সেতুটি কেন ‘Y’ আকৃতির হলো? প্রধানমন্ত্রী জানালেন নিজেই!

0
147

সেতুটি কেন- দেশের প্রথম ওয়াই আকৃতির সেতু জনসাধারণের চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এ সেতুটি নির্মাণের ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা জেলার হোমনা ও মুরাদনগরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হলো।

এ সেতুটি ওয়াই আকৃতির হওয়া কারনে হ্রাস পেল বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের ১২ কিলোমিটার দূরত্বও। সেতুটি কেন ‘Y’ আকৃতির হলো? উদ্বোধনের সময় এর কারন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ও নাভানা বিল্ডার্সের তত্ত্বাবধানে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১১ সালে এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ২০১৭ সালের জুন মাসে সম্পন্ন হয়।

ভূমি অধিগ্রহণসহ ৭৭১ মিটার দীর্ঘ এবং ৮ দশমিক ১০ মিটার প্রস্থের সেতুটিতে ২২টি পিলার, ২৪টি স্প্যান রয়েছে। দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৯৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

রোববার দুপুরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুমিল্লা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার হোমনা-বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তিতাস নদীর উপর নবনির্মিত দেশের প্রথম দৃষ্টিনন্দন এ ওয়াই আকৃতির ‘শেখ হাসিনা তিতাস সেতুর’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেতুটি নির্মাণের ফলে কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ স্বল্পসময়ে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবেন। অন্যদিকে লাঘব হবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, নবীনগর ও কুমিল্লার মুরাদনগর, তিতাস ও হোমনার লাখ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগে কমে আসবে দুই-তিন ঘণ্টা সময়।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার এলজিইডির প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, সেতুটি নির্মাণের ফলে ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যোগাযোগ সহজ হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম-ঢাকার বিকল্প পথ হিসেবেও ব্যবহার হবে সেতুটি।

ওয়াই সেতু প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সেতু নিয়ে তিন উপজেলার মানুষের মধ্যে ঝগড়া ছিল। এরপর আমি সবাইকে ডাকলাম। ম্যাপ নিয়ে বসলাম।

এরপর ডিজাইন পরিবর্তন করে দিয়ে আমি নতুন করে বললাম- সেতুর একটা অংশ বাঞ্ছারামপুর থেকে চলে যাবে মুরাদনগর, আরেকটা অংশ চলে যাবে হোমনায়। তাহলে সেতুটি দেখতেও অন্যরকম হবে, যা এখন ওয়াই সেতু নামে পরিচিতি পেয়েছে।’

তিনি বলেন, সেতুটি ওয়াই আকৃতির হওয়া কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর এবং কুমিল্লার হোমনা, মুরাদনগর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার দূরত্ব কমে আসবে।

উদ্বোধন উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ বাঞ্ছারামপুর আসনের সংসদ সদস্য এবি তাজুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসন নবীনগরের সংসদ সদস্য ফাইজুর রহমান, কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসনের সংসদ সদস্য ইউছুফ আব্দুল্লাহ হারুন,

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নূরুল ইসলাম, ইউএনও শরিফুল ইসলাম, হোমনা ইউএনও খান মো. নাজমুস শোয়েবসহ তিন সহস্রাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ভিডিও কনফারেন্সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ মুন্সি বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজল মনি, হোমনা পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন।

সেতু উদ্বোধন ফলকটি স্থানীয়ভাবে উন্মোচন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবি তাজুল ইসলাম, নবীনগরের সংসদ সদস্য ফাইজুর রহমান ও কুমিল্লা মুরাদনগর আসনের সংসদ সদস্য আলহজ্ব ইউছুফ আব্দুল্লাহ হারুন।

কীভাবে লন্ডনে আছেন তারেক

কীভাবে লন্ডনে অবস্থান করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তা নিয়েই আলোচনা চলছে বিভিন্ন মহলে। বিএনপি বলছে, তারেক রহমান বৈধ কাগজপত্র নিয়ে অবস্থান করছেন সে দেশে।

