আপনার কাছে যেসব বিষয় গোপন করে পোশাক বিক্রেতারা, আজ তা জেনে নিন

0
188

যেসব বিষয় গোপন করে- পোশাকের দোকান থেকে পোশাক কেনার সময় আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। যে দেশে আমরা বাস করি এখানে সবসময় সঠিক পণ্য আমাদের হাতে তুলে দেয়া হয় না। একারণে আমাদের সতর্কতার বিকল্প নেই।

পোশাকের দোকানে গিয়ে সেলসম্যানের মিষ্টি ব্যবহার আর কথায় আমরা মুগ্ধ হই। আবার সেখানে এমন কিছু বিষয় থাকে, যা আপনাকে পোশাক কিনতে আকৃষ্ট করে।

অথচ আপনি জানেনই না, এইসব কিছুর আড়ালে রয়েছে আসলে কিছু কৌশল, যা অনেক ক্ষেত্রেই সত্য গোপন করে।। আর এ সমস্ত কৌশলই ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে। কিন্তু একজন ক্রেতা হিসেবে আপনি যদি তাদের কৌশলগুলো জানেন, তবে অযথা ঠকে যাবার ভয় থাকে না।

চলুন জেনে নিইে সেরকম ১০টি বিষয়, যা আমরা জানি না।

১ ‘ডিসকাউন্ট’ এর নামে বোকা বানানো

‘ওয়াও, ৭০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট! এখনই কিনতে হবে।’ এমনটিই ভাবছেন তো? একটু থামুন! আমরা অনেক সময় ‘ডিসকাউন্ট’ ধাঁধাঁয় পরে যাই। মনে হয়, কম টাকায় অনেক কিছু কেনা যাবে।

আসল ব্যাপার হলো, ডিসকাউন্ট দেওয়ার আগেই পোশাকগুলোর দাম অনেক বাড়ানো হয়। আবার হাতে গোনা দুই-একটি পোশাক ৭০% পর্যন্ত ডিসকাউন্টে বিক্রি করে। বাকিগুলো ১০% বা তার কাছাকাছি। তাই পোশাক কিনে জিতেছেন কিনা সেই অংকটা নিজেই একটু মিলিয়ে নিন।

২ একেক ব্রান্ডের পোশাকের মাপ একেক রকম

ব্রান্ডের ধরণভেদে পোশাকের সাইজেও তারতম্য হয়ে থাকে। আপনি যে সাইজের পোশাকটি খুঁজছেন সেটি হয়তো অন্য ব্রান্ডের ক্ষেত্রে আলাদা। কিন্তু একথা বিক্রেতা আপনাকে নাও জানাতে পারে। ফলে সঠিক সাইজের কাপড় নির্বাচনে আপনাকে একটু মুশকিলে পরতে হয় বৈকি!

৩ বিখ্যাত ডিজাইনারের তৈরি পোশাক মানেই ‘মানসম্মত’ নয়

অনেক সময় নামি দামি ফ্যাশন হাউজগুলো বিখ্যাত ডিজাইনারদের নামে পোশাক বের করে। এগুলোর মূল্য সাধারণ পোশাকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হয়ে থাকে।

এদের উদ্দেশ্য- ক্রেতাদের কাছ থেকে আরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়া। যদিও ফ্যাশন হাউজগুলোর অল্প কিছু পোশাকই কেবল নামকরা ডিজাইনাররা তৈরি করেন, সবগুলো নয়।

৪ উদ্দেশ্যমূলকভাবে পোশাকের এলোমেলো প্রদর্শনী

পোশাক কিনতে গিয়ে সাধারণ একটি ভুল অনেকেই করেন। অনেক সময় দোকানে কিছু কাপড় অগোছালো ও গাদাগাদি করে রাখা থাকে। সেগুলো দেখে ভাবেন, তুলনামূলক সস্তায় বুঝি কাপড়গুলো পাওয়া যাবে!

