সাকিবের দেশে ফেরার গুজবে বিরক্ত হয়ে ফেসবুকে যা লিখলেন তার স্ত্রী

0
90

দেশে ফেরার গুজবে- বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি তামিম ইকবাল দুর্ভাগ্যজনক ইনজুরির শিকার হয়ে এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে গেলেও সোমবার রাতে এশিয়া কাপের তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আফগানিস্তানের জয়ে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের শেষ চারে ওঠার টিকিট।

এমন খবরে ক্রিকেট ভক্তদের যেমন স্বস্তি ফিরে আসে তেমনি সেই রাতেই আসে আরো একটি বাজে খবর। হঠাৎ করেই খবর ছড়িয়ে পড়ে, অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে দেশে ফিরছেন সাকিব আল হাসান!

একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যম দাবি করে, দুবাইয়ের প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছে সাকিব-কন্যা আলাইনা হাসান অউব্রি। তাই স্ত্রী-কন্যাকে রেখে যেতে এশিয়া কাপের মাঝপথে দেশে ফিরতে হচ্ছে সাকিবকে।

এতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে খেলা হচ্ছে না বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডারের। সেই সূত্রে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই দেশের আরো কয়েকটি গণমাধ্যম একই খবর প্রকাশ করে।

এতে বিরক্ত হয়ে সাকিব পত্নী উম্মে আহমেদ শিশির তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করেন।

শিশির লিখেছেন, ‘এর চেয়ে বেশি অপসাংবাদিকতা আর হয় না। কোনো কিছু না জেনেই তারা একটা গল্প বানায়, সেটাকে অনেক ভিউ হওয়ার জন্য বাজারে ছাড়ে এবং সেটিও আবার সাকিব আল হাসানকে নিয়ে! আমার মেয়ে এশিয়া কাপ শুরুর আগেই অসুস্থ হয়েছে।

কিন্তু সাকিব ঢাকায় ফিরে আসবে না। এটা কখনো মাথাতেই আসেনি। এমন অনেক পরিস্থিতি এসেছে যখন তার উচিত ছিল পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু আমরা পরিবার হিসেবে দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছি।

আপনারা হয়তো ভুলে গেছেন, আমাদের প্রথম সন্তান জন্মের সময় পাশে থাকতে পারেনি সাকিব। ভবিষ্যতে ভোগাবে জেনেও এই মানুষটা ইনজুরি নিয়ে খেলছে। সেরে উঠতে অনেক সময় নিলেও আমি আশ্চর্য হব না।

এবং সে সহানুভূতির জন্য কিছু করে না! এই ধরনের অমূলক খবর দেশের শীর্ষস্থানীয় নিউজ পোর্টাল থেকে আসা হতাশাজনক।

লেখার মতো কোনো কিছু না পেলে আপনার লেখার প্রয়োজন নেই!!! আর কোনো ম্যাচের আগে মিথ্যা খবর দিয়ে একজন খেলোয়াড়ের মানসিকতার সঙ্গে মজা করা অবশ্যই দেশপ্রেমিকের কাজ নয়। আমি অপসাংবাদিকতার বিপক্ষে অবস্থান করছি!

অবশ্য আমি নিউজ পোর্টালগুলোর লিঙ্ক দিতে পারতাম। তবে কারো সুনাম ক্ষুণ্ণ হবে- এমন কাজ আমি করব না!!’

ক্লাস করতে এসে মুশফিক কখনোই গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেনি, বললেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু নিলয়

বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৩৬ তম ব্যাচের ছাত্র ছিল। এখন ইতিহাস বিভাগ থেকেই এম ফিল করছে।

ক্লাস করতে এসে মুশফিক কখনোই গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেনি, বললেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু নিলয়

মুশফিকুর রহিমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আব্দুল্লাহিল মামুন নিলয়। সে তার বন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছে। তার বক্তব্য হুবহু জুমবাংলার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

মুশফিকুর রহিম, অসাধারন একজন মানুষ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। সম্প্রতি তার হল, ব্যাচ, ক্যাম্পাস প্রসঙ্গে অনেকের জানার আগ্রহ থেকে এই লেখার অবতারনা।

