এই গরমে কাঁচা আম খওয়ার ১৬টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

0
382

পাকা আমের তুলনায় কাঁচা আমের পুষ্টিগুণ বেশি। গরমে দাবদাহে এক ফালি কাঁচা আম নিয়ে আসে প্রশান্তি। আচার বানিয়ে রেখে সারা বছর খাওয়া যায় বলে গৃহিনিদের খুব প্রিয় এই কাঁচা আম। এছাড়াও কাঁচা আম জুস, চাটনি, সস, জ্যাম এবং ফলি হিসেবে খাওয়া হয়। তবে সবচাইতে আকর্ষণীয় হচ্ছে কাঁচা আমের ভর্তা।

কাঁচা আমের স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা জানলে আপনি বুঝতে পারবেন কাঁচা আম খাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা। কাঁচা আমের গন্ধে মন ভরে যায় সতেজতায়। কাঁচা আম প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন, মিনারেল ও পানিতে ভরপুর। আসুন জেনে নেই কাঁচা আমের আরো কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে।

১. ঘাম কমায়: গরমের ঘাম থামতেই চায়না। কাঁচা আমের জুস খেয়ে ঘামের মাত্রা কমানো যায়। অতিরিক্ত ঘামের ফলে সোডিয়াম ক্লোরাইড এবং আয়রন কমতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়াকে প্রতিরোধ করে কাঁচা আম।

ছবি: সংগৃহীত
২. ঘামাচি প্রতিরোধ করে: গ্রীষ্মকালের সবচেয়ে খারাপ শত্রু হচ্ছে ঘামাচি। ঘামাচির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সবচেয়ে ভালো উপায় কাঁচা আম খাওয়া। কাঁচা আমে এমন কিছু উপাদান আছে যা সান স্ট্রোক হতে বাধা দেয়।

ছবি: সংগৃহীত
৩. ওজন কমায়: খেতে ভালবাসে, আর খেতে খেতেই মুটিয়ে গেছে এমন মানুষ চারপাশে প্রচুর। তাদের সংখ্যাও কিন্তু ক্রমশ বাড়ছে। এই মানুষগুলোর জন্য ওজন কমাতে কাঁচা আম এক দারুণ ফর্মুলা। অন্যান্য ফল থেকে কাঁচা আম বেশি কার্যকর, এমনকি পাকা আম থেকেও। কেননা পাকা আমে চিনি বেশি থাকে যা ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে। আর মিষ্টি আমের চেয়ে কাঁচা আমে চিনি কম থাকে বলে এটি ক্যালরি খরচে সাহায্য করে।

৪. অ্যাসিডিটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে: খাদ্যাভ্যাসের জন্য বেশিরভাগ মানুষই এসিডিটির সমস্যায় ভুগে থাকেন। কাঁচা আম খেলে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ঔষধ গ্রহণ ছাড়াই আপনার হজমে সাহায্য করবে কাঁচা আম।

ছবি: সংগৃহীত
৫. পানির ঘাটতি রোধ করে: গরমে আমাদের শরীর থেকে অনেক পানি বাহির হয়ে যায়। শরীরের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য এবং পানির ঘাটতি পূরণের জন্য সামান্য লবণ দিয়ে কাঁচা আম খান।

৬. পেটের সমস্যা দূর করে: গরমের সময় বেশিরভাগ মানুষের পেটে সমস্যা হতে দেখা যায়। ডায়রিয়া, আমাশয় ও বদহজমের মত সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধে কাজ করে। খাদ্য হজমে সহায়তা করে কাঁচা আম। অন্ত্রকে পরিষ্কার করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয় কাঁচা আম।

৭. স্কার্ভি ও মাড়ির রক্ত পড়া প্রতিরোধ করে: কাঁচা আম খেলে আপনার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি সরবরাহ করে। স্কার্ভি, অ্যানেমিয়া ও মাড়ির রক্ত পড়া কমায় কাঁচা আম। কাঁচা আমের পাউডার বা আমচুর স্কার্ভি নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকরী।

ছবি: সংগৃহীত
৮. মুখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে: সবুজ কাঁচা আম খাওয়া মাড়ির জন্য উপকারী। এটি শুধু মাড়ির রক্ত পড়াই বন্ধ করেনা নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ এবং দাঁতের ক্ষয় রোধ করে।

৯. মর্নিং সিকনেস এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে: বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের মর্নিং সিকনেস দূর করতে চমৎকারভাবে কাজ করে কাঁচা আম। সামান্য লবণ মাখিয়ে কাঁচা আম খেলে বমি বমি ভাব দূর হয়।

১০. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়: কাঁচা আম আলফা ক্যারোটিন ও বিটা ক্যারোটিনের মত ফ্লাভনয়েড সমৃদ্ধ। এই সব উপাদান দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে ও দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়।

১১. লিভারের সবচেয়ে ভালো বন্ধু: লিভারের রোগ নিরাময়ের একটি প্রাকৃতিক উপায় হচ্ছে কাঁচা আম। যখন কাঁচা আম চিবানো হয় তখন পিত্ত থলির এসিড ও পিত্ত রস বৃদ্ধি পায়। এর ফলে যকৃতের স্বাস্থ্য ভালো হয় এবং অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশন পরিষ্কার করে।

১২. রক্তের সমস্যা দূর করে: শরীরের কোষকে উজ্জীবিত করে কাঁচা আম এবং রক্তনালীর স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে ও নতুন রক্ত কোষ গঠনে সহায়তা করে। বিভিন্ন রকমের রক্তের সমস্যা যাদের থাকে যেমন- রক্তশূন্যতা, ব্লাড ক্যান্সার, রক্তক্ষরণের সমস্যা ও টিউবারকোলোসিসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে কাঁচা আম।

ছবি: সংগৃহীত
১৩. অ্যানার্জি প্রদান করে: আপনি কি জানেন কাঁচা আম আপনাকে প্রচুর অ্যানার্জি দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে দুপুরের খাওয়ার পরে কাঁচা আম খেলে তন্দ্রা কাটিয়ে উজ্জীবিত হতে সাহায্য করে।

১৪. ত্বক ভালো রাখে: এই গরমে আলাদা করে ত্বকের যত্ন নেওয়া দরকার। নইলে হঠাৎ করেই একদিন আয়নার দেখবেন সেই জেল্লা যেন কোথায় মিইয়ে যাচ্ছে। সব সময় সেভাবে খেয়াল রাখাও হয়ে ওঠেনা। এই মৌসুমে আপনার সেই মুশকিল আসান করতে রয়েছে কাঁচা আম। ত্বক ভাল রাখতে কাঁচা আম খান।

ছবি: সংগৃহীত
১৫. ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য: ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য কাঁচা আম যেন আশীর্বাদ। ডায়াবেটিস কমাতে কত চিন্তা, কত চেষ্টা অথচ কাঁচা আম কিন্তু কাজটা একেবারে সহজ করে দেয়। শরীরের চিনি কমিয়ে দেয়। ডায়াবেটিক রোগীরা ভাতের সাথে কাঁচা আম খেতে পারেন। এতে ডায়াবেটিসটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

১৬. দাঁত ভালো রাখে: দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা আসলে অনেকেই দিইনা। সকাল বেলা একবার দাঁত মাজা ছাড়াও আরও কিছু করার থাকে যার প্রায় কিছুই আমরা করিনা। একটা কাজ অবশ্য আনায়াসেই করা যায়। একটু কাঁচা আম খাওয়া। কাঁচা আম মাড়ির জন্য খুব ভালো। দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করতে, দাঁতের ক্ষয়রোধ করতে কাঁচা আম উপকারী।