সাপের বন্ধু যখন ৭ বছরের বাচ্চা!…

0
32

সাপের বন্ধু- ছেলেটির নাম ‘দেবেশ আদিবাসী।’মাত্র ৭ বছর বয়স তার। ভারতের মধ্য প্রদেশের প্রত্যন্ত এক গ্রামে তার আবাসস্থল। গত চার বছর ধরে এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটিয়ে আলোচনায় আসে দেবেশ। গ্রামের নিকটস্থ জঙ্গলে যাতায়াত রয়েছে তার। নিয়মিতই সে জঙ্গলে যায় এবং ফিরে আসে বিষাক্ত সব সাপ নিয়ে। ভয়ঙ্কর বিষধর সেই সব সাপ দেখলেই যে কারো পিলে চমকে যাবার কথা।

অথচ আজব বিষয় হল দেবেশ অনায়াসে তাদের নিয়ে বসবাস করছে। এই সব সাপ কেন তার কাছে এভাবে পোষ মানে, সেটা এক বিরাট রহস্য! মাত্র ৩ বছর বয়স থেকে সে সাপের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছে। এই সব বিষয় দেখতে দেখতে গ্রামবাসীর কাছে তা সহজ-সাধারণ দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। দেবেশের বাবা-মাও এখন আর এটি নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাননা। দেবেশ নিয়মিতই সাপদের নিয়ে খেলা করে। তাদের সাথে খায় ও ঘুমায়। তারপর তাদের জঙ্গলে নিয়ে ছেড়ে দেয়। পরদিন আবার নতুন সাপ নিয়ে আসে। এভাবেই চলছে তার দিনলিপি।

এ বিষয়ে মুম্বাইয়ের এক বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী জানিয়েছেন, ‘দেবেশের বিষয়টি যথেষ্ট অস্বাভাবিক। দেখে সাধারণ মনে হলেও এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। সে সাপগুলোর সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। হয়তো তারা তাকে কামড় দিচ্ছেনা। তার মানে এই নয় যে, তারা কখনও তাকে কামড়াবেনা। সার্বক্ষণিত সাপ নিয়ে থাকা তার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যে মোটেও ভালো নয়। এছাড়া যেকোনো দিন সাপের দংশনে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এছাড়া মানসিক বৈকল্যের ঝুঁকিও রযেছে।

কোন সিনেমার কোনো গল্প নয়, বাস্তবেই গুলিবিদ্ধ হয়েও বিয়ে করতে এলো যুবক!

বিশ্বে প্রতিনিয়ত অবাক করার মত আজব ঘটনা ঘটে যা কল্পনাকে হার মানিয়ে দেয় । এমনি একটি সিনেমার মত বাস্তব ঘটনা ঘটলো ভারতের দিল্লিতে । জানা গেছে বিয়ের দিন গুলিবিদ্ধ হল পাত্র। তা স্বত্ত্বেও জখম অবস্থাতে বিয়ে করতে এলো সে। কারণ পাত্রীপক্ষকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গিয়ে হাসপাতাল থেকে সটান চলে আসে বিয়ের আসরে। পাত্রীর সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে আবার হাসপাতালে ভর্তি হয় পাত্র।

গত সোমবার রাতে এ ঘটনাটি ঘটে দিল্লির মদনগীর এলাকা। ঘোড়ায় চেপে বিয়ে করতে যাচ্ছিল ২৫ বছরের বাদল। আর ঘোড়ার গাড়ির সামনে ঢাক ঢোল বাজিয়ে পরিবারের সদস্য ও অতিথিরা তখন নাচে মগ্ন। পাত্রপক্ষ বিয়েবাড়ির কাছে আসতেই হঠাত্‍ বাদল শরীরে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করেন। কিছুক্ষণ বাদে লক্ষ্য করেন তার কাঁধ থেকে ঝড়ে পড়ছে অবিরাম রক্তের স্রোত। ঘোড়ার গাড়ি থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তাররা জানান পাত্রের ডান কাঁধে গুলি লেগেছে।

যথারীতি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় বাদলকে। তিন ঘণ্টা অপারেশনের পর কাঁধে ব্যান্ডেজ নিয়ে সোজা চলে যায় সে বিয়ে বাড়িতে। সেখানে গিয়ে সম্পূর্ণ করে বিয়ে। তারপর কাঁধে যন্ত্রণা অনুভব করায় আবার বাদল ভর্তি হয় হাসপাতালে। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, তাঁর কাঁধের হাড়ের মাঝে গুলিটি আটকে রয়েছে। আরও একটি অপারেশন করা দরকার।এদিকে দিল্লি পুলিশের কাছে খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেছে বাদলের পরিবার।

এ ঘটনার বিষয়ে ওই যুবক বাদল জানায়, বাইকে করে আত্বীয়রা আসে এবং খুব কাছ থেকে গুলি করে। সেই সময় জোরে ডিজে মিউজিক বাজছিল বলে কেউ গুলির আওয়াজ শুনতে পায়নি।তবে ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল ।পুরানো কোনও শত্রুতার জেরে এই খুনের চেষ্টা কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানান স্থানীয় প্রশাসন ।

ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ৫০

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর একটি অনুষ্ঠানে শক্তিশালী আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো শতাধিক।

গতকাল মঙ্গলবার শহরের একটি মিলনায়তনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রখ্যাত আলেমদের অংশগ্রহণে ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠান এই ভয়াবহ হামলার শিকার হয়। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াহিদ মজরো ওই হামলায় ৫০ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিপুল সংখ্যক লোক আহত হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাজিব ড্যানিশ বলেন, আত্মঘাতী বোমা বহনকারী একজন মিলনায়তনের ভেতরে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটায়। সেখানে ইসলামের শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর জন্মদিন পালনের জন্য শত শত আলেম অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে এক হাজারের বেশি লোক উপস্থিত ছিলেন। বিস্ফোরণের পর বহু মানুষ ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ে। রক্তে ভেসে যায় মেঝে। বাঁচার জন্য শুরু হয় হুঁড়োহুড়ি। এসময় অনেকে পদদলিত হয়ে আহত হন অনেকে।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার তত্পরতা শুরু করে। এ সময় কয়েক ডজন অ্যাম্বুলেন্সে করে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

স্থানীয় পুলিশ জানায়, ধর্মীয় আলোচনার বিরতিতে যখন খাবারের আয়োজন চলছি তখনই এই হামলা হয়। গত ৬ মাসের মধ্যে আফগানিস্তানে এটাই সবচে বড় হামলা। ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও তালেবান শক্তিতে দুর্বল হয়ে পড়ার পর আফগানিস্তানে জঙ্গি হামলার ঘটনা বহুলাংশে কমে এসেছে।

এসব সংগঠন আগে এধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অসংখ্যবার হামলা চালিয়ে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছে। ইরাক, আফগানিস্তানের কট্টোরপন্থি সুন্নি মুসলিমরা মিলাদুন্নবী পালনের বিরুদ্ধে। ২০১৪ সালে ইরাকের মসুল শহর দখল করার পর মিলাদুন্নবী পালন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল আইএস ।

এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠান করতে গিয়ে হামলায় তখন বহু লোক হতাহত হয়েছে। খবর বিবিসি ও ডেইলি মেইলের।