জব্দ ইয়াবায় ব্যবসা কনস্টেবলের, সাথে আরো কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা

0
135

বিনা পুঁজিতে ইয়াবা বাণিজ্য করতেন ময়মনসিংহ আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ কনস্টেবল আল আমীন। এই সুযোগ তৈরি হয় কোর্ট পুলিশের আরো কয়েকজন সদস্যের সহযোগিতায়। ইয়াবা বাণিজ্যে তাঁদেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ বা অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর উদ্ধার করা ইয়াবা কোর্টের যে মালখানায় জমা রাখা হতো, সেখান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করতেন কোর্ট পুলিশ আল আমীন। গত ৯ জুন গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে তিনি কারাগারে। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে তাঁর দুই দিনের রিমান্ড। ১২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের পর তাঁর সম্পৃক্ততার খবরে প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। একাধিক সূত্র জানায়, শুধু আল আমীন নন, স্থানীয় আরো কয়েকজন পুলিশ সদস্য ইয়াবা কারবারের সঙ্গে যুক্ত।

এদিকে পুলিশ কনস্টেবল আল আমীনকে আটকের পর কোর্টে দায়িত্ব পালন করা আরো তিন পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা হলেন কোর্ট পুলিশ ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামান, আদালতের জিআরও এসআই মনিরুল এবং কোর্টের মালখানার দায়িত্বে নিয়োজিত এসআই সাইফুল ইসলাম। অবশ্য পুলিশ বলছে, দায়িত্ব পালনে অবহেলা করায় এই তিনজনকে আটক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, হাজার হাজার পিস ইয়াবা কারবারের সঙ্গে শুধু একজন কনস্টেবল জড়িত, তা বিশ্বাস যোগ্য নয়। আরো অনেকে এই কারবারের সঙ্গে জড়িত।

সূত্র জানায়, গত ৮ জুন শহরের পুলিশ লাইন এলাকা থেকে মোতালেব নামের পুলিশের এক সোর্সকে আটক করা হয়। তার কাছে পাওয়া যায় ১২ হাজার পিস ইয়াবা। এত বিপুলসংখ্যক ইয়াবা দেখে বিস্মিত হন পুলিশ কর্মকর্তারা। তাঁদের ধারণা আরো পাল্টে যায়, যখন জানতে পারেন এই ইয়াবার মূল মালিকের নাম। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মোতালেব জানান, ইয়াবাগুলো পুলিশ কনস্টেবল আল আমীনের। তিনিই ইয়াবার সরবরাহকারী। এর পরই ডিবি পুলিশ গত ৯ জুন গ্রেপ্তার করে আল আমীনকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আল আমীন ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে আরো দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আদালতের মালখানায় জমা হওয়া ইয়াবা দিয়েই কারবার করতেন কনস্টেবল আল আমীন।

এদিকে জানা গেছে, এসআই মনিরুল ও এসআই সাইফুল অঢেল সম্পদের মালিক। নামে-বেনামে ময়মনসিংহ শহর এবং নিজেদের গ্রামে বিপুল পরিমাণ জমি কিনেছেন তাঁরা। তাঁদের চলাফেরাও ছিল বেপরোয়া। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা একই জায়গায় কর্মরত। প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘একজন কনস্টেবল ১২ হাজার পিস ইয়াবা মালখানা থেকে নিয়ে গেলেন, আর সেখানে দায়িত্বরত কেউ কিছু জানল না, এটা হতে পারে না।’ সূত্র জানায়, সন্দেহভাজন পুলিশ কর্মকর্তারা নিজেদের রক্ষা করতে বর্তমানে নানা তত্পরতা চালাচ্ছেন। তাঁরা কনস্টেবল আল আমীনকে ফাঁসিয়ে নিজেরা বাঁচতে চাইছেন।

কনস্টেবল আল আমীনের মামলাটি তদন্ত করছে জেলা ডিবি পুলিশ। ডিবি পুলিশের ওসি আশিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে মালখানা থেকে ইয়াবাগুলো বাইরে এসেছে। এসব কী করে সম্ভব হলো তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এর সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এ নেওয়াজী বলেন, ‘দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে কোর্ট পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে ক্লোজ করা হয়েছে। সূত্র- কালের কণ্ঠ

110
SHARES
Share
Tweet