ভারতের বিপক্ষে আজকের ম্যাচ নিয়ে যা বললেন মাশরাফি!

0
253

ভারতের বিপক্ষে আজকের- এশিয়া কাপের উড়ন্ত সূচনা করেও গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে হেরেছে বাংলাদেশ দল। আফগানিস্তানের বিপক্ষে দাড়াতেই পারল না মাশরাফি বাহিনী।

আফগানদের দেয়া ২৫৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। মাত্র ১১৯ রানে গুটিয়ে যায় টিম টাইগার। আর ১৩৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারে ম্যাচটি।

তবে এই ম্যাচ নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই দলীয় অধিনায়কের। সামনে সুপার ফোর। আর সুপার ফোরে নিজেদের সেরাটা দিয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে চায় বাংলাদেশ।

শুক্রবার (২১ সেপ্টেম্বর) শুরু হচ্ছে সুপার ফোর পর্ব। প্রথম ম্যাচেই ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে সুপার ফোরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় তার কণ্ঠে।

মাশরাফি বলেন, প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়ে ৪০ ওভার পর দারুণ করেছে আফগানরা। শেষ ১০ ওভারে আমাদের বোলাররা কেউই সুবিধা করে উঠতে পারেনি। পরে ব্যাটিংটাও যাচ্ছেতাই হয়েছে। বলতে পারেন তারা আমাদের উড়িয়ে দিয়েছে। সত্যিকার অর্থেই আফগানিস্তান ভালো খেলেছে।

তিনি আরও বলেন, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছেলেদের শান্ত ও সতেজ থাকতে হবে। এরকম গরমে পরপর দুই দিন খেলা কষ্টকর। ঘুরে দাঁড়ানোও কঠিন। তবে আমরা ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছি। আশা করছি, ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে পারব।

নিয়মরক্ষার ম্যাচ বলে মুশফিকুর রহিম ও মোস্তাফিজুর রহমান খেলেনি জানিয়ে মাশরাফি বলেন, মুশফিক ও মোস্তাফিজকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছিল। তারা ফিরলে ভালো হবে। দলের শক্তিমত্তা বাড়বে। আশা করছি, ভালো কিছুই হবে।

মর্তুজা বাংলাদেশের সফলতম পেস বোলারদের একজন। আক্রমণাত্মক, গতিময় বোলিং দিয়ে অনূর্ধ-১৯ দলে থাকতেই তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাবেক ফাস্ট বোলার অ্যান্ডি রবার্টসের নজর কেড়েছিলেন, যিনি কিনা তখন দলটির অস্থায়ী বোলিং কোচের দায়িত্বে ছিলেন। রবার্টসের পরামর্শে মাশরাফিকে বাংলাদেশ এ-দলে নেয়া হয়।[৮]

নড়াইল সরকারী ভিক্টোরিয়া কলেজ, এ কলেজেই পড়াশোনা করেছেন মাশরাফি

বাংলাদেশ এ-দলের হয়ে একটিমাত্র ম্যাচ খেলেই মাশরাফি জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান। ৮ নভেম্বর, ২০০১ এ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটে তার অভিষেক ঘটে। [৯] একই ম্যাচে খালেদ মাহমুদেরও অভিষেক হয়। বৃষ্টির বাগড়ায় ম্যাচটি অমীমাংসিত থেকে যায়। মাশরাফি অবশ্য অভিষেকেই তার জাত চিনিয়ে দেন ১০৬ রানে ৪টি উইকেট নিয়ে। গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার ছিলেন তার প্রথম শিকার।[১০] মজার ব্যাপার হল, মাশরাফির প্রথম ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচও ছিল এটি। তিনি এই বিরল কৃতিত্বের অধিকারী ৩১তম খেলোয়াড় এবং ১৮৯৯ সালের পর তৃতীয়। একই বছর ২৩শে নভেম্বর ওয়ানডে ক্রিকেটে মাশরাফির অভিষেক হয় ফাহিম মুনতাসির ও তুষার ইমরানের সাথে। অভিষেক ম্যাচে মোহাম্মদ শরীফের সাথে বোলিং ওপেন করে তিনি ৮ ওভার ২ বলে ২৬ রান দিয়ে বাগিয়ে নেন ২টি উইকেট।[১১]

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যক্তিগত তৃতীয় টেস্ট খেলার সময় তিনি হাঁটুতে আঘাত পান। এর ফলে তিনি প্রায় দু’বছর ক্রিকেটের বাইরে থাকতে বাধ্য হন। ইংল্যন্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট খেলায় তিনি সফলতা পান। ৬০ রানে ৪ উইকেট নেয়ার পর আবার তিনি হাঁটুতে আঘাত পান। এযাত্রায় তিনি প্রায় বছরখানেক মাঠের বাইরে থাকতে বাধ্য হন।

২০০৪ সালে ভারতের বিরুদ্ধে খেলার সময় রাহুল দ্রাবিড়কে অফ-স্ট্যাম্পের বাইরের একটি বলে আউট করে তিনি স্বরুপে ফেরার ঘোষণা দেন। সেই সিরিজে তিনি ধারাবাহিকভাবে বোলিং করেন এবং তেন্ডুলকর ও গাঙ্গুলীকে আউট করার সুযোগ তৈরি করেন। তবে ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় তিনি উইকেট পাননি। এই সিরিজের একটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে অবিস্মরণীয় জয়ের নায়ক ছিলেন তিনি।

২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তিনি ভালো বল করেন। বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে তার গড় ছিল সবচেয়ে ভাল। কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নাটকীয় জয়ে তিনি অবদান রাখেন। তিনি মারকুটে ব্যাটসম্যান অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে শূন্য রানে আউট করেন এবং দশ ওভারে মাত্র ৩৩ রান দেন।

ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশে ভালো পেস বোলারের ঘাটতি ছিল। বাংলাদেশে মোহাম্মদ রফিকের মত আন্তর্জাতিক মানের স্পিনার থাকলেও উল্লেখযোগ্য কোন পেস বোলার ছিল না। মাশরাফি বাংলাদেশের সেই শূন্যস্থান পূরণ করেন

২০০৬ ক্রিকেট পঞ্জিকাবর্ষে মাশরাফি ছিলেন একদিনের আন্তর্জাতিক খেলায় বিশ্বের সর্বাধিক উইকেট শিকারী। তিনি এসময় ৪৯টি উইকেট নিয়েছেন।

২০০৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় জয়ে মর্তুজা ভূমিকা রেখেছেন। তিনি ৩৮ রানে ৪ উইকেট দখল করেন। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি খেলায় নিউজিল্যান্ডের সাথে বিজয়েও মাশরাফির ভূমিকা রয়েছে।

মাশরাফি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গতির বোলার এবং সমর্থকদের কাছে “নড়াইল এক্সপ্রেস” নামে পরিচিত।

মাশরাফি একজন মারকুটে ব্যাটসম্যান। ভারতের বিপক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক খেলায় তিনি পরপর চার বলে ছক্কা পেটান। সেই ওভার থেকে তিনি ২৬ রান সংগ্রহ করেন যা কোন বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানের জন্য এক ওভারে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

১৬ বছরের ক্যারিয়ারে ১১ বার চোটের কারণে দলের বাইরে যেতে হয়েছে মাশরাফিকে। চোটই তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল ২০১১ সালের দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ। ২০১৬ সালের রকেট বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় খেলায় ২ উইকেট সংগ্রহের মাধ্যমে মোট ২১৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারী হিসাবে তুলে ধরেন নিজেকে।