখে মাছ কিনবেন না। জেনে রাখুন, টাটকা মাছের কানকো হবে তাজা রক্তের রঙের এবং পিচ্ছিল, স্লাইমি ভাব থাকবে।

চোখ আর কানকো দেখার পর মাছের শরীর দেখুন। মাছের শরীর কি চকচকে আর উজ্জ্বল রূপালি রঙের? বিশেষ করে সুপারশপের মাছে দেখবেন চকচকে রূপালি রঙের বদলে হলদে, লালচে বা অন্য রঙের আভা দেখা যায় মাছের গায়ে।

এতে বুঝে নেবেন যে মাছটি অতি অবশ্যই অনেকদিনের পুরনো। তাজা মাছ চকচক করবে, সময় যাওয়ার সাথে সাথে চকচকে ভাব একেবারেই ম্লান হয়ে যাবে তা সে যতই ফরমালিন দেয়া হোক না কেন।

তাজা মাছের গন্ধ হবে জলের মত, সামুদ্রিক মাছ হলে সমুদ্রের মত। শসার গন্ধের সাথেও মিল পেতে পারেন। যে মাছ থেকে বাজে গন্ধ আসবে, সেটা নিঃসন্দেহে তাজা মাছ নয়।

চিংড়ি মাছের ক্ষেত্রে কিন্তু পদ্ধতি ভিন্ন। যদি চিংড়ী মাছের খোসা শক্ত আর ক্রিসপি থাকে, তাহলে মাছ তাজা। যদি খোসা নরম আর নেতিয়ে পড়া হয়, তাহলে মাছ ভালো নয়।

সুপার শপের কেটে রাখা মাছ বা ফিশ ফিলে কিনতে চান? কাটা মাছের রঙ লক্ষ্য করুন। টাটকা মাছের মাংস হবে উজ্জ্বল রঙের। রঙ যত বিবর্ণ, মাছ তত পচা।

বাজারে কেটে ভাগা দেওয়া মাছ কিনবেন? ভালো করে লক্ষ্য করুন মাছের আশেপাশে কোন সাদা বা ফ্যাকাশে রঙের জল আছে কিনা। যদি থাকে, বুঝবেন মাছ ভালো নয়। টাটকা মাছের আশেপাশে স্বচ্ছ জল থাকবে।

জিয়ল মাছ যেমন শিং, মাগুর, শোল ইত্যাদি কিনতে গেলেও সাবধান। আজকাল দোকানিরা মরা জিয়ল মাছকেও টাটকা বলে ধরিয়ে দেন। জিয়ল মাছ যদি ট্রের মধ্যে ছটফট করে তাহলে সেই মাছ কিনুন। আগে থেকে বের করে ট্রে-তে সাজিয়ে রাখা মাছ নয়।