গ্রামের পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরছেন মাশরাফি

0
78

গ্রামের পুকুরে জাল- তিনিও যে সাধারণদের মতো তার প্রমাণ মেলেছে বহুবার। গ্রামে লুঙ্গি পরে হেঁটে বেড়ানো। ঈদে কিংবা ছুটিতে বাড়িতে বেড়াতে গেলে পাড়া প্রতিবেশীদের খোঁজ খবর নেওয়া অন্যতম কাজ হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার।

তবে এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে মাশরাফিকে দেখা যায় গ্রামের পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরতে। ছবিটি কবে-কখনকার সে বিষয়ে কিছু না জানা গেলেও সুস্পষ্ট যে মাশরাফি সত্যিই মাটির মানুষ। লক্ষ-কোটি টাকার ভেলকি আর আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা তার মনে বিন্দু মাত্র আহংকারিবোধ জন্ম দেয়নি।

খেলোয়াড় মাশরাফিকে তো চেনাই আছে। মাঠে মাশরাফি যেমন দুরন্ত, মাঠের বাইরে ততটাই অনন্য। মাশরাফি নড়াইলে গেলেই সাড়া পড়ে যায়।

দেশের এক তারকা ক্রিকেটার আসবেন বলে নয়, মানুষ অপেক্ষা করে বিরাট হৃদয়ের এক মানুষের জন্য। যার হৃদয় কাঁদে দুস্থ, অসহায় মানুষের জন্য। ব্যথীত হন মানুষের দুঃখ-কষ্টে। হাতটা বাড়িয়ে দেন বিপদগ্রস্ত মানুষের দিকে। অনাথ শিশু এবং গরীবদের পাশে থাকতে ভালো লাগে তার।

নিরহংকার মাশরাফি বন্ধুকে স্বাবলম্বী করতে আর্থিক সংকটে হাবুডুবু খাওয়া কয়েকজন বন্ধুকে নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ পৌর সুপার মার্কেটে দোকান করে দেন মাশরাফি। বন্ধু রাজু, সাজু, অসীমকে জীবনের পথ দেখান।

এছাড়াও মাশরাফির অর্থায়নে চলে নড়াইলের ‘শুভেচ্ছা ক্লাব’। নানা আতাউর রহমানের নামে চালু হওয়া ক্রিকেট

একাডেমি চলে মাশরাফির অর্থায়নে।

নিজের টাকায় আর্থিক সংকটে হাবুডুবু খাওয়া বন্ধুদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টার কোনো কমতি নেই ‘নড়াইল এক্সপ্রেসে’র। তাদের বুকে টেনে নেন মাশরাফি।

বন্ধুদের জন্য তার অকৃত্রিম ভালোবাসা, মানুষের বিপদে-আপদে এগিয়ে আসা, দুস্থজনের পাশে দাঁড়ানো—এ কারণেই নড়াইলে মাশরাফি দূর আকাশের তারা নন, যেন অতি আপনজন। খুব কাছের কেউ একজন। কেবলই নড়াইল কেন, মাশরাফি তো সারা বাংলাদেশের। কেবল ক্রিকেটার হিসেবেই নয়, আকাশসম হৃদয়ের এক মানুষ হিসেবে।

তবে জানেন কী? মাশরাফি নামক এই মহানায়ক কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিষয় নিয়ে পড়ালেখা করেছেন? ১৬ কোটি বাঙালির আস্থার প্রতীক ও বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক মাশরাফি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩ তম আবর্তনের ( ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষ ) দর্শন বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

গত বছর ২০ অক্টোবর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দর্শন বিভাগের ৩৩তম ব্যাচের এক যুগপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও দেশের প্রথম নারী ভাইস চ্যান্সেলর ড. ফারজানা ইসলামকে সম্মাননা প্রদান করবে দর্শন বিভাগ।

অসামান্য এক প্রতিভাধর ক্রিকেটার তিনি। যেমনই প্রতিভা, তেমনই ব্যক্তিত্ব। সহজে মানুষকে আপন করে নেয়ার সবগুলো গুণ তার মধ্যে বিদ্যমান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তথা সারা বাংলাদেশের গর্ব তিঁনি।

মাশরাফি,বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকার একজন শুধু নন। তারকা হয়েও তিনি দূরাকাশে নন, হাতের কাছেই থাকেন। মাশরাফি বলতে চান, ‘আমি তোমাদেরই লোক।’ মাশরাফি সত্যিই অন্য রকম!

খেলা চলাকালীন ফের মুশফিক ভক্তের পাগলামী

সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে আবারও খেলা চলাকালীন নিরাপত্তারক্ষীদের চোখে ধুলো দিয়ে মাঠে ঢুকে পড়ল এক মুশফিক ভক্ত। মাঠে ঢুকেই মুশফিকুর রহিমকে জড়িয়ে ধরে সেই কিশোর ভক্ত। প্রথম দিনের ন্যায় তৃতীয় দিনেও এমন ঘটনার স্বাক্ষী হলো সিলেট আন্তজার্তিক স্টেডিয়াম।

