ক্যান্সারের নতুন ওষুধ আবিষ্কার করলেন কে এই ফিনাজ খান!

0
35

ক্যান্সারের নতুন ওষুধ- ক্যান্সার নিয়ে গবেষণা করে কেমােথেরাপির নতুন ওষুধ আবিষ্কার করলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতার বেলগাছিয়ার হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে ফিনাজ খান।

২৩ বছর বয়সী এই গবেষকের সাফল্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আমেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রী রসায়নে স্নাতকোত্তর করার সময়ই ক্যান্সার নিয়ে গবেষণা করেন। নিজের গবেষণায় কেমােথেরাপির নতুন ওষুধ আবিষ্কার করেন ফিনাজ।

তার গবেষণাকে স্বীকৃতি দিয়েছে লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রি। শিগগিরই ফিনাজের তৈরি কেমোথেরাপির নতুন ওষুধ বাজারে পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে লন্ডনের এই সংস্থা।

হতদরিদ্র সংখ্যালঘু পরিবারের সন্তানের এই অসামান্য কৃতিত্বে খুশির হাওয়া বইছে বেলগাছিয়া জুড়ে। বরাবরই মেধাবী ছাত্রী ফিনাজ খান। স্কুল জীবন থেকেই আলাদা কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন ছিল তার।

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত এপিজে আব্দুল কালাম পশ্চিমবঙ্গের এই তরুণী গবেষকের আদর্শ। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুলে একবার প্রজেক্টারের মাধ্যমে সাবেক এই রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শুনেছিলেন ফিনাজ।

তার কথায়, ‘সেই দিনই মনে হয়েছিল, আমিও চেষ্টা করলে কিছু করতে পারি। তখন থেকেই মনে হয়েছিল এমন একটা কিছু করব যেটা মানুষের বা সমাজের কাজে আসবে।’

সেই লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে চলেন তিনি। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে গুরুদাস কলেজ থেকে কেমিস্ট্রিতে গ্র্যাজুয়েশন করে আমেটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হন। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিনাজ খান ছিলেন প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মাস্টার্সে তার প্রজেক্টের বিষয় ছিল ক্যান্সার। তখনই নতুন কিছু করার জেদ চেপে বসে ফিনাজের মধ্যে। তিনি বলেন, ‘কেমােথেরাপিতে দু’ধরনের ওষুধ দেয়া হয়।

এক ধরনের ওষুধ তাৎক্ষণিকভাবে কাজ শুরু করলেও, আর এক ধরনের ওষুধ কাজ করতে সময় লাগে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। তবে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের কেমােথেরাপি দিলে শরীরের কােষগুলো মারা যায়। মাথার চুল উঠে যায়। একইসঙ্গে বেশ ব্যয়বহুল চিকিৎসা।’

‘ক্যান্সার নিয়ে প্রজেক্ট পাওয়ার পর এই জায়গাটা আমাকে ভাবিয়েছিল। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া স্বল্প খরচে কীভাবে রোগীদের কেমােথেরাপির ওষুধ তৈরি করা যায়, তা নিয়ে শুরু করলাম গবেষণা। সেই গবেষণায় আমার ম্যাডাম সাহায্য করেন।

গবেষণা করতে গিয়ে দেখলাম, সেটা সম্ভব। একটি মাত্র ওষুধের মাধ্যমে শরীরের যে অংশে ক্যান্সার হয়েছে, সেখানে কেমোথেরাপি দেয়া সম্ভব এবং তাৎক্ষণিকভাবে কাজ করবে এটি। একইসঙ্গে এই ওষুধের কাজ দীর্ঘস্থায়ী হবে।’

তিনি বলেন, ‘এরফলে খরচ অনেক কম হবে। এছাড়াও শরীরের কোষ জীবিত থাকবে। এটিই আমার আবিষ্কার। লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রির মতো সংস্থা স্বীকৃতি দেয়ায় আমার পরিশ্রম সফল হয়েছে।’

এখানেই শেষ নয়, বর্তমানে ক্যান্সারের টিকা আবিষ্কার নিয়েও আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করছেন ফিনাজ। ফিনাজ খানের বাড়িতে পড়াশোনা করার মতো পরিকাঠামাে নেই; নেই চেয়ার টেবিল। বাবা মা ও তিন বোনের সংসার।

বোনদের মধ্যে তিনিই বড়। অভাব-অনটন প্রতি মুহূর্তে কড়া নাড়ছে ঘরে। বাবা ঘুরে ঘুরে সাবান বিক্রি করেন। মা ভীষণ অসুস্থ। ঠিক ভাবে চলতে পারেন না। অভাবে মায়ের চিকিৎসাও করাতে পারছেন না তিনি।

এমন দরিদ্র পরিবার থেকে বিশ্ব দরবারে নাম উঠে আসায় খুশি ফিনাজের বাবা-মা। বাবা মায়ের কথা আসতেই আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েন ফিনাজ। এত কষ্টের মধ্যেই পড়াশোনা থেমে নেই তিন বোনের।

