কুড়িয়ে পাওয়া সেই শিশুটিই এখন পাইলট!

0
51

কুড়িয়ে পাওয়া- কুড়িয়ে পাওয়া সেই শিশুটিই এখন পাইলট, পোলিও আক্রান্ত যে ছেলেটিকে নিয়ে আর পা এগোয়নি সর্বস্বান্ত মা-বাবার।

ভারতের কলকাতারই কোনো একটি রাস্তা। চিকিৎসার অর্থ জোগাতে পারবেন না জেনে ছেলেকে রেখেই নিরুদ্দেশ হন মা-বাবা।

রাস্তায় পড়ে থাকা ছেলেটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় মাদার তেরেসার মিশনারিজ অব চ্যারিটিতে। ঠাঁই মিলল নতুন মাদারের (মায়ের) কোলে।

শিশু ভবনে দুই বছর কাটে গৌতমের। পরে তাকে পাঠানো হয় রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার ফর চিলড্রেনে। তার দিকে হাত বাড়িয়ে দেন নিউক্লিয়ার ফিজিসিস্ট প্যাট্রিসিয়া লুইস।

গৌতমের বিস্ময়কর উত্থানের খবর রোববার প্রকাশ করেছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা।

প্যাট্রিসিয়ার হাত ধরেই ইংল্যান্ডে পাড়ি দেয় গৌতম। মাদার হাউজের অনাথ শিশু তখন প্যাট্রিসিয়ার দত্তক ছেলে। গৌতম নামের সঙ্গে যোগ হলো লুইস- গৌতম লুইস। নতুন নাম, নতুন ঠিকানা।

ইংল্যান্ডের বেডলস স্কুলে শুরু হয় গৌতমের পড়াশোনা। ধীরে ধীরে বিজনেস ডিগ্রি পাস করে নিজেকে ডুবিয়ে দেন সঙ্গীতচর্চায়।

তখনো বাকি ছিল স্বপ্নপূরণ। শিশু ভবনের ছাদ থেকে আকাশ দেখা। সেই দেখা থেকেই আকাশের উড়ার স্বপ্ন ছিল গৌতমের। মাত্র ছয় মাসের মধ্যে পাস করে ফেলেন পাইলট হওয়ার সব গ্রাউন্ড ও এয়ার এগজামিনেশন।

সময়টা ২০০৭ সাল। পোলিও’র ভয়ানক প্রকোপ কাটিয়ে উঠে দাঁড়াতে পেরেছেন বটে, কিন্তু এই ৩০ বছর বয়সেই ক্রাচ গৌতমের সর্বক্ষণের সঙ্গী।

সবকিছুকে জয় করে ওই বছরেই গৌতম তৈরি করেন ‘ফ্রিডম ইন দ্য এয়ার’- শারীরিকভাবে অক্ষমদের জন্য ফ্লাইং স্কুল। ব্রিটেনের প্রথম এ ধরনের স্কুল। হার্টফর্ডশায়ারের এলসট্রিতে শারীরিকভাবে অক্ষমদের বিশেষ ফ্লাইং ট্রেনিং দেয় এই স্কুল।

এর পাশাপাশি ইউনিসেফের সঙ্গে পার্টনারশিপে গ্লোবাল পোলিও ইরাডিকশন ইনিসিয়েটিভের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরও হন গৌতম।

কলকাতার যে রাস্তায় অসহায় মা-বাবা গৌতমকে ফেলে রেখে গিয়েছিলেন, সেখানে কিছু সময়ের জন্য ফিরে এসেছিলেন তিনি। করেছেন বস্তিতে মোবাইল ভ্যাক্সিনেশনের মাধ্যমে সচেতনতা গড়ে তোলার কাজ।

রাস্তার অনাথ শিশুটি এখন পাইলট- নিজের এ বদলে যাওয়া জীবনের অবদান মাদার তেরেসাকে দিতে চান গৌতম। তাই মাদারকে নিয়ে তৈরি করেছেন এক ঘণ্টার তথ্যচিত্র ‘মাদার তেরেসা অ্যান্ড মি’।

গৌতমের ভাষায়, ‘মাদার আমার ঈশ্বর। মাদারই আমায় আকাশ দেখিয়েছিলেন। আজ সেই আকাশের কোলে যে আশ্রয় পাই তা তো আসলে মাদারেরই আশ্রয়!’

মানবসেবায় জীবন উৎসর্গকারী ‘মাদার’ তেরেসাকে ‘সেন্টহুড’ বা বা ‘ঈশ্বরের দূত’ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। রোববার ভ্যাটিকান কর্তৃপক্ষ তাকে এ সম্মাননা জানান। পোপ ফ্রান্সিস আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ‘সেন্ট’ ঘোষণা করেন।

বিয়ের দেড় ঘন্টার মাথায় স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু!

বিয়ের মাত্র দেড় ঘন্টার মাথায়ই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন স্বামী-স্ত্রী। বিয়ের পর তারা কণের পরিবারের এক হেলিকপ্টারে করে যাত্রা করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আছড়ে পরে হেলিকপ্টারটি।

এ বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে। বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে হেলিকপ্টারে করে যাত্রার সময়ই এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত উইল বেইলর ও তার স্ত্রী বেইলি অ্যাকারম্যান উভয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছিলেন।

দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারের পাইলটও নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মৃত্যুর পর বিয়েতে উপস্থিত অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন।

প্রেমিকাকে কার্টুন ছবি পাঠানোয় ছ’মাসের জেল, ৮৯ হাজার টাকা জরিমানা!

