যেমন ছিল অর্ধ পৃথিবী শাসকের সন্তানের ঈদ

0
58

মো: তালহা তারীফ: মুমিনদের আমির তিনি। শাসন করেন অর্ধ পৃথিবী। তার শাসনামলে নেই কেহ অনাহারে। শান্তিতে বসবাস করে তার এলাকার লোকজন। এমনকি অশান্তিতে নেই বনের জন্তুগুলো। সেই ব্যক্তি ইসলামের জন্য দিয়েছেন তার সম্পত্তি কুরবান। নিজে না খেয়ে খাবার তুলে দিয়েছেন অনাহারের মুখে। সেই মহান শাসক আর কেহ নয়; তিনি হলেন অর্ধ পৃথিবীর শাসক, খলিফা হজরত ওমর (রা:)

সে সময় রাষ্ট্রীয় কোষাগার অর্থাৎ অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন হজরত আবু উবাইদা (রা:)। কোন এক ঈদের পূর্বের দিন খলিফার স্ত্রী খলিফা ওমর (রা:) কে বললেন আগামীকাল ঈদ অথচ আমাদের বাসায় আমাদের জন্য কোন নতুন পোশাক নেই। আমাদের নতুন পোশাক নেই তাতে অসুবিধা নেই, কিন্তু আমাদের আদরের ছোট সন্তানটি নতুন পোশাকের জন্য কান্না করছে। হে অর্ধ পৃথিবীর খলিফা! আমি আপনার স্ত্রী হয়ে অনুরোধ করছি, আপনি শুধু আমাদের সন্তানটির কান্না বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ঈদে একটি নতুন পোশাকের ব্যবস্থা করে দিন।

হজরত ওমর (রা:) সন্তানের চোখে কান্না দেখে তিনি চোখে পানি ধরে রাখতে পারলেন না। যেহেতু ঈদে সন্তানের জন্য একটি পোশাক ক্রয় করার সামর্থ্য তার নেই, তাই অর্ধ পৃথিবীর শাসক হজরত ওমর (রা:) একথা জানিয়ে দিলেন স্ত্রীকে। অত:পর হজরত ওমর (রা:) তার অর্থবিভাগের প্রধান হজরত আবু উবায়দার নিকট ঈদে সন্তানের জন্য পোশাক ক্রয় করার জন্য একমাসের অগ্রিম বেতন দেওয়ার জন্য চিঠি পাঠালেন। মহান শাসক ওমর (রা:)-এর চিঠি পেয়ে হজরত আবু উবায়দা চোখে পানি ধরে রাখতে পারলেন না। অর্ধ পৃথিবীর শাসক অথচ সন্তানের জন্য ঈদে নতুন পোশাক কিনতে পারছে না!

তখন হজরত আবু উবায়দা (রা:) চিঠির বাহককে পোশাক ক্রয়ের অর্থ না দিয়ে চিঠির উত্তরে লিখলেন, হে অর্থ পৃথিবীর শাসক আপনি অগ্রিম বেতন চেয়েছেন কিন্তু অগ্রিম বেতন বরাদ্দের জন্য দুটি বিষয়ে আপনাকে ফয়সালা দিতে হবে। প্রথমত, আগামী মাসের জন্য অগ্রিম বেতন চাচ্ছেন আপনি কি আগামী মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকবেন?

দ্বিতীয়ত, আপনাকে জনগণ আগামী মাস পর্যন্ত খিলাফতের দায়িত্বে বহাল রাখবে কি? ফলে চিঠির বাহক হজরত ওমর (রা:) কে অর্থ না দিয়ে শুধু চিঠি দিলেন। সেই চিঠি পাঠ করার জন্য বাহক বললে হজরত ওমর (রা:) চিঠি পড়ে কোন উত্তর দিলেন না বরং তার চোখের পানিতে দাড়ি ভিজে গেল আর দুইটি হাত প্রভূর দরবারে তুলে দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! হজরত আবু উবায়দার উপর রহম কর, তাকে হায়াত দাও।’
খলিফা দোয়া করলেন হজরত আবু উবায়দার জন্য। কিন্তু ঈদে অর্ধ পৃথিবীর শাসকের সন্তানের জন্য পোশাক ক্রয় করা হলো না। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসীর)