স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে গোসল করার সুফল জানেন কি? জেনে নিন!

0
235

স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে- সম্প্রতি একটি গবেষণায় একটি চাঞ্চল্য কিন্তু মজাদার তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, যে দম্পতি বা স্বামী স্ত্রী একসঙ্গে গোছল করেন তারা বেশিদিন ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারি হয়ে বেঁচে থাকেন এবং তাদের সংসারে সুখ শান্তি বিরাজ করে।

না এ কোনও হেয়ালি কথা নয়। এর পিছনে অনেকগুলো বৈজ্ঞানিক ও মানসিক কারণ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনার সঙ্গীর সঙ্গে এক সঙ্গে গোসল করলে সম্পর্ক মজবুত হয়, মানসিক ও শারীরিকভাবে আপনি সুস্থ থাকবেন।

একসঙ্গে গোসল করুন। একসঙ্গে গোসল করার পিছনে অনেক ইতিবাচক কারণ রয়েছে। যার জন্য আপনারও উচিত আপনার সঙ্গীর সঙ্গে সপ্তাহে একবার অন্তত একসঙ্গে গোসল করা। সেই কারণগুলো কী জেনে নিন।

ত্বকের সমস্যা : আপনার সঙ্গীর চোখে আগে পড়ে একসঙ্গে গোসল করার ফলে আপনার শরীরের সেই সব জায়গা নজর করতে পারেন যা আপনার চোখে যায় না এবং ঢাকা থাকায় অন্য কারোর নজর যাওয়াও সম্ভব নয়।।

যেমন ঘাড়, পিঠ, নিতম্ব ইত্যাদি। যদি এই সব জায়গার চামড়ায় কোনও সমস্যা হয় তাহলে তা সবার আগে আপনার সঙ্গীর চোখে পড়ে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শও প্রাথমিক স্তরেই নিতে পারবেন।

দুশ্চিন্তামুক্ত করে : আপনি যখন আপনার ভালবাসার মানুষটির সঙ্গে একসঙ্গে গোসল করেন, তখন শরীর স্পর্শ হবে এটা খুবই স্বাভাবিক। তখন মস্তিষ্ক শরীরকে সিগন্যাল দেয় চিন্তামুক্ত হওয়ার। ফলে শরীর এই সময় অনেক বেশী রিল্যাক্স হয়। যা অত্যন্ত প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর জীবন-যাপনের জন্য।

আপনার শরীর সম্পর্কে আপনাকে আরও যত্নবান করে : একসঙ্গে গোসল করার সবচেয়ে বড় সুফল হল, শরীরের যে সব জায়গায় আপনি নিজে স্ক্রাব করতে পারেন না বা সাবান লাগাতে পারেন না সেই জায়গায় আপনার সঙ্গী আপনার হয়ে এগুলো করে দিতে পারে। এরফলে ত্বক আরও স্বাস্থ্যকর হয়।

আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে : একটা সম্পর্কে দু’জনেরই আত্মবিশ্বাস থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। একসঙ্গে গোছল করে দুটি মানুষ আরও কাছে আসে। সম্পর্ক আরও মজবুত হয়, বিশ্বাস তৈরি হয়, এবং এই সম্পর্ক নিয়ে আপনার আত্মবিশ্বাসও ক্রমে বাড়তে থাকে।

হার্টের জন্য ভাল : হৃদযন্ত্রের সমস্যা আজকাল ঘরে ঘরে। এটি স্বাভাবিক বিষয়। আপনার সঙ্গীর সঙ্গে একসঙ্গে গোসল করাটা এক্ষেত্রে খুবই ফলপ্রসু।

কারণ একসঙ্গে গোসল করলে, তা আপনার হৃৎস্পন্দর বৃদ্ধি করে এবং হৃৎপিন্ডকে আরও সহজ ও স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। এর ফলে যে কোন অসুখ থেকে আপনার হৃদয় সুরক্ষিত থাকে। হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও কমে।

শারীরিক মিলন আরও উন্নতমানের করে : শুধু শারীরিক মিলনই যে শরীরে শারীরিক হরমনোর ক্ষরণ করে তা নয়। শরীরের উন্মুক্ত অংশে অপর লিঙ্গের ব্যক্তির ত্বকের স্পর্শের জেরেও শরীরে ‘লাভ হরমোন’ মুক্ত হয়। যা আমাদের মনকে আনন্দ দেয় এবং শারীরিক মিলনকে আরও উন্নত করে।

প্রকৃত ভদ্র মেয়ে চেনার যে ৮টি বৈশিষ্ট্য

ভদ্র মেয়েরা হচ্ছে সমাজের সৌন্দর্য। একজন ভদ্র মেয়ে তার পরিবারের ও সমাজের জন্য গর্ব। বর্তমান আধুনিক যুগে প্রায় সব মেয়েই নিজেকে অত্যাধুনিক মনে করে থাকেন।

মূলত সে কারণেই অনেকেই বিভিন্ন ধরণের কুরুচিপূর্ণ পোশাক পরে নিজেকে অত্যাধুনিক হিসেবে উপস্থাপনের নোংরা খেলায় মেতে রয়েছে। তাই ভদ্র মেয়ে মানুষ চিনে রাখা সবার জন্যেই দরকার। তাই ভদ্র মেয়েদের কিছু কমন বৈশিষ্ট্য নিচে তুলে ধরা হলো:

.ভদ্র মেয়েরা সর্বপ্রথম তাদের পোশাক নিয়ে খুব সচেতন থাকে। এমন কিছু পরে না যাতে করে বাহিরের কেউ চোখ তুলে তাকাতে সাহস করে। অনেকে বোরখা পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

.ভদ্র মেয়েরা প্রেমের ব্যাপার নিয়ে খুব সিরিয়াস থাকে। তারা সচারচর প্রেমে জড়াতে চাই না, কিন্তু যদি কারো সাথে প্রেমে জড়িয়ে যায়, তাহলে মন প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করে তা টিকিয়ে রাখতে।

.ভদ্র মেয়েরা সবসময় বন্ধু, পরিবার এবং বয়ফ্রেন্ডকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেয়। একটির জন্য অপরটির উপর প্রভাব পরুক তা তারা চাই না। যার জন্য তাদের ঝামেলা পোহাতে হয় বেশি।

.ভদ্র মেয়েদের রাগ একটু বেশি। যার উপর রেগে যায় তাকে মুখের উপর সব বলে দেয়। মনে কোনও রকম রাগ, হিংসে লুকিয়ে রাখে না। এতে অনেকের কাছে ঝগড়াটে উপাধিও পেয়ে বসে।

.ভদ্র মেয়েদের রাগের ঝামেলা পোহাতে হয় বিশেষ করে তাদের বয়ফ্রেন্ডকে। এরা রেগে থাকলে অযথা বয়ফ্রেন্ডকে ঝাড়ে। পরবর্তীতে নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে সরি বলে। যে মেয়ে তার বয়ফ্রেন্ডকে সরি বলে তাহলে বুঝতে হবে সে তার বয়ফ্রেন্ডকে খুব বেশি ভালোবাসে।

.ভদ্র মেয়েরা সাধারণত ফেসবুকে ছবি আপলোড দেয় না। যদি দেয় তাহলে প্রাইভেসি দিয়ে রাখে। ফেসবুকে কতিপয় লুলু পুরুষ থেকে তারা ১০০ হাত দূরে থাকে।

.ভদ্র মেয়েদের বন্ধু/বান্ধবের সংখ্যা খুব সীমিত থাকে। ভদ্র মেয়েরা আড্ডা বাজিতে খুব একটা যেতে চায় না। যার জন্য তাদের বন্ধু/বান্ধব থেকে ভাব্বায়ালি/আনকালচার খেতাব পেতে হয়।

.ভদ্র মেয়েদের কবিতা লেখার প্রতি আগ্রহ বেশি। তারা তাদের লেখা কবিতা সচরাচর কাছের মানুষ ছাড়া কাউকে দেখাতে চায় না। ভদ্র মেয়েরা সাধারণ ঘর কুনো স্বভাবের বেশি হয়। ভদ্র মেয়েদের কাছে পরিবারের সম্মানটুকু সবার আগে। তারা পরিবারের সম্মানের বিরুদ্ধে কোনও কাজ কখনও করে না।

১৫০০ বছর বেঁচে আছে রাসুল (সঃ) এর সাক্ষাৎপ্রাপ্ত বেঁচে থাকা একমাত্র এই সাহাবী গাছ

আজ ও বেঁচে আছে বিস্ময়কর ১৫০০ বছর আগের রাসুল (সঃ) এর সাক্ষাৎপ্রাপ্ত বেচে থাকা একমাত্র সাহাবী গাছ। ইংরেজিতে এ গাছকে বলা হয় (The Blessed Tree). শুনতে অবাক লাগলেও কিন্তু বেঁচে আছে গাছটি।

পৃথিবীতে এত পুরনো কোনো গাছ এখনো বেঁচে আছে তা বিশ্বাসযোগ্য না হলেও কিন্তু সত্যি। সাহাবি গাছ এমনই একটি গাছ যে গাছটি অবিশ্বাস্যভাবে শত বর্গ কিলোমিটারজুড়ে মরুভূমিতে গত ১৫০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে। দেখতে খুবই সুন্দর গাছটি।

মরুভূমির রুক্ষ পরিবেশের কারণে জন্ম থেকেই গাছটি ছিল পাতাহীন শুকনো কিন্তু একসময় আল্লাহর হুকুমে গাছটি সবুজ পাতায় ভরে উঠে এবং আজ পর্যন্ত গাছটি সবুজ শ্যামল অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।

অবিশ্বাস্য এই গাছটি জর্ডানের মরুভূমির অভ্যন্তরে সাফাঈ এলাকায় দণ্ডায়মান। জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ সর্বপ্রথম এই স্থানটিকে পবিত্র স্থান হিসেবে ঘোষণা দেন।