সেক্ষেত্রে অবশ্যই মনে রাখা দরকার যে, ফ্যাশন হাউজগুলো যথেষ্ট লাভ রেখেই কাপড়ের দাম নির্ধারণ করে। ফলে ওই কাপড়গুলোকে সস্তা ভাবলে নিজেই পরবেন শুভঙ্করের ফাঁকিতে।

৫ রং উজ্জ্বল করতে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার

‘১০০% প্রাকৃতিক’ লেবেল দেখে কি ভাবছেন পোশাকগুলো আপনার স্বাস্থ্যের জন্য শতভাগ নিরাপদ? না, সবসময় কথাটি সত্য নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পোশাকের রং উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় করতে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয় যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।

এছাড়া দোকানের কোন পোশাকে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়েছে তা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা না হলে ধরতে পারা যায় না। এ জন্য নতুন কাপড় সবসময় ধুয়ে পরতে হয়। তাতে কিছুটা হলেও ত্বকের ক্ষতি এড়ানো যায়।

৬ সিনথেটিক ও সুতি কাপড়ের মূল্য একই

অনেকেই মনে করেন, সিনথেটিক কাপড়ের দাম সুতি ও উলের চেয়ে বেশি। তাই সিনথেটিক কাপড় কেনার আশা ছেড়ে দেন। ব্যাপারটি মোটেও সঠিক না। বাস্তবে সিনথেটিক, সুতি ও উলের কাপড় একই উপাদানে তৈরি। ফলে দামটাও সমান।

৭ একই ডিজাইন, কিন্তু ‘মানে’ পার্থক্য

অনেক সময় একই কোম্পানি শো-রুম ও খোলা মার্কেটের জন্য একই ডিজাইনের কাপড় তৈরি করে। কিন্তু এই দুই রকমের কাপড়ে মানে আকাশ পাতাল ব্যবধান থাকে। স্বল্প আয়ের মানুষকে টার্গেট করে খোলা মার্কেটে বিক্রির উদ্দেশ্যে কিছু নিম্নমানের কাপড় তৈরি করা হয়। অন্যদিকে শো-রুমের পোশাকগুলো হয় বেশি আরামদায়ক।

৮ চকচক করলেই সোনা হয় না

কাপড়ের আসল সৌন্দর্য এর রঙে। ঝলমলে রং, সুন্দর প্রতিচ্ছবি বা জরির কাজ দেখে পোশাক কেনে সবাই। কিন্তু একবার ধোয়ার পরেই রং উঠে যায়। এর কারণ- নিম্নমানের কাপড়ের ওপর জমকালো কাজ করে চড়া দামে সেই কাপড় বিক্রি করা হয়। ফলে ভালভাবে রং করা হলেও কাপড়ে রং বসে না।

৯ ফ্যাশনে নিত্য নতুন পরিবর্তন

প্রায় প্রত্যেক সপ্তাহে পোশাক শিল্পে আসছে পরিবর্তন। যার ফলে ফ্যাশন হাউজগুলোর নিত্য নতুন পোশাক আমাদের নজর কাড়তে বাধ্য। তাই সাধ্যের মধ্যে থাকলে কেউ তার পছন্দের পোশাকটি ছেড়ে আসতে চায় না!

অনেক সময় সাধ্যের বাইরেও যায় মানুষ। কারন, পরিবর্তিত ফ্যাশনের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে তো! এজন্য চড়া দামে চলতি ফ্যাশনের নতুন পোশাকটি কিনতে বাধ্য করে ফ্যাশন হাউজগুলো।

১০ যা পছন্দ করছেন সেটিই সেরা!

আপনার পছন্দের মধ্যে যে পোশাকটির দাম বেশি সেই পোশাক আপনাকে বেশি মানাবে বলে বিক্রেতা আশ্বাস দেয়। একটু পর আপনি আরও দামি পোশাক পছন্দ করলেন, তখন আগের কথার সুর পাল্টিয়ে বিক্রেতা বলে, দ্বিতীয় পোশাকে আপনাকে আরও আকর্ষণীয় লাগবে।

শুধু তাই নয়, আপনার পছন্দের পোশাক নাকি দোকানের সবথেকে সেরা পণ্য! এভাবে কথার ফুলঝুড়ি চলতেই থাকে। বিক্রেতার প্রলোভনে ডুবে না গিয়ে নিজের পছন্দ ও প্রয়োজনীয় পোশাক কিনতে পারাই আসল কথা।

বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা যত অপবিজ্ঞান !

রাশিফল, রঙ ফর্সাকারী ক্রিম, ডেটল সাবানের ৯৯% জীবাণু মেরে ফেলা কিংবা টলার-স্ট্রঙার-শার্পার হরলিক্স ইত্যাদি আধুনিক অপবিজ্ঞান সম্পর্কে সচেতন থাকুন।

বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা যত অপবিজ্ঞান !

আজকাল প্রায় সব দৈনিক পত্রিকাতেই রাশিফল দেয়া হয়। রাশিফল বলে দেয় মানুষের ভাগ্যে কি আছে। তাছাড়া, মানুষের ভাগ্য নাকি তার জন্মের সময়েই ঠিক হয়ে যায়। জন্মের সময় আকাশে গ্রহনক্ষত্রের অবস্থানই নাকি মানুষের ভাগ্য রচয়িতা।

এছাড়া আমরা টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন দেখি হরলিকস খেলে না কি ছেলে মেয়েরা ‘লম্বা-শক্তিশালী-বুদ্ধিমান’ হয়ে যায়। ডেটল সাবান না কি ৯৯% জীবাণু মেরে ফেলে। ফেয়ার-এন্ড-লাভলী (অথবা ফেয়ার-এন্ড-হ্যান্ডসাম) নাকি গায়ের রঙ ফর্সা করতে পারে।

বলা বাহুল্য, উপরের কোনটাই সত্য নয়। পৃথিবীর উপর গ্রহ-নক্ষত্রের কেবল অতি সামান্য মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আছে। এছাড়া অন্য কোন প্রভাব নেই। বাড়ন্ত ছেলে-মেয়েদের দিনে যে পরিমাণ পুষ্টি লাগে, হরলিকস দিয়ে তা পুরণ করা যায় না।

পানিতে এক চামুচ হরলিসকস গুলিয়ে খেলে এই পুষ্টি পুরণ হবে না। প্রয়োজন সুষম খাদ্য।হরলিকস দিয়ে এই পুষ্টি পুরণ করতে গেলে মুঠো মুঠো হরলিকস খেতে হবে।

একটি বহুল প্রচলিত দৈনিক পত্রিকার এক পৃষ্ঠা জুড়ে একটি বিজ্ঞাপন –
“২ গ্লাস হরলিক্স = ৬৬৬ গ্রাম ইলিশ মাছের সমান আয়রন”
“বেড়ে ওঠার ডোজ
রোজ রোজ”
“হরলিক্স তো রেগুলার খাবার কেন আপনি দিচ্ছেন না”

হতভম্ব হয়ে কিছুক্ষন চিন্তা করলাম, আচ্ছা এ ধরনের অ্যাড কি হরলিক্স আবিস্কারের দেশ ব্রিটেনে দেওয়া হয়।যা হওক এই বিষয়ে আলোচনা একটু পরে করব।আগে মূল বিষয়টা যানা প্রয়োজন।

আপনি যদি রেগলার প্রিন্ট মিডিয়া অথবা ইলেক্ট্রিক মিডিয়ার অ্যাডগুলো দেখে থাকেন তাহলে দেখবেন আপনি যাই খাবেন অথবা মাখবেন তার মধ্যেই ভিটামিন অথবা মিনারেল রয়েছে অথবা দুটো এক সঙ্গেই আছে।

অ্যাডগুলো দেখে আপনার মনে হতে পারে ভিটামিন এবং মিনারেল খুবি দুর্লভ বস্তু এবং আপনাকে ভিটামিন এবং মিনারেল বিশাল পরিমানে ফুড সাপ্লিমেন্ট (খাবারের সম্পূরক)আকারে নিতে হবে।

চলুন ভিটামিন এবং মিনারেল সম্পর্কে কিছুটা জানা যাক

ভিটামিন

ভিটামিন হচ্ছে জৈবিক পদার্থ যা মানুষের জন্য খুব কম পরিমানে প্রয়োজন হয় শরীরের নির্দিষ্ট কিছু কোষীর কাজ সম্পাদনের জন্য। মানুষের দেহ ভিটামিন তৈরী করতে পারে না, সুসাস্থের জন্য ভিটামিনগুলোকে আমাদের প্রতিদিনের খাবারের সাথে নিতে হয়।

