একটানা চার ঘন্টা অন্ধকার ঘরে অপারেশন করল ‘জিন’

0
206

চার ঘন্টা অন্ধকার ঘরে- আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে এক নারীর মাথার টিউমার অপারেশন করেছে জিনেরা। এমন দাবি করে জিনের মাধ্যমে সব ধরনের রোগের চিকিৎসা করানোর ঘোষণা দিয়েছেন সাজিদা খাতুন নামের এক নারী ও তার পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা কালিয়ানি গ্রামে। গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রচার করা হয়। ওই নারীর মাথায় ব্যান্ডেজ লাগানো হয়েছে। তবে এটিকে টাকা কামানোর নতুন ফন্দি বলে দাবি করেছে স্থানীয়রা।

সাজিদা খাতুন কালিনি গ্রামের মৃত আব্দুল সর্দারের মেয়ে। তাকে কলারোয়ার জহুরুল ইসলামের সঙ্গে কয়েক বছর আগে বিয়ে দেয়া হয়।

সাজিদার মা ফিরোজা বেগমের দাবি, তিন বছর ধরে তার মেয়ের মাথায় জ্বালা-যন্ত্রণা করছিল। ওষুধ খেয়ে ভালো হচ্ছিল না। মেয়ের মাথায় যে টিউমার হয়েছে তার কোনো ডাক্তারি রিপোর্ট নেই।

জিনেরা বলেছে মাথার ভেতরে টিউমার অপারেশন না করলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মেয়ের মতামতের ভিত্তিতে জিনেরা টিউমার অপারেশন করেছে।

শুক্রবার রাত ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত অন্ধকার ঘরে চলে অপারেশনের কাজ। অপারেশনের সময় যন্ত্রপাতির শব্দ আমিও শুনেছি। ভয় পাব বলে রক্ত ও টিউমার আমাদের দেখানো হয়নি। তবে রক্তমাখা ব্লেড ও তুলা দেখেছি।

সাজিদা খাতুন বলেন, আমি এখন বাপের বাড়িতে অবস্থান করছি। জিনেরা অপারেশন করার পর থেকে আমার মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা। ছবি তোলা যাবে না। জিনদের বারণ আছে। অপারেশনের পরে এখন সুস্থতাবোধ করছি।

সাজিদার দাবি, ৭-৮ বছর ধরে অামার সঙ্গে জিন রয়েছে। তারা আমাকে রোগী দেখতে বলেছে। এখন জিনের মাধ্যমে আমি নিয়মিত রোগী দেখব।

সাজিদার পাশের বাড়ির বাসিন্দা আনোয়ার বলেন, কলারোয়ায় থানা পুলিশের চাপ থাকায় স্বামী-স্ত্রী পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাপের বাড়িতে রোগী দেখবে। তবে জিনের বিষয়টি সত্য কি-না জানি না।

বাগআঁচড়া সাকিসিরিব মেডিকেল সেন্টারের মেডিকেল অফিসার ডা. মমতাজ মজিদ বলেন, ধর্ম মতে জিনের অস্তিত্ব আছে ঠিকই। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানে জিনদের অপারেশনের বিষয়টি হাস্যকর।

যে তুচ্ছ কারণে কোটি টাকার সিনেমা ছেড়েছেন এই তারকারা

বলিউড সিনেমা মানে কোটি কোটি টাকার বাজেট। কিন্তু নিজেদের জেদ কিংবা বিতর্কের কারণে মাঝপথে ছবির কাজ ছেড়ে চলে গিয়েছেন অনেক চেনা জানা তাকারা।

এই অভিনেতারা কখনও শিল্পীদের সঙ্গে ঝামেলা। কখনও আবার স্ক্রিপ্ট পছন্দ না হওয়া। আর অনেকেই ইগোর সমস্যার কারণে। আবার রয়েছে বিতর্ক। এসব নানান কারণেই ছবি করার জন্য ‘হ্যাঁ’ করার পরেও ‘না’ করেছেন অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী।

এদের মধ্যে রয়েছেন:

সোনু সুদ

মাঝপথে ‘মণিকর্ণিকা দ্য কুইন অব ঝাঁসি’র কাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন সোনু সুদ। ছবির পরিচালক কৃশ অন্য ছবির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায়, ছবির বাকি অংশের শুটের দায়িত্ব নিয়েছিলেন কঙ্গনা।

