কীভাবে খুন করেছিলেন, দেখাতে গিয়ে কাঁদলেন খুনিই!

0
78

কিভাবে খুন করেছিল ঘটনার পূর্ণগঠনের সময় তা দেখাতে গিয়ে কেঁদে ফেললো অভিযুক্ত। দশমীর দুপুরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সিউড়ির সাজানোপল্লির নিজের বাড়িতে খুন হন শিউলি পাল। খুনের দায়ে পুলিশ মাধব সিং ও মুনমুন সাহা মণ্ডলকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ হেফাজতে থেকে তাদের শিউলির বাড়িতে পুনর্গঠনের জন্য নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে শিউলিকে কি ভাবে খুন করেছে মুনমুন তা দেখাতে গিয়েই কান্নায় ভেঙে পড়ে। আর তার কান্না দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়ল শিউলির স্বামী ও পান্ডবেশ্বর থেকে আসা স্বামীর বন্ধুরা।

খুনির ওপর ঝাঁপিয়ে পরে তাকেই মেরে ফেলার চেষ্টা করে তারা। কিন্তু কড়া পুলিশি পাহারার মধ্যে বিউটি পার্লার মালিক খুনে অভিযুক্ত মুনমুন সাহা মণ্ডল ও মাধব সিংকে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে আসে সিউড়ি থানার পুলিশ।

শিউলির ঘরের দরজা খুলেই ডানদিকে দোতলার সিঁড়ি। তার নিচেই বিউটি পার্লার। সেই পার্লারের চেয়ারে খড়ের পুতুল করে বসানো ছিল শিউলি পালকে। ঘটনার দিন এভাবেই বসেছিলেন শিউলি। গলায় ওড়নার মত বিছানো ছিল স্নানের ভিজে গামছা।

অভিযুক্ত মুনমুন জানায় এখানেই তার স্বামীকে নিয়ে তর্ক শুরু হয় শিউলির। উল্লেখ্য মাধব ও মুনমুনের আলাদা সংসার থাকলেও তারা দম্পতির মতই এক সঙ্গে থাকতো। সে নিয়েই ঠিক করতে মুনমুন মাধবকে নিয়ে শিউলির বাড়িতে যায়। খুনের দিনের ঘটনা অভিনয় করে দেখায় মুনমুন।

চেয়ারের পিছন থেকে গামছা দিয়ে গলায় শ্বাস রোধ করে। এরপর মাধব ও মুনমুন দুজনে শিউলিকে ঘর থেকে তুলে এনে শোওয়ার ঘরে নিয়ে আসে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে খাটে থাকা মাথার বালিশ দিয়ে দুজনেই শিউলির মুখ চেপে ধরে। এরপর দুজনে শিউলিকে ধরে বিছানায় শুইয়ে দেয়।

খুনের দিনের এই ঘটনা দেখাতে গিয়ে কেঁদে ফেলে মুনমুন। বারেবারে বলে আমার স্বামীকে না কেড়ে নিতে চাইলে আমি শিউলিকে মারতাম না। শিউলির পরিবারের লোক বলতে থাকে আমরা খুনের বদলা খুন চাই। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে সিউড়ি থানার পুলিশ মুনমুন ও মাধবকে তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যায়।