যে কারণে সড়কে ভয়ঙ্কর রূপ নেয় মোটরসাইকেল!

0
112

যে কারণে সড়কে- তরুণদের সড়কে মোটরসাইকেল চালিয়ে ঈদ আনন্দের প্রকাশ ভয়ংকর রূপ নেয় শহর-গ্রাম সর্বত্র। শখের মোটরসাইকেল চালকদের বেপরোয়া চালনা অনেক পরিবারে বয়ে এনেছে কান্না। প্রতি বছর বিভিন্ন উৎসবে দাপিয়ে বেড়ানো মোটর সাইকেল চালকদের অপরিণামদর্শী আচরণ সহ্য করতে হয় পরিবারগুলোর। এবারের ঈদেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ঝিনাইদহে দুই শখের মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু হয়েছে। শুধু ঈদের দিনই যশোর জেনারেল হাসপাতালে দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে ভর্তি হয়েছে ২২জন। এর অধিকাংশই মোটরসাইকেল আরোহী।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঈদে অপ্রাপ্ত বয়স্করা বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারা নিয়ম না মেনে চালানোর কারণে সড়ক দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে। শখের বশে কেউ কেই মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে আবার কেউ আত্মীয় স্বজনের মোটর সাইকেল নিয়ে চালাতে গিয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।

ঝিনাইদহে শখের চালক স্কুল ছাত্র সোহান (১৫) ও রনি (৩০) নামে একজন আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও আহত হয়েছে আরো দশজন। ঈদের দিনেই পৃথক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনাগুলো ঘটে।

দুর্ঘটনার শিকার আতিকুর (৩০), রাজিব হোসেন (১৮), ইসমাইল হোসেন (২৪), সাগর হোসেন (১৯), আসলাম হোসেন (২৪), সায়েম পারভেজ (২০), রমজান আলী (২৩), রিপন হোসেন (২৫), রনি (২৮), আনিসুর রহমান আনিস (৩২), আব্দুর রাজ্জাক (১৭), আদর আলী (২০), রহমান (১৮), রাজু (২৫), আলআমি (১৮), ইমদাদুল (১৫), ইমরান (১৬), রুবেল হোসেন (২০), মোখলেছুর রানা (২৩) আশিকুর রহমান আশিক (২০) ও ইমন হোসেন (১৯) যশোর হাসপাতাপলে ভর্তি হয়েছেন। ঝিনাইদহে ভর্তি হয়েছে ইমামুল (১৮), মানিক (১৪), সাগর (২১), সোহেল (২৭), মিজান (২১), রোকন (১৫), আকাশ (১৮)।

যশোরের বিভিন্ন সড়কে দেখা গেছে, ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সের যুবকেরা দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে উড়ন্ত ঈদ উদযাপন করছে। সাথে বাজাচ্ছে তীব্র হর্ন। কোন কোন তরুণ চালক সার্কাসের মত চালনা করছিল। আবার চলন্ত যানবাহনের সামনে দিয়ে মোটর সাইকেল দ্রত ঝুঁকি নিয়ে পার হয়ে যাচ্ছেন। এভাবে চলাচলের কারণে অন্যান্য যানবাহনের সাথেও ঘটছে দুর্ঘটনা। মাথায় হেলমেড না থাকায় এসব চালক দুর্ঘটনার কবলে পড়লে হেড ইঞ্জুরিতে আক্রান্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

চুড়ামনকাটি গ্রামের মোটরসাইকেল চালক ইসমাইল হোসেন, মেহেদি হাসান, ইমদাদ হোসেনসহ অনেকেই জানান, অপ্রাপ্তদের বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে সড়কগুলো রীতিমতো ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। অনেক সাবধান চালকরা এসব চালকদের কারণে ভয়ে থাকে। যুবক বয়সের চালকদের কারণে মোটরসাইকেলগুলো হয়ে উঠেছে ভয়ংকর।

জসিম উদ্দিন, মুকুল হোসেন, ওয়াহিদুজ্জামান জানান, নতুন করে চালানো শেখা তরুণেরা মোটরসাইকেল ভাড়া করে এনে ইচ্ছামতো চালিয়ে বেড়াচ্ছে। বিশেষ করে তারা যে কোন উৎসবের দিন মোটরসাইকেল চালানোর প্রতিযোগিতায় মেতে থাকে। অথচ অভিভাবকেরা তাদের বাধা দেয়না। যে কারণে তারা মোটরসাইকেল ভাড়া নিতে বেশি আগ্রহী হয়।

ঈদের দিন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক সিনিয়র সেবিকা জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে যারা হাসপাতালে এসছেন তারা সকলেই তরুণ। নিয়ম না মেনে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অনেকেই হাসপাতালে আসছেন।

যশোর ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর সাখাওয়াত হোসেন জানান, নিয়ম না মেনে মোটরসাইকেল চালকদের দমন করতে ঈদের দিন যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৫টি মোড়ে চেকপোস্ট বসানো হয়েছিলো। নজর রাখা হয়েছিলো শহরের বাইরেও। তারপরেও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় অনেকেই আহত হয়েছেন বলে শুনেছি। লাইসেন্স ছাড়া চালকদের ব্যাপারে আরো কঠোর ভুমিকা গ্রহণ করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।