ফিনাজ নিজে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্যান্সার টিকাকরণ নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যাল থেকে বি এড করছেন। দুই বোনের একজন বিএসসি দ্বিতীয় বর্ষে, অন্যজন প্রথমবর্ষে পড়াশোনা করছে।

ফিনাজের বাবা মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন কষ্টের মধ্যে তিন মেয়ের স্বপ্নকে সফল করতে প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলেছেন। অসুস্থতা নিয়েই তিন মেয়ের জন্য পরিশ্রম করছেন মা। সংসারের এই পরিস্থিতি দেখে পড়াশোনার মধ্যেই চাকরিতে যোগ দিতে হয়েছে ফিনাজকে। বেনিয়াপকুরের একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন তিনি।

এখন তার লক্ষ্য ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করা। কিন্তু হতদরিদ্র পরিবারের এই মেধাবী ছাত্রীকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি কেউ। ফিনাজের আর্তি, রাজ্য সরকার যদি তাকে সহযোগিতা করে, তাহলে ভালোভাবে পিএইচডি করতে পারবেন। টিডিএন।

কুমারী হয়ে এখানে এসেছিলাম কিন্তু মাত্র ৩ সপ্তাহেই সবশেষ

বিথী (ছদ্মনাম)। আনুমানিক ২২ বছর বয়সী এই তরুণীর বাবা কাজে অক্ষম। পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় তার মাথায়ই ভার পড়ে পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণের। কাজ খুঁজতে গিয়ে পড়েন দালালের হাতে। চাকরি দেয়ার কথা বলে দালাল তাকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেন দৌলতদিয়ার নিষিদ্ধপল্লীতে।

পল্লীতে আসার সময় কুমারী থাকলেও মাত্র তিন সপ্তাহেই তাকে ৬০ জনের মতো খদ্দেরের সঙ্গে বিছানায় যেতে বাধ্য করা হয়। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কাঁপতে কাঁপতে বিথী বলেন, ‘পল্লীতে আসার প্রথমে খুব কষ্ট হতো। কিন্তু আস্তে আস্তে শারীরিক ও মানসিক সেই কষ্টকে মেনে নিতে হয়েছে’।

এ সময় একটি ঝুড়িতে নিজের সাজার জিনিসপত্র বের করে দেখাচ্ছিলেন বিথী। লিপস্টিকসহ নানা প্রসাধনী দেখাতে দেখাতে বিথী বলেন, ‘বেশি সাজলে খদ্দের বেশি আসে। যে মেয়েটা দেখতে সুন্দর তার কাছে বেশি খদ্দের আসেন। আমি বেশি সাজতে পছন্দ করি না। সাধারণত একটু লিপস্টিক, একটু কাজল ও একটি টিপ পরি’।

খদ্দের ছাড়া বিথীর কাছে আর কেউই আসেন না। তার কাছে বিশ্ব মানে শুধু তার ঘর। সৌন্দর্যের জন্য নিজের ঘরটিকে চিকিমিকি ঝালরে সাজিয়ে রেখেছেন তিনি। বললেন, ‘দেখতে সুন্দর লাগে তাই সাজিয়ে রাখি। এই জায়গাটুকুতেই তো থাকতে হয়’।

রেলস্টেশন, ফেরি ও রাজধানীগামী মহাসড়কের কাছেই অবস্থিত দৌলতদিয়ার মূল অর্থনীতি চলে এই নিষিদ্ধ ব্যবসাকে ঘিরেই। প্রতিদিন এই জায়গা দিয়ে যায় এক হাজারেরও বেশি ট্রাক, যাতায়াত করেন হাজার হাজার মানুষ। পল্লীটির বেশিরভাগ খদ্দেরই বাস কিংবা ট্রাক চালক।

এক ট্রাক চালক বলেন, ‘এখানে ছয়দিন ধরে আটকে আছি। এখানে আসলে প্রায়ই পল্লীতে যাওয়া হয়। একজনের কাছে সবসময় যাওয়ার চেষ্টা থাকে তবে অন্যদের কাছেও যাই।’

পাশেই হাঁটাহাঁটি করছিলেন কিছু যুবক। তারা বললেন, ‘পল্লীতে সকল বয়সের নারীই পাওয়া যায়। ১০ বছর থেকে ৪০ বছর বয়সী নারীদের কাছে খরচের মাত্রাটাও ভিন্ন। ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০-১০০০ টাকা খরচ হয় তাদের কাছে যেতে।’

ট্রাক চালক কিংবা এই যুবকদের মতো প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার খদ্দের আসেন এখানে। বছরের প্রতিদিনই চলে এখানকার ব্যবসা। তবে রাতের বেলায় ভিড়ের পরিমাণটা অনেক বেশি থাকে। দেশে মাদক নিষিদ্ধ থাকলেও এখানে গোপনে বিক্রি হয় বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য।

খদ্দেরদের ভালোবাসার বর্ণনা দিতে গিয়ে এক নারী বলেন, অনেক খদ্দেরই একাধিকবার আসতে চান। তবে এখানে কোনো প্রেমিক বানাতে চাই না। কারণ এখানে প্রেমিক বানালে তারা মারধর করে সকল টাকা-পয়সা নিয়ে যায়।’