ফলে সংবাদমাধ্যমের কাছে সোনু জানিয়েছিলেন, অসুবিধাটা মহিলা পরিচালক নিয়ে নয়। একটা সেটে দু’জন পরিচালকের সঙ্গেই কাজ করতে অভিনেতার আপত্তি রয়েছে।

চিত্রাঙ্গদা সিংহ

‘নওয়াজের সঙ্গে ইন্টিমেট সিন—নৈব নৈব চ!’ এই বলে, ‘বাবুমশাই বন্দুকবাজ’-এর সেট থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী চিত্রাঙ্গদা সিংহ। পরে সেই রোলে পরে অভিনয় করেন বিদিতা বাগ।

এবিষয়ে ছবির পরিচালক জানিয়েছিলেন, ‘নওয়াজের সঙ্গে ইন্টিমেট সিন করতে কোনও অসুবিধা ছিল না চিত্রাঙ্গদার। ওঁর আসল সমস্যা ছিল স্ক্রিপ্ট নিয়ে।’

ঐশ্বরিয়া

২০০৩ সালে ‘চলতে চলতে’ ছবিটিরও শুটিং শুরু করে মাঝপথে ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া। কারণ, সেটে একদিন সালমান চলে এসেছিলেন। আর সেখানে ঐশ্বয়ার সঙ্গে এ নিয়ে বেশ কথা কাটাকাটি হয় সল্লুর। তার পরেই ছবির পরিচালক আজিজ মির্জাকে ছবিটি করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া।

এছাড়া পরিচালক মধুর ভান্ডারকরের ‘হিরোইন’ ছবিতে করিনার জায়গায় প্রথমে অভিনয় করার কথা ছিল ঐশ্বরিয়ার। ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে শুটিং শুরুও করে দিয়েছিলেন মধুর। কিন্তু মাঝপথে পরিচালকের কানে আসে, ঐশ্বরিয়া অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি গোপন করেছিলেন বলেই ঐশ্বরিয়া জায়গায় পরবর্তী কালে করিনাকে ‘হিরোইন’ হিসেবে বেছে নেন পরিচালক।

করিনা

‘কুইন’, ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’, ‘কাল হো না হো’ এই সব ছবিগুলো থেকে মাঝপথেই বেরিয়ে গিয়েছিলেন করিনা। ‘রামলীলা’ ছবিতে প্রথমে ‘হ্যাঁ’ করার পর, শুটিং শুরুর ১০ দিন আগে ফের ‘না’ করে দিয়েছিলেন তিনি। পরিচালক ভন্সালী তীব্র চটেছিলেন। বলেছিলেন, ‘‘সব কিছু তৈরিই ছিল। ১০ দিন আগে করিনার ছেড়ে যাওয়া আমাদের কাছে খারাপ লেগেছে।’’

রেখা

‘ফিতুর’ ছবিতে অভিনয় করার কথা ছিল রেখার। কিন্তু ওই চরিত্রের সঙ্গে নিজের জীবনেরই কিছুটা মিল খুঁজে পাচ্ছিলেন অভিনেত্রী। আর তার কারণেই ‘ফিতুর’ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন রেখা। রেখার জায়গায় ছবিতে অভিনয় করেন তব্বু।

শ্রীদেবী

‘বাহুবলী’তে শিবগামীর চরিত্রের জন্য প্রথমে শ্রীদেবীকেই বেছে ছিলেন পরিচালক এস এস রাজামৌলী। আর এই চরিত্রের জন্য শ্রীদেবী ৬ কোটি টাকা চেয়েছিলেন বলে শোনা যায়। তাতে রাজি হননি রাজামৌলী। ২.৫ কোটি টাকায় শিবগামীর চরিত্রে পরে সাইন করেন দক্ষিণী অভিনেত্রী রাম্যা কৃষ্ণণ।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

সালমান খানের ড্রিম প্রজেক্ট ‘ভারত’-এর জন্য শুটিং শুরু করেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। কিন্তু মাঝপথে নিক জোনাসের সঙ্গে এনগেজমেন্টের জন্য ছবি থেকে বেরিয়ে আসেন। পিগি চপসের দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সালমান।