ইংরেজ কবি শেক্সপিয়ার লিখেছিলেন, “এভরিথিং ইজ় ফেয়ার, ইন লাভ অ্যান্ড ওয়ার।” যুদ্ধ অবধি না হয় ঠিক আছে, কিন্তু তাই বলে একটা সামান্য ছবি পাঠানোর কারণে কারাবাসে যেতেহবে! মনে হচ্ছে খুব বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। না, আশ্চর্য হবেন না। বাস্তবে এমনটাই ঘটেছে দক্ষিণ ফ্রান্সের দ্রোম অঞ্চলে।

কয়েকদিন আগে ২২ বছর বয়সি এক যুবক তার সাবেক প্রেমিকার সঙ্গে চ্যাট করছিলেন। কথাবার্তা চলতে চলতেই হঠাৎ করে ওই যুবক একটি বন্দুকের কার্টুন ইমেজ পাঠিয়ে দেন প্রেমিকাকে। ব্যাস, এতেই খেপে লাল হয়ে যান তার সাবেক প্রেমিকা। তিনি সোজা থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন প্রেমিকের বিরুদ্ধে।

অভিযোগে তিনি বলেন, ওই বন্দুকের ছবির মাধ্যমে তাকে প্রাণঘাতী হুমকিও দেয়া হচ্ছিল। অভিযোগ পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে। আদালতে ওই যুবককে তোলা হলে তিনি ইমেজ পাঠানোর কথা স্বীকার করেন। কিন্তু, তাই বলে কখনোই প্রাণঘাতী হুমকি তিনি দেননি বলেও জানিয়েছেন।

কিন্তু, আদালত তার সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছে। বরং ওই যুবতির অভিযোগকেই সায় দেয়া হয়েছে। অতঃপর শাস্তিস্বরূপ ওই যুবকের ছ’মাসের কারাবাস এবং ১০০০ ইউরো (১ ইউরো সমান ৮৮.৮৪ টাকা হারে, বাংলা টাকায় ৮৮ হাজার ৮ শত ৩৯ টাকা মাত্র) জরিমানা দেয়ার আদেশ দিয়েছে।

সাগরের পানির নিচে বিশ্বের প্রথম আবাসিক হোটেল, প্রতি রাত কাটাতে খরচ হবে…!

সাগরের পানির নিচে বিশ্বের প্রথম আবাসিক হোটেল চালু হলো মালদ্বীপে। আপনি সাগরের পানির নিচে অবস্থান করছেন। চারপাশে শুধু নীল জলরাশি।

সেখানেই ছিমছাম একটি কক্ষে বিছানায় শুয়ে মাছের ঝাঁকসহ অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী দেখছেন। কখনও তাদের উদ্দেশে হয়তো দু-একটি কথাও বলছেন মনের অজান্তেই। স্বপ্ন মনে হচ্ছে? একবারেই নয়, মালদ্বীপ আপনাকে এমন অভিজ্ঞতা নেয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

দেশটিতে এই প্রথম সাগরের নিচে চালু হয়েছে আবাসিক হোটেল। মালদ্বীপের রাঙ্গালি দ্বীপে এই হোটেল চালু করা হয়েছে। দোতলা এই হোটেলটির অবস্থান ভারত মহাসাগরের ১৬ ফুট পানির নিচে। এর নাম দেয়া হয়েছে মুরাকা। মালদ্বীপের ভাষায় যার অর্থ কোরাল।

মুরাকায় বিছানার পাশাপাশি অন্যান্য হোটেল রুমের মতো বাকি সব সুবিধা রয়েছে। এছাড়া এর দ্বিতীয় তলায় রয়েছে প্রাইভেট জিম, একটি বার, ইনফিনিটি পুলসহ আকর্ষণীয় সব সুবিধা। এই হোটেলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি হলো- এখানে শুয়ে সাগরের নিচের অতুলনীয় দৃশ্য উপভোগ করা যাবে।

হোটেলটির একটি অংশ পানির নিচে রাখা হলেও অপর অংশটি পানির ওপরে রাখা হয়েছে। এটা মূলত ‘বিশ্রাম নেয়ার ডেক’ হিসেবে বিবেচিত। এই জায়গায় এসে পর্যটকরা সূর্যের আলো পাবেন।

রোমাঞ্চকর এই হোটেলে থাকতে খরচ কেমন পড়বে? সিএনএনের প্রতিবেদন বলছে, মুরাকায় প্রতি রাত কাটাতে খরচ হবে ৫০ হাজার ডলার যার মান বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪২ লাখ টাকা।

কিন্তু সমস্যা হলো এখানে একদিন থাকার কোনও সুযোগ নেই। এই হোটেলে থাকতে হলে চার রাতের একটি প্যাকেজ নিতে হবে যাতে খরচ হবে ২ লাখ ডলার বা ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

এই প্যাকেজের আওতায় আপনার সাথে একজন রাঁধুনি থাকবে ও একটি ব্যক্তিগত নৌযান দেয়া হবে। যে এই প্যাকেজ নেবেন তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিলটন ডায়মন্ড স্ট্যাটাস পাবেন।

পরিবেশগত দিকগুলো বিবেচনায় নিয়েই মুরাকা নির্মাণ করা হয়েছে। এর সবকিছুই তৈরি হয়েছে সিঙ্গাপুরে। তারপর একটি বিশেষ জাহাজে করে এগুলো মালদ্বীপ নিয়ে আসা হয়।