মিনারেল

মিনারেল হচ্ছে অজৈবিক যা মানুষের দেহের গঠনমূলক পদার্থ, এটি এনজাইম এর বিশ্লেষনে সহকারি হিসেবে কাজ করে, স্নায়ুর সঞ্ছালনে সাহায্য করে, অম্ল এবং ক্ষারকের সাম্যবস্থা রক্ষা করে । মানুষের দেহ মিনারেল তৈরী করতে পারে না, প্রত্যেকটি মিনারেল প্রতিদিন খাবারের সাথে একটি নির্দিষ্ট পরিমানে নিতে হয়।

অর্থাৎ, ভিটামিগুলো সাপ্লিমেন্ট আকারে উপরে উল্লেখিত কন্ডিশনে উপকারি হতে পারে কিন্তু এর উপকারিতা প্রমানিত নয়। আর নরমাল কন্ডিশনে তো নেয়ার প্রশ্নই আসে না।

আরো ভয়ংকর তথ্য আছেঃ

যদি ভিটামিগুলো প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেওয়া তাহলে এটা প্রমানিত যে আপনার নিম্ন বর্নিত সমস্যাগুলো হতে পারেঃ
Fat-soluble Vitamins

(একটি (retinol, রেটিনা, retinoic অ্যাসিড): বিবমিষা, বমি, মাথা ব্যাথা, মাথা ঘোরা, ঝাপসা দৃষ্টি, জবরজঙ্গতা, জন্ম ত্রুটি, লিভার সমস্যা, অস্টিওপরোসিস সম্ভাব্য ঝুঁকি. আপনি এই প্রভাব বেশী ঝুঁকি যদি আপনি এলকোহল উচ্চ পরিমাণে পান অথবা আপনি যকৃতের সমস্যা,

কলেস্টেরলের মাত্রা আছে বা কি যথেষ্ট প্রোটিন পেতে নাও হতে পারে. ডি (calciferol): বিবমিষা, বমি, দরিদ্র ক্ষুধা, কোষ্ঠবদ্ধতা, দুর্বলতা, ওজন হ্রাস, ধন্দ, হার্ট তাল সমস্যা, ক্যালসিয়াম আমানতের এবং নরম টিস্যু মধ্যে ফসফেট. যদি আপনি রক্ত thinners লাগবে আপনার ডাক্তার থেকে, ভিটামিন ই বা ভিটামিন বড়ি গ্রহণ আগে কথা বলা.)

জল দ্রাব্য ভিটামিন

(• B-3 (niacin): flushing চামড়া, পেট খারাপ এর লালভাব. • B-6 (pyridoxine, pyridoxal, এবং pyridoxamine): চেহারা, যা অসাড়তা, কষ্ট হাঁটা, এবং ব্যথা হতে পারে স্নায়ু ক্ষতি. • সি (অ্যাসকরবিক অ্যাসিডের ন্যায়): পেট, মূত্রগ্রন্থি পাথর, লোহা বিশোষণ বৃদ্ধি করে. • সবুজ শাকসজীতে প্রাপ্ত অ্যাসিড (folate): উচ্চ মাত্রায় বিশেষত পুরোনো প্রাপ্তবয়স্কদের, A, B-12 অভাব, একটা শর্তে যে স্নায়ু ক্ষতি হতে পারে লক্ষণ আড়াল হতে পারে)
আপনার যকৃৎ নষ্ট হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে, প্যারালাইজড, হার্ট এর সমস্যা হতে পারে।

হরলিক্স কি?

বাংলাদেশে যে হরলিক্সটি পাওয়া যায় সেটি হচ্ছে ফুড ফরটিফাইড। পাওডার দুধ, গম এবং বার্লির সংমিশ্রনে তৈরী হরলিক্সে বাহির থেকে ভিটামিন এবং মিনারেল অ্যাড করা হয়েছে ফুড সাপ্লিমেন্ট হিসেবে। হরলিক্স প্রস্তুকারি কোম্পানি হচ্ছে GlaxoSmithKline(GSK)।

“২ গ্লাস হরলিক্স = ৬৬৬ গ্রাম ইলিশ মাছের সমান আয়রন”
“বেড়ে ওঠার ডোজ
রোজ রোজ”
“হরলিক্স তো রেগুলার খাবার”

যেই ভিটামিন এবং মিনারেলগুলো উপকারি কিনা নিশ্চত নয় বরং অতিরিক্ত নেওয়ার কারনে সমস্যা হতে পারে সেগুলো আজ মানুষের সামনে অত্যন্ত আকর্ষনীয় কায়দায় ভুল তথ্য দিয়ে মানুষের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।

