রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল-২০১৮: মুসোলিনি-বেনিয়োনের পথেই কী হাঁটবেন পুতিন?

0
30

জনশ্রুতি আছে, ১৯৩৮-এ ইতালিকে জেতানোর জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই করেছিলেন মুসোলিনি। তার হস্তক্ষেপেই আর্জেন্টিনার বদলে বিশ্বকাপ আয়োজকের দায়িত্ব পায় ফ্রান্স। টানা দুইবার ইউরোপে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর আক্রোশে ফেটে পড়ে সমগ্র লাতিন আমেরিকা। রাগে-ক্ষোভে বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় আর্জেন্টিনা, টানা দ্বিতীয়বার খেলা থেকে বিরত থাকে উরুগুয়ে।

মুসোলিনির প্রতাপ সেবার এতটাই বেশি ছিল, প্রাক্তন বিশ্বকাপ ট্রফি যার নামে ছিল, সেই জুলে রিমে পর্যন্ত আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন, ‘সেবার আমরা (ফিফা) বিশ্বকাপ আয়োজন করিনি, করেছিলেন মুসোলিনি!’

১৯৭৬ সালে আর্জেন্টিনার ক্ষমতা দখল করে নেয় সেনাবাহিনী। তৎকালীন স্বৈরশাসক রেনালদো বেনিয়োনের জনসমর্থনের দরকার ছিল। আর ১৯৭৮ এর বিশ্বকাপ জয়কেই এর প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছেনিয়েছিলেন তিনি। গ্রুপ পর্ব থেকে প্রতিটি ম্যাচেই প্রভাব বিস্তার করেন বেনিয়োনে।

এরপর ফাইনালের গল্প শুনবেন, সেখানেও সমালোচনা হয়েছে। বলা হয়, ইচ্ছে করেই ম্যাচকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে আর্জেন্টিনা। অথচ শুরুটা কিনা অসাধারণ করেছিলো ডাচরা। তাদের সামনে প্রায় পাত্তাই পাচ্ছিলো না স্বাগতিকরা। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন খেলা ঘুরে যায়। নিয়ন্ত্রণ চলে যায়, আর্জেন্টিনার কাছে। হিরো বনে যান, ক্যাম্পেস।

ভ্লাদিমির পুতিন– এক নামেই তাঁকে চিনতে হয়। এই গ্রহের মানুষগুলোর কাছে তিনি অতি পরিচিত এক নেতৃত্ব। শাসক হিসাবে শুধু নিজ দেশের নয়, বিশ্ব রাজনীতিতে তাঁর চরিত্র সাম্রাজ্যবাদীর সংজ্ঞাকে কাছে টানে। পুতিনের রাজনীতি নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। পুতিন বিশ্বকাপ আয়োজক হিসাবে সম্ভাব্য সফলতা পেতে পারেন।

তবে তাঁর দুঃখ এখন রাশিয়া ফুটবল স্কোয়াড । যাদেরকে নিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বিশ্বের একটি প্রাণও দেখছে না। অথচ এমন ছিল না। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন যেমন বিশ্ব রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের এক সময়ের আধিপত্যবাদী শক্তি ছিল, ছিল ক্রীড়াঙ্গনের ‘প্রাণ’ ফুটবলের দেশ হিসাবেও। সেই সোভিয়েত ইউনিয়ন একদিন টুকরো টুকরো হয়ে গেলো।