মুশফিক ২০০৬-২০০৭ শিক্ষাবর্ষে ৩৬ তম ব্যাচে ইতিহাস বিভাগে মেধা তালিকায় (তখন খেলোয়ার কোটা বন্ধ ছিলো) ভর্তি হয়। ইতিহাসের ১০ জনকে আল বেরুনী হলে সিট দেয়া হয়, তার মধ্যে মুশফিকুর রহিম একজন।

রাজনৈতিক কারণে হেলাল উদ্দিন সুমন প্রথম দিকে বাহিরে থাকলেও পরবর্তী সময়ে একমাত্র সে-ই ইতিহাসের কান্ডাড়ি হয়ে হলে অবস্থান করে। বাকিরা অন্যান্য বন্ধুদের সাথে অন্য হলে অবস্থান করেই ছাত্র জীবন শেষ করে।

মুশফিকুর রহিম আল বেরুনী হলে এলোটেড হলেও বন্ধুদের কারণে এম এইচ হলকে আপন করে নেয়। এম এইচ হল নিজেও মুশফিকুর রহিমকে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখে। ৩৫৮/বি ব্লক মুশফিকের পদচারণায় সর্বদা মুখরিত থাকতো।

হলের হালিমের দোকানে নাস্তা করা আর ইকবালের দোকানে ভুড়িভোজ করা ছিলো নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। এছাড়াও ক্যাফেটেরিয়া ও বটতলায় আমরা প্রায়শই খেয়ে থাকতাম।

মুশফিক ক্যাম্পাস লাইফে একদিন ক্যাম্পাসে রাত্রিযাপন করেন, সেটাও এম এইচ হলে ছিলো। শত ব্যস্ততার মাঝেও সে ক্লাস, পরীক্ষার ব্যপারে খুব সিরিয়াস ছিলো। অসাধারন মেধাবী ছাত্র মুশফিক।

খেলাধুলায় না থাকলে নিঃসন্দেহে সে ডিপার্টমেন্টের সেরা রেজাল্টের ছাত্র হতো। বর্তমানে মুশফিক ও আমি ইতিহাস বিভাগে এম ফিলের ছাত্র। তাকে যদি অতিথি শিক্ষক হিসেবে বিভাগ নিতে পারে তাহলে শিক্ষার্থীরা অনুপ্রানীত হবে।

২৯ মার্চ ২০০৭ আমাদের প্রথম ক্লাস শুরু হয়। আমাদের ক্লাস শুরুর সময় ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ খেলা চলায় মুশফিক প্রথম দিন থেকে ক্লাস করতে পারেনি। ৯ই মে ২০০৭ ঢাকায় বাংলাদেশ ভারত সিরিজ চলাকালীন সময়ে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তার সাথে আমার প্রথম ফোনে কথা হয়।

আমাদের পক্ষ থেকে ফোন পেয়ে সে ব্যাপক উচ্ছ্বসিত হয়। সেদিন তার জন্মদিন ছিলো তখন না জানলেও পরের গুলো উদযাপনে মিস হয়নি।

বন্ধু বান্ধব, ছোট ভাই বোন ও বড় ভাই বোন এবং সম্মানিত শিক্ষকদের প্রতি তার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধের কারণে মুশফিক সকলের প্রিয়ভাজন। তার বিষয়ে কথা বলে শেষ করা কঠিন। তার অনেকগুলো গুনের মাঝে দুইটি গুনের কথা বলে লেখা শেষ করবো।

১. সে কোনোদিনও ক্যাম্পাসে দেরি করে আসেনি। আমার হল থেকে বেড় হতে দেরি হয়েছে কিন্তু সে যথাসময়ে চলে আসছে। ২. ক্লাস করতে এসে সে কখনোই গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেনি।

গেটের সামনে গাড়ি রেখে পায়ে হেটে অথবা রিক্সায় ক্যাম্পাসে চলাফেরা করেছে। তবে খেলার কারণে দুইদিন গাড়ি নিয়ে ঢুকেছিলো। আমার দেখা অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী মুশফিকুর রহিম। আমি বা আমরা তার বন্ধু হতে পেরে গর্বিত।