“বেড়ে ওঠার ডোজ

রোজ রোজ”

কতটুকু ভয়ংকর এই অ্যাডটি। ফুড সাপ্লিমেন্টগুলোর যেখানে কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ সেখানে এগুলোকে রেগুলার খাবার আর ডোজ(কার্যকরি পরিমান) হিসেবে পরিচিত করানো হচ্ছে।
হরলিক্স আবিস্কারের দেশ ব্রিটেনের অ্যাডগুলো দেখলামঃ

(“Horlicks খেতে মজা না; এক মগএ 12 অত্যাবশ্যক ভিটামিন এবং খনিজ উপস্থিত রয়েছে এবং এটি একটি ভিটামিন D সমৃদ্ধ উৎস – একটি ক্যালসিয়াম শোষক “. “Horlicks ধারণকরে একটি ভিটামিন এবং খনিজ বিস্তৃত.

ড Frankie Phillips – একটি স্বাধীন পুষ্টিবিজ্ঞান পরামর্শদাতা এবং নিবন্ধিত পথ্যব্যবস্থাবিদ্যাবিৎ – প্রদান কিভাবে এই ভিটামিন এবং খনিজ wellbeing জন্য অপরিহার্য . আমরা সব অত্যাবশ্যক ভিটামিন এবং খনিজ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে ভাল খবর রাখা আমাদের প্রয়োজন.)

অ্যাডগুলোতে কোথাও লেখা নেই
“বেড়ে ওঠার ডোজ”

“২ গ্লাস হরলিক্স = ৬৬৬ গ্রাম ইলিশ মাছের সমান আয়রন”
এই অ্যাডগুলো তারা সাবকন্টিনেন্ট ছাড়া অন্য কোথাও দেয় না। কারন তারা সেই দেশে নিষিদ্ধ হয়ে যাবে।

আরো চমকপ্রদ তথ্য আছে।

২০০৪ সালে ডেনমার্কে হরলিক্স নিষিদ্ধ করা হয় অতিরিক্ত ভিটামিন এবং মিনারেল ব্যবহারের কারনে।

UK-তে “Stronger, Taller, Sharper”এই অ্যাডটি নিষিদ্ধ করা হয় ২০০৮ সালে তাও বাংলাদেশী টেলিভিশন এনটিভি এটি প্রচার করেছিল।

আরো মজার বিষয় হল ইউকের হরলিক্সটি ফুড ফরটিফাইড নয়। মানে এতে অতিরিক্ত কোন ভিটামিন অথবা মিনারেল অ্যাড করা হয়নি।

হরলিক্স এক গ্লাস থেকে দুই গ্লাস হয়ে গেছে।

পারফিউম আর ডিওড্রেন্ট এর অ্যাড দেখলে তো গলায় ফাসি দিতে ইচ্ছে করে।

একটা সময় পৃথিবাকে ব্রিটিশরা colonization মাধ্যমে চালাত। সেই colonization হয়তবা শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের চিন্তাকে যে colonized করে ফেলছে সেটা কী আমরা বুঝি?

আর আমাদের দেহের অধিকাংশ অনুজীবই উপকারী। তারা ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়াদের বিপক্ষে যুদ্ধ করে। তাই ডেটলের দাবী সত্য হলে সে অধিকাংশ উপকারী ব্যাক্টেরিয়া মেরে ফেলে। তাহলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে।

ত্বকের রঙ নির্ভর করে মেলানিনের উপর। মেলানিন সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুণী রশ্মি থেকে আমদের বাঁচায়। ফেয়ার-এন্ড-লাভলী ত্বকের মেলানিন কমাতে পারে না।

আর যদি কখনো কমায়, তাহলে তা আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের জন্য ক্ষতিকর হবে। কারণ দেখা গেছে, সাদা চামড়ার মানুষ আমাদের বিষুবীয় ও ক্রান্তীয় অঞ্চলের সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে ত্বকের ক্যান্সার সহ নানা রকমের সমস্যায় ভোগে।

বোঝাই যাচ্ছে, উপরের সকল প্রচারই আসলে আধুনিক কুসংস্কার। এদেরকে বলা হয় অপবিজ্ঞান। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানের একটি ইতিবাচক প্রভাব আছে।