৫৮২ খ্রিস্টাব্দে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর বয়স তখন ১২ বছর, তিনি তার চাচা আবু তালিবের সঙ্গে বাণিজ্য উপলক্ষে মক্কা থেকে তৎকালীন শাম বা সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

যাত্রাপথে তারা সিরিয়ার অদূরে জর্ডানে এসে উপস্থিত হন। জর্ডানের সেই এলাকাটি ছিল শত শত মাইলব্যাপী বিস্তৃত উত্তপ্ত বালুকাময় এক মরুভূমি। মোহাম্মদ (সা.) এবং তার চাচা আবু তালিব মরুভূমি পাড়ি দেয়ার সময় ক্লান্ত হয়ে পড়েন।

তখন তারা একটু বিশ্রামের জায়গা খুঁজছিলেন। কিন্তু আশপাশে তারা কোনো বসার জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। চারদিকে যত দূর চোখ যায় কোনো বৃক্ষরাজির সন্ধান পাচ্ছিলেন না।

কিন্তু দূরে একটি মৃতপ্রায় গাছ দেখতে পেলেন তারা। উত্তপ্ত মরুভূমির মাঝে গাছটি ছিল লতাপাতাহীন শীর্ণ ও মৃতপ্রায়। উপায় না পেয়ে তারা মরুভূমির উত্তাপে শীর্ণ পাতাহীন সেই গাছটির তলায় বিশ্রাম নিতে বসেন।

উল্লেখ্য, রাসূল মোহাম্মদ (সা.) যখন পথ চলতেন তখন আল্লাহর নির্দেশে মেঘমালা তাকে ছায়া দিত এবং বৃক্ষরাজি তার দিকে হেলে পড়ে ছায়া দিত।

মোহাম্মদ (সা.) তার চাচাকে নিয়ে যখন গাছের তলায় বসেছিলেন তখন তাদের ছায়া দিতে আল্লাহর নির্দেশে মৃতপ্রায় গাছটি সজীব হয়ে উঠে এবং গাছটির সমস্ত ডালপালা সবুজ পাতায় ভরে যায়।

সেই গাছটিই বর্তমানে সাহাবি গাছ নামে পরিচিত। এ ঘটনা দূরে দাঁড়িয়ে জারজিস ওরফে বুহাইরা নামে একজন খ্রিস্টান পাদ্রি সবকিছু দেখছিলেন। আবু তালিব মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে পাদ্রীর কাছে গেলে তিনি বলেন, আমি কোনোদিন এই গাছের নিচে কাউকে বসতে দেখিনি।

পাদ্রী বলেন, গাছটিও ছিল পাতাহীন কিন্তু আজ গাছটি পাতায় পরিপূর্ণ। এই ছেলেটির নাম কি? চাচা আবু তালিব উত্তর দিলেন মোহাম্মদ! পাদ্রী আবার জিজ্ঞাসা করলেন, বাবার নাম কি? আব্দুল্লাহ!, মাতার নাম? আমিনা!

বালক মোহাম্মাদকে (সা.) দেখে এবং তার পরিচয় শুনে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন পাদ্রীর চিনতে আর বাকি রইল না যে, এই সেই বহু প্রতীক্ষিত শেষ নবী মোহাম্মদ।

চাচা আবু তালিবকে ডেকে পাদ্রী বললেন, তোমার সঙ্গে বসা বালকটি সারা জগতের সর্দার, সারা বিশ্বের নেতা এবং এই জগতের শেষ নবী। তিনি বলেন, আমি তার সম্পর্কে বাইবেলে পড়েছি এবং আমি ঘোষণা দিচ্ছি, এই বালকটিই শেষ নবী।

চাচা আবু তালিব ও মহানবী (সা.) যেই গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিয়েছিলেন সেই গাছটি ১৫০০ বছর আগ যে অবস্থায় ছিল আজো সেই অবস্থায় জর্ডানের মরুভূমিতে দাঁড়িয়ে আছে।

গাছটি সবুজ লতা-পাতায় ভরা এবং সতেজ ও সবুজ। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, গাছটি যেখানে অবস্থিত তেমন মরুদ্যানে কোনো গাছ বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। গাছটির আশপাশের কয়েকশ’ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে আর কোনো গাছ নেই।

গাছটির চারিদিকে দিগন্ত জোড়া শুধুই মরুভূমি আর মরুভূমি। উত্তপ্ত বালুকাময় মরুভূমির মাঝে গাছটি দাঁড়িয়ে থেকে আল্লাহর অসীম ক্ষমতার সাক্ষ্য দিয়ে যাচ্ছে। সেইসঙ্গে মহানবী রাসূল মোহাম্মদের (সা.) স্মৃতি আঁকড়ে ধরে রেখেছে, যা আল্লাহ তা’য়ালার কুদরতি ক্ষমতার উৎকৃষ্ট নিদর্শন।