কিন্তু পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের মতে, একটা দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পেতে হলে মূল দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হয়।

তারেক রহমান তাই করেছেন। অ্যাসাইলাম সিকাররা (আশ্রয়প্রার্থী) রাষ্ট্রবিহীন বা স্টেটলেস থাকেন। তারা যে দেশের লোক সেদেশে বাঞ্ছিত নন বা সে দেশে যেতে চান না। এই কারণে তারা পাসপোর্ট সমর্পণ বা হ্যান্ডওভার করেন। তারেক রহমান ঠিক তাই করেছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়া ছাড়া তার পরিবারের অন্য কোনো সদস্য বাংলাদেশের ভোটার নন। এমনকি তারেক রহমানের জাতীয় পরিচয়পত্রেরও কোনো সন্ধান পায়নি কমিশন।

আর পাসপোর্ট অধিদফতর বলছে, জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তারেক রহমান পাসপোর্টের জন্য কোনো আবেদনই করতে পারবেন না। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ২০১৪ সালের ২ জুন তারেক রহমান তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট যুক্তরাজ্য সরকারের হোম অফিসে সমর্পণ করেন।

তারেকের পাসপোর্ট সমর্পণ নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলন করে স্বীকার করেন যে, ২০১২ সালে তারেক রহমান ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছিলেন এবং এক বছরের মধ্যেই সেটি গৃহীত হয়। সেই সূত্রে তারেক যুক্তরাজ্য সরকারের হোম অফিস থেকে একটি ট্রাভেল ডকুমেন্ট নিয়ে এখন সেখানে চলাফেরা করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, তারেক রহমান ২০১২ সালে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে আবেদন করার সময় তাকে যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ভিসা অথরিটির কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে হয়েছিল, যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরেই।

এখন তাকে যুক্তরাজ্যে বসবাসের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি বেছে নিয়ে সেটেলমেন্ট করতে হবে। জানা গেছে, যুক্তরাজ্যে ছয়টি ক্যাটাগরিতে বসবাসের সুযোগ রয়েছে, যার দুটি তারেক রহমানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর একটি ক্যাটাগরি হচ্ছে, প্রোটেক্টেড বা স্টেটলেস এবং অন্যটি ডুয়েল সিটিজেন।

দ্বিতীয় সুযোগটি গ্রহণ করলে তারেক রহমানের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের আইনগত সহযোগিতা পাওয়ার ক্ষেত্রটি সীমিত হবে।

যদি কেউ যুক্তরাজ্যে বসবাস করে সে দেশের সরকারের কূটনৈতিক সহযোগিতা ও সুরক্ষা চায় তাহলে তাকে প্রোটেক্টেড ক্যাটাগরি বেছে নিতে হবে। কারণ ডুয়েল সিটিজেনদের যুক্তরাজ্য সরকার সাধারণত কোনো রকম আইনগত ও কূটনৈতিক সহযোগিতা দেয় না।

পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মাসুদ রেজওয়ান গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন, তারেক রহমান মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এআরপি) জন্য নতুন করে কোনো আবেদন করেননি।

তারেক সেটা করতেও পারবেন না বলে জানান ডিজি। কারণ তার জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। তিনি আরও জানান, তারেক তার পুরনো পাসপোর্ট দূতাবাসে জমা দিয়েছেন, সেটা তারা শুনেছেন।

অপরদিকে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া ছাড়া তার পরিবারের অন্য কোনো সদস্য বাংলাদেশের ভোটার নন। তারেক রহমানের পাসপোর্ট নিয়ে আলোচনার শুরুর পর কমিশন অনুসন্ধান চালিয়ে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের কোনো সন্ধান পায়নি।

এমনকি তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমান, কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথিও ভোটার হননি বলে তথ্য দিয়েছেন জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের কর্মকর্তারা।

নির্বাচন কমিশনের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারেক রহমান ছবিসহ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি। তার জাতীয় পরিচয়পত্রও হয়নি। তবে তারেক রহমানের মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর ক্যান্টনমেন্টের ঠিকানায় ভোটার হয়েছেন।