তাই বিজ্ঞানের মুখোশ নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা অত্যন্ত সহজ। এই ধারণাগুলো বহুল প্রচারিত হলেও এদের পেছনে কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এগুলো প্রচার করা হয় পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যে। অপ্রয়োজনীয় এসব পণ্য বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা লোটা হয়।

এই অপবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়া খুবই জরুরী। নিজেরা সচেতন হওয়ার সাথে সাথে এদের বিরুদ্ধে প্রচারণাও প্রয়োজন সাধারণের মধ্যে। কারণ এই অপবিজ্ঞানগুলোর প্রধান শিকার হয় সাধারণ মানুষ।

পাশাপাশি প্রয়োজন বিজ্ঞানচর্চা। বিজ্ঞান, অপবিজ্ঞানের চাইতে অনেক মজার। অনেক আকর্ষণীয়। প্রকৃতি, মহাকাশ, মহাবিশ্ব, মানুষের সমাজ নিয়ে জানার মতো অনেক আগ্রহোদ্দীপক বিষয় আছে।

আমরা যদি এসব জানি এবং তা ছড়িয়ে দেই, তাহলে মানুষ বিজ্ঞানমনষ্ক হবে। বিজ্ঞান মনষ্ক মানে এই নয় যে সবাই বিজ্ঞানী হয়ে উঠবে। বিজ্ঞান মনষ্ক মানে বিজ্ঞানীদের মতো চিন্তা করা, তাদের মতো খুটিয়ে দেখা, জানা।

বিজ্ঞানের গল্প মানুষকে যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে শেখায়। তখন সে নিজেই সচেতন হয়ে উঠে তার চারপাশ নিয়ে – বুঝে নেয় কোনটি ঠিক আর কোনটি ভুল। তাই বিজ্ঞান চর্চাই অপবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে সবচাইতে ভালো প্রতিষেধক।

মহাবিশ্বে অবাক হয়ে প্রশ্ন করার মতো অনেক কিছু আছে।

– আফ্রিকাতে একধরনের মাছ আছে যারা কি না অন্ধ। তারা চারপাশে এক ধরনের বিদ্যুৎক্ষেত্র তৈরি করে। এই ক্ষেত্রে সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা শিকারকে খুঁজে নেয়। এই ক্ষেত্র ব্যবহার করে তারা একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করে।

– কবুতরেরা চৌম্বকক্ষেত্রের সামস্যতম পরিবর্তন বুঝতে পারে। পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের যে ক্ষমতা, তার এক সহস্রাংশের পরিবর্তন তারা অনুভব করতে সক্ষম। চারপাশের বস্তু, পথ চিনতে তারা এই ক্ষমতা ব্যবহার করে।

– গ্যালাক্সীগুলোর কেন্দ্রে কোয়াসার অচিন্তনীয় বিষ্ফোরণ সৃষ্টি করে। এ বিষ্ফোরণ চার পাশের অনেক গ্রহকেই ধ্বংস করে দেয়।
– পূর্ব আফ্রিকায় আগ্নেয়গিরির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া লাভায় মানুষের পূর্বপুরুষের পদচিহ্ন পাওয়া গেছে। এর বয়স প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ বছর। বোঝা যায়, মানুষের ইতিহাস কতো পুরনো।

আমাদের দেহের প্রতিটি কোষে ডজনখানেক মাইটোকন্ড্রিয়া আছে। মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের ‘পাওয়ার হাউজ’ – কোষের শক্তিকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। সাম্প্রতিক প্রমাণ বলছে যে শত কোটি বছর আগে এই মাইটোকন্ড্রিয়া স্বাধীন অনুজীব ছিলো।

পরে এরা আরো বড় কোষের মধ্যে ঢুকে পড়ে। বড় কোষ মাইটোকন্ড্রিয়াকে পুষ্টি দেয়, আর মাইটোকন্ড্রিয়া দেয় শক্তি। তার মানে, ব্যাপক অর্থে আমরা একক কোন জীব নই। ভিন্ন ভিন্ন রকমের প্রায় এক হাজার কোটি একক জীবের সমন্বয় আমরা – একটি জৈব যন্ত্র।