মৃত্যুর তিন বছর পর যেভাবে ভাইকে ফিরে পেল মেয়েটি, জানলে অবাক হবেন!

0
47

২০১২ সালের ঘটনা। জশুয়া অ্যাভারসানো কেবল ইউএস মেরিন কর্পস-এ নিযুক্ত হয়েছেন। সেই সময়ই আকস্মিক দুর্ঘটনায় একটি ভ্যানের ধাক্কায় তার প্রাণহানী ঘটে। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর।

জশুয়া তার তরুন বয়সেই মরোনোত্তর দেহ দান করার কথা জানিয়েছিলেন। কাজেই তার মৃত্যুর খুব বেশী দিন অতিবাহিত হতে না হতেই তার পরিবার একটি কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়।

একজন মানুষ, অ্যাভারসানো পরিবারের নিকট সম্পূর্ণ অপরিচিত একজন মানুষের জন্য একটি নতুন মুখ দরকার। ডাক্তাররা জশুয়ার পরিবারের কাছে আবেদন রাখলেন যে, জশুয়ার সংরক্ষিত দেহ থেকে তার মুখটি নিয়ে কাজে লাগানো যায় কিনা।

অপারেশনের পর রেবেকা ও রিচার্ড নরিশ
এদিকে ১৯৯৭ সালের ঘটনা। রিচার্ড নরিশ নামে ২২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির নিজের আগ্নেয়াস্ত্রের আকস্মিক বিষ্ফোরণে তার মুখমন্ডল ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। তার মুখের আকৃতি দ্বারায় বিভৎস প্রকৃতির। হতাশায় আর লজ্জায় রিচার্ড দীর্ঘ ১৫ বছর বাইরের জগৎ থেকে নিজেকে আড়াল করে রাখে। যাহোক, ডাক্তাররা তাকে সুসংবাদ দেয় যে, নতুন আবিস্কৃত এক ধরণের সার্জারী তার ভাগ্য বদলে দিতে পারে। কিন্তু তার জন্য একটি নতুন মুখ দরকার। তখন তাদের ভরসার একমাত্র কেন্দ্র হয়ে ওঠে মৃত জশুয়ার পরিবার সদস্যদের সহানুভুতি।

মৃত জশুয়া অ্যাভারসানো রিচার্ড নরিশ (পূর্বের চেহারা)
যদিও জশুয়া পরিবারের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়াটা অনেক কঠিন ছিল, তবু জশুয়ার বাবা র‌্যান্ডি এবং মা ওয়েন রিচার্ডের বিকৃত মুখের উপর তাদের মৃত ছেলের মুখটি বসিয়ে দিতে রাজি হয়ে যায়।

মৃত জশুয়ার মা ওয়েন পরবর্তীতে সকলকে জানায়, ‘আমি র‌্যান্ডিকে সে সময় বলেছিলাম যে, সত্যি যদি কখনও আমার চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখি যে, আমার মৃত সন্তান জশুয়ার মুখ নিয়ে কেউ একজন আমার সামনে দিয়ে হেটে যাচ্ছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়ব, আর তাকে জড়িয়ে ধরব।’

সফল অপারেশরেশনের পর মৃত জশুয়ার বেদনাহত বোন রেবেকা ভাইরূপী রিচার্ডকে আপন ভাইয়ের মত করে সেরকমভাবেই আবেগে জড়িয়ে ধরে। এমন দৃশ্য ভোলার নয়। বোনের মমতা যেন উছলে ওঠে। এমন অম্লমধুর, এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য সত্যিই বিরল।