ঘটনাটি ঘটে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন লাঞ্চের পরপর। নিরাপত্তা বাঁধা এড়িয়ে হঠাৎ করেই মাঠে ঢুকে পড়েন ১৫-১৬ বছরের এক কিশোর। মাঠে ঢুকে দৌঁড়ে এসে মুশফিককে জড়িয়ে ধরেন তিনি। পরে অবশ্য সাবেক এই অধিনায়কও জড়িয়ে নেন তার ভক্তকে। এরপর নিরাপত্তারক্ষীরা বের করে আনেন ছেলেটিকে।

সিলেট টেস্টের প্রথম দিনেও এমন ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা এড়িয়ে মাঠে ঢুকে এক ১০-১২ বছরের এক কিশরোর। মুশফিককে পেছনের দিক থেকে জড়িয়ে ধরে সে। খুদে এই ভক্তের কাণ্ড দেখে মুশফিক নিজেও অবাক হয়ে যান।

তবে পরমুহূর্তেই খুদে ভক্তের সঙ্গে কোলাকুলি করে তার খুশি আরও বাড়িয়ে তোলেন সাবেক এই টেস্ট অধিনায়ক। নিরাপত্তারক্ষীরা ছুটে এসেছিলেন। মুশফিক তাদেরকে অনুরোধ জানান, যেন তার খুদে ভক্তের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না ঘটে।

এরপর দ্বিতীয় দিনেও নড়বড়ে নিরাপত্তার প্রমাণ মেলে সিলেট টেস্টে। তবে ভক্ত নয় দ্বিতীয় দিন মাঠে ঢুকে যায় একটি কুকুর। হতভম্ব হয়ে যায় জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়ররাও। পরে খেলার চলাকালীনই মাঠে ঢুকে কুকুরকে বের করে আনেন নিরাপত্তারক্ষীরা। এই নিয়ে টানা তিন দিন এমন ঘটনা ঘটে যাচ্ছে সিলেটের অভিষেক টেস্টে।

সরাসরি স্টাম্প উড়িয়ে ১০ উইকেট নিলেন তাইজুল

প্রথম ইনিংসেই বাংলাদেশ পিছিয়ে গেলো ১৩৯ রানের বিশাল ব্যবধানে। দ্বিতীয় দিন শেষে জিম্বাবুয়ে এগিয়ে থাকলো ১৪০ রানে। তবুও দ্বিতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলাদেশের স্পিনার তাইজুল ইসলামের কণ্ঠে আশার সুর, জিততেও পারে বাংলাদেশ।

তবে তার জন্য কয়েকটি শর্ত পালন করতে হবে। সেটা হচ্ছে, যত দ্রুত সম্ভব, খুব বেশি হলে ১৫০ রানের মধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে বেধে রাখতে হবে জিম্বাবুয়েকে। এরপরের দায়িত্ব ব্যাটসম্যানদের।

সফরকারী দলটিকে কম রানে বেধে রাখতে হলে তৃতীয় দিনের শুরুতেই একটা ব্রেক থ্রু এনে দেয়া প্রয়োজন ছিল। সেই ব্রেক থ্রুটাই এনে দিলেন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। ফিরিয়ে দিলেন জিম্বাবুয়ে ওপেনার ব্রায়ান চারিকে। ১৯ রানে পড়লো প্রথম উইকেট।

জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা এবং ব্রায়ান চারি মিলে দ্বিতীয় দিন শেষ বিকেলে মাত্র ১ রান করে সাজঘরে যান। আজ সকালে সেখান থেকে শুরু করার পর আরও ১৮ রান যোগ করেন তারা। এরই মধ্যে তাইজুল, আবু জায়েদ রাহী, নাজমুল ইসলাম অপুদের ব্যবহার করে ফেলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

মেহেদী হাসান মিরাজকে আনার পর দ্বিতীয় ওভারেই সাফল্য এনে দেন তিনি। অসাধারণ একটি বল করেন তিনি ব্রায়ান চারিকে। ইনিংসের ১৩তম ওভারের দ্বিতীয় বলটিকে মিরাজ ভাসিয়ে দেন বাতাসে।

চারি একটু ফরোয়ার্ড ফুটে এসে খেলার চেষ্টা করেন। কিন্তু বল টার্ন করে গিয়ে লাগে ব্যাটের ভেতরের কানায় এবং ব্যাটকে চুমু দিয়ে গিয়েই স্ট্যাম্পটা ভেঙে দেয় সেই বলটি। বোল্ড হয়ে যান চারি। ৩৩ বল খেলে ৪ রান করেন তিনি।

তার আউট হওয়ার পর মাঠে নামেন ব্রেন্ডন টেলর। মাঠে নেমেই কিছুটা চড়াও হয়ে খেলা শুরু করেন তিনি। তবে, তাকে বেশিদুর এগুতে দিলেন না তাইজুল ইসলাম। দলীয় ৪৭ রানের মাথায় তাকেও ফিরিয়ে দিলেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

প্রথম ইনিংসে তাইজুলের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনি উইকেট দিলেন তাইজুলকে। ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি খেলতে গিয়েই ক্যাচ তুলে দেন টেলর। পেছনে দিকে অনেকদুর দৌড়ে গিয়ে ক্যাচটা তালুবন্দী করেন ইমরুল কায়েস। ২৫ বলে ২৪ রান করে ফিরে যান টেলর।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ৬ উইকেট হারিয়ে ১৩০ রান। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট শিকারের পর এই ইনিংসে একাই নিয়েছেন ৪ উইকেট।