ফুটপাতের খাবার বিক্রেতা থেকে সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতি!

0
203

ফুটপাতের খাবার বিক্রেতা- সিঙ্গাপুরের প্রথম নারী রাষ্ট্রপতির নাম হালিমা ইয়াকোব। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম বাবা এবং মালয় মায়ের সন্তান হালিমার জন্ম ১৯৫৪ সালে।

৮ বছর বয়সে পিতার মৃত্যুর পর মায়ের সাথে ফুটপাথে খাবার বিক্রি করার পাশাপাশি পড়াশুনা চালিয়ে যান। পরিবারে ৫ ভাইবোনের সাথে দারিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করে একসময় পড়াশুনা শেষ করার পর আইনজীবী হিসেবে পেশা শুরু করেন।

পাঁচ সন্তানের জননী হালিমা শাসক দল পিপলস অ্যাকশন পার্টির কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ২০০১ সালে এমপি নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে প্রতি মন্ত্রী, ২০১২ সালে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে তিনি সিঙ্গাপুর পার্লামেন্টের স্পীকার নির্বাচিত হন।

২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার জন্য স্পিকার পদ থেকে ইস্তফা দেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের একমাত্র বৈধ প্রার্থী হওয়ায় তাকেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন দেশটির প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা।

ইমরানের জন্য খোলা হলো কাবা শরীফের দরজা

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের একমাস পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মঙ্গলবার সৌদি পৌঁছেছেন ইমরান খান। বুধবার তিনি পবিত্র ওমরাহ হজ পালন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জন্য পবিত্র কাবা শরীফের দরজা খোলা হয় এবং তিনি পবিত্র কাবা শরীফের ভেতরে প্রবেশ করার সুযোগ পান। সেসময় তিনি মুসলিম বিশ্বের জন্য দোয়া করেন। সাধারণত সবার জন্য কাবা শরীফের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি নেই।

কিন্তু সৌদি সফরে এই সুযোগ পেলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এর আগে মদিনায় মহানবী হযরত মুহাম্মদের (স.) রওজা মুবারক জিয়ারত এবং কিছু সময় কাটানোর পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেদ্দায় পৌঁছান তিনি।

ইমরান খান দেশটির বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে মক্কার সহকারী আমির আবদুল্লাহ বিন বানদার, দেশটির গণমাধ্যম বিষয়ক মন্ত্রী ডা. আওয়াদ আল আওয়াদ, জেদ্দার মেয়র সালেহ আল তুর্কি, সৌদিতে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত নওয়াফ বিন সাঈদ আল মালকি এবং সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।

সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে দেশটিতে সফরে গেলেন পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সফরসঙ্গী হিসেবে এ সফরে গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মুহাম্মদ কোরেশী, অর্থমন্ত্রী আসাদ উমর এবং মন্ত্রীসভার বেশ কয়েকজন সদস্য। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আবু ধাবিতে যাবেন তিনি। যেখানে তার ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ দেখার কথা রয়েছে।

বিশ্বে একটি দেশ আছে যে দেশের একটি জেলার নাম বাংলাদেশ, জানেন কি?

বাংলাদেশ নামে আর্মেনিয়ার একটি জেলা আছে’ প্রথমবারের মতো এ কথা শোনার পর নিজের কানকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না। ইয়েরেভান এয়ারপোর্টে অবতরণ করে ডলার এক্সচেঞ্জ করতে গেলে একজন আর্মেনিয়ানের সঙ্গে কথা হয়।

আমরা বাংলাদেশ থেকে আসছি শুনেই তিনি ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে যা বললেন তার অর্থ হচ্ছে, ‘ইয়েরেভানের একটি জেলার নাম বাংলাদেশ।’ আমাদের কৌতুহলি জিজ্ঞাসা, ইজ ইট ফান? আর ইউ শিওর? জবাব- নো নো, ইটস নট ফান। ইউ ক্যান ভিজিট দেয়ার।

এতে একটু বিস্ময় নিয়েই বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে এলাম।বাইরে আমাদের রিসিভ করতে অপেক্ষা করছিলেন মূকাভিনয় উৎসব আয়োজক কমিটির সদস্যরা।

বের হতেই দেখলাম ‘লিওনিড ইয়েঙবারিয়ান ইন্টারন্যাশনাল মাইম ফেস্টিভাল’ লেখা পোস্টার হাতে দাঁড়িয়ে আছেন একজন দীর্ঘদেহী তরুণ। আমাদের দেখে এগিয়ে এলেন।

তার সঙ্গে আসলেন একজন তরুণী। প্রাইভেটকারে বিমানবন্দর ত্যাগ করতে করতে কথা হয় তাদের সঙ্গে। স্মার্ট তরুণ বাগরাত এবং তরুণী আর্মেনি মুহতাসিয়ান।মুহতাসিয়ান ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী। একজন আর্টিস্ট এবং একইসঙ্গে জবও করেন।

বিভিন্ন কথা প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, ‘বাংলাদেশ’ নামক একটি জেলা রয়েছে ইয়েরেভানে।আমরা এরপরও বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারছিলাম না। আবার মনে মনে ভাবলাম থাকতেও পারে।

আমাদের ঢাকায় যদি আর্মানিটোলা থাকতে পারে তবে আর্মেনিয়ায় বাংলাদেশ নামে কিছু থাকতে পারবে না কেন। তাই আমরা আর্মানিটোলার ইতিহাসটি সংক্ষেপে তাদেরকে জানালে তারাও কৌতুহলী হলেন।

আর্মেনিয়ায় বাংলাদেশ নামক জেলায় ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান নিয়েই রাতে আমাদের জন্য বুকিং করা হোটেলে উঠলাম। এরপর রাতেই ফাইনাল পরিকল্পনা করলাম, সকালে আমাদের প্রথম কাজ হবে এখানকার ‘বাংলাদেশ’ সফর করা।

সকালে উৎসব আয়োজক কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক এনার সঙ্গে সাক্ষাতেও জানতে চাইলাম বাংলাদেশ জেলা প্রসঙ্গে। কেন এই নামকরণ, বিষয়টি সম্পর্কে তিনিও স্পষ্ট নন।

তবে তার ধারণা, হয়তো কোন ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে। তার সঙ্গে আলাপ সেরেই আমরা মস্কুভিয়ান স্ট্রিট থেকে ৯৯ নাম্বার বাসে রওনা হলাম বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে।

পাহাড়-পর্বতে ঘেরা আর্মেনিয়ার রাজধানী ও বৃহত্তম শহর ইয়েরেভানের আয়তন ৮৮ বর্গমাইল। উচ্চতা ৯৮৯.৪ মিটার (৩২৪৬.১ ফুট)। মূল কেন্দ্র রিপাবলিক স্কয়ার থেকে যতো সামনে এগিয়ে যাচ্ছি ততোই নিচে নেমে যাচ্ছি।

ওদিকটায় রাস্তার দুপাশে সারি সারি গাছ। কিছু সবুজ মাঠও আছে। আরেকটু সামনে গিয়ে বিশাল এক পুকুরের দেখা মিলল। পাহাড়ে সবুজ বৃক্ষও দেখতে পাচ্ছি। ৩০ মিনিট পর পৌঁছলাম। দারুণ সাজানো সুন্দর এই বাংলাদেশ।

রাস্তায় বিল বোর্ডে ইংরেজি বানানের ‘বাংলাদেশ’ নাম খুঁজে পেলাম না। আর্মেনিয়ান ভাষায় সবকিছু লেখা। কিন্তু স্থানীয়রা উচ্চারণ করছেন ‘বাংলাদেশ’। গাড়ি চালক বলছেন, ‘বাংলাদেশ পৌঁছে গেছি, নেমে পড়ুন’।

সবুজে ঘেরা আর্মেনিয়ার ‘বাংলাদেশ’

স্থানীয় একটি দোকানে ঢুকে আমাদের পরিচয় দিতেই ব্যাপক কৌতুহলী দোকানদার। ইংরেজি বলতে পারেন না একটুও। কিছুটা বুঝতে পারেন। সেলফি তোলার অফার দিলে রাজি হলেন। কথা প্রসঙ্গে জানতে চাইলাম বাংলাদেশ কিভাবে হলো? তিনিও বলতে পারলেন না তেমন কিছু।

ধারণা করা হয়, ঢাকায় আর্মানিটোলার একটি ঐতিহাসিক ধারা এখানে ভূমিকা রেখেছে।অষ্টাদশ শতকে যারা ব্যবসা, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কারণে আর্মেনিয়ায় গিয়েছিলেন তারা সম্ভবত আর্মেনিয়ায় এই নামকরণ করেন। কিন্তু তা অনুমান নির্ভর।

তবে গুগল সার্চ করে এই এলাকার নাম পাওয়া গেলো ‘মালাতিয়া সেবাস্তিয়া’।অফিসিয়াল নাম এটি হলেও স্থানীয়দের কাছে ‘বাংলাদেশ’ হিসেবেই পরিচিত। বাসযাত্রী, দোকানদার, পুলিশসহ যাকেই বলুন না কেন সবাই চেনেন বাংলাদেশ নামেই।

এমনকি আমরা যখন নিজেদের পরিচয় দিয়ে বলি যে, ‘উই আর ফ্রম বাংলাদেশ’ তখন প্রথমে সবাই আর্মেনিয়ার বাংলাদেশের কথাই মনে করছেন! পরে আমাদের নিজের দেশের বর্ণনা দিলে বিষয়টি তাদের কাছে স্পষ্ট হয়।

গুগলে প্রাপ্ত একটি আর্টিকেল থেকে জানা গেলো এই এলাকার নাম ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ‘বাংলাদেশ’ হিসেবে পরিচিতি পায়। এছাড়া আর্মেনিয়াকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান স্বীকৃতি দিতে কার্পণ্য করার প্রতিবাদে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান থেকেও এমন নামকরণ করা হতে পারে।

এই আর্টিকেলের সঙ্গে সহমত পোষণ করে স্থানীয় অনেকে বলছেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নিপীড়িত মানুষের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই জায়গার নাম বাংলাদেশ নামকরণ করা হয়েছিল।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান জানিয়ে আর্মেনিয়ার এই জেলার নামকরণের খবর এবং পুরো ইয়েরেভানে তা পরিচিত হওয়ার বিষয় বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের জন্য আনন্দের, গর্বের।

আমরা বেশ আনন্দ নিয়ে এই বাংলাদেশে ঘুরলাম। অনেকগুলো ছবি তুললাম। স্থানীয় দোকানদারের সঙ্গে সেলফিটাও তুললাম। এরপর এক কেজি আপেল কিনে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে এলাম ইয়েরেভানে। ফেরার সময় বারবার মনে হচ্ছিলো বোধয় কিছু রেখে যাচ্ছি, সত্যি রেখে যাচ্ছি।