স্বামীর অনুপস্থিতিতে অবৈধ সম্পর্ক দেখে ফেলল শাশুড়ি, অতঃপর…

0
144

স্বামীর অনুপস্থিতিতে – স্থানীয় যুবকের সাথে প্রবাসীর স্বামীর অনুপস্থিতিতে অবৈধ সম্পর্ক আর তা দেখে ফেলায় শাশুড়িকে জবাই করে হত্যা করে পুত্রবধূ। এরপর আইনের চোখকে ফাঁকি দেবার জন্য নিজের শরীরে ধারালো ছোরার আঘাত।

গত আগস্টে এমন ঘটনা ঘটেছিল রাজবাড়ী জেলা সদরের বারবাকপুর গ্রামে। পুত্রবধূ স্বপ্না বেগম (২৫) ও পরকীয়া প্রেমিক সোহেল মিয়ার (৩৩) নৃশংসতার শিকার হতে হয় শাশুড়ি হাজেরা বেগমকে (৪৮)। এতদিনে জানা গেল হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য।

একের পর এক মিথ্যে বলে পুলিশের নজর এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলো স্বপ্না বেগম। কিন্তু ডিবি পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি আর অভিযানে আটক হয় ঘটনার প্রধান আসামি জেলা সদরের কোমড়পাড়া গ্রামের হোসেন মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া (৩৩)। এরপর ধরা পরে সোহেলের সহযোগী আহলাদীপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে কবির হোসেন (৩২)। তাদের দেয়া তথ্য মতে, গৃহবধূ স্বপ্নাকে গ্রেফতারের পর বের হয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

রোববার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে চলতি বছরের গত আগষ্ট মাসের ১৬ তারিখে জেলা সদরের বারবাকপুর গ্রামের আলোচিত হাজেরা বেগম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেন পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি।

এ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ওসি কামাল হোসেন ভূইয়া জানান, আটক স্বপ্নার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী অনুসারে ঘটনার দিন (গত ১৬ আগস্ট) রাতে ছেলের বৌ স্বপ্নাকে নিয়ে একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন হাজেরা বেগম। সেদিন রাতে স্বপ্নার পরকীয়া প্রেমিক সোহেল স্বপ্নার ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় হাজেরা বেগম টর্চ লাইট দিয়ে সোহেলকে দেখে চিনে ফেলে। পরে সোহেল বাহিরে পাহারায় দাঁড়িয়ে থাকা কবিরকে ডেকে নেয়।

কবির হাজেরা বেগমের হাতে জখম করে। পরে কবির হাজেরা বেগমের দুই পা ও স্বপ্না দুই হাত চেপে ধরলে সোহেল হাজেরার বুকের উপরে বসে গলা কেটে তাকে হত্যা করে। এ ঘটনায় যেন স্বপ্নাকে কেউ সন্দেহ না করে তাই সোহেল স্বপ্নার দুই হাতে জখমের চিহ্ন একে দেয়। পরে সোহেল ও কবির পালিয়ে গেলে স্বপ্নার অভিনীত চিৎকারে ছুটে আসে এলাকাবাসী।

ঘটনার পর ডিবি পুলিশ সোহেলকে শনাক্ত করে খুঁজতে থাকে। প্রায় মাস খানেক পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদারীপুর জেলা থেকে সোহেলকে আটক করা হয়। পরে জেলা সদরের আহলাদীপুর এলাকা থেকে সোহেলের সহযোগী কবিরকে আটক করা হয়। এই দু’জনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে স্বপ্নাকে গ্রেফতার করা হয়।

‘আব্বু ক্রাইম পেট্রোল দেখে আমার সাথে খারাপ কাজ করে’

চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া নিজের মেয়েকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাদী হয়ে মাদারীপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মাদারীপুর শহরের রকেট বিড়ি এলাকায় জয়নাল বেপারী (৪৩) নামে এক পিতার বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পিতা জয়নাল আত্মগোপন করেছে। ধর্ষিতা শিশুটিকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে বর্তমানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষিতা শিশুটির মা মেয়েকে বাবার কাছে রেখে চিকিৎসার জন্য ঢাকা যায়। এই সুযোগে ঘরে একা পেয়ে গত শুক্রবার(১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে শিশুটিকে মুখ চেপে ধর্ষণ করে এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেয়। পরে চিকিৎসা শেষে শিশুটির মা মাদারীপুর ফিরে আসলে ধর্ষণের বিষয়টি জানতে পারে। এরপর শিশুর মা শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে ধর্ষণের বিষয়টি জানালে তারা ঘটনাটি গোপন রাখার জন্য হুমকি ধামকি দেন। পরে তার আত্মীয় যুবলীগ নেতা সুমন মোল্লার সহযোগীতায় মেয়েকে মাদারীপুর সদর থানায় নিয়ে যায়।

যুবলীগ নেতা সুমন মোল্লা বলেন, শিশুটির পরিবার অনেক গরীব। বিষয়টি আমি জানার পর ওদের থানায় নিয়ে গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেই। পরে সদর থানায় শিশুর মা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। আমরা এই পিতার সবোর্চ্চ শাস্তি দাবি করছি যাতে আর কেউ এই ধরনের অপকর্ম করার সাহস না পায়।

ধর্ষণের বিষয় কান্নাজড়িত কন্ঠে শিশুটি বলেন, গত শুক্রবার রাতে আব্বু ক্রাইম পেট্রোল দেখে টিভি বন্ধ করে আমার পাশে ঘুমাতে আসে, পরে আব্বু আমার উপরে উঠে আমাকে চেপে ধরে আমার সাথে খারাপ কাজ করে।

এব্যাপারে মাদারীপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) সিরাজুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনায় মাদারীপুর সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে। আমরা আসামী জয়নাল বেপারীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি শিগিরিই গ্রেফতার করতে পারবো।