২০১৮ সালে হিট মাত্র ৬ সিনেমা! শাকিব খানেরই ৩টি, যে ৩ টি সবচেয়ে বেশি হিট

0
132

চলতি বছর এ পর্যন্ত ৪৬টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে ঢালিউডে। এর মধ্যে পুরো টাকা উঠিয়ে লাভের মুখ দেখেছে মাত্র ৬টি ছবি। অবাক হওয়া এমন তথ্যই এবার জানা গেল সন্ধানে। তবে এর মধ্যে বেশ কয়েকটি আবার কলকাতা থেকে আমদানী করে বাংলাদেশে মুক্তি পেয়েছে। তবে সে সংখ্যাও ১০ এর উপরে না।

চলতি বছরের গত শুক্রবার পর্যন্ত মুক্তি পেয়েছে মাত্র ৪৬টি ছবি। এসব ছবির মধ্যে কোনোভাবে অর্থ ফেরত পেয়েছে মাত্র ছয়টি ছবি। এরমধ্যে ঢালিউড কিং শাকিব খানেরই তিনটি ছবি রয়েছে। এগুলো হলো- ‘চালবাজ’, ভাইজান এলো রে ও সুপার হিরো। এছাড়া লগ্নীক্রত টাকা উঠিয়ে লাভের মুখ দেখেছে জাজ মাল্টিমিডিয়ার ‘পোড়ামন টু’, ‘জান্নাত’ এবং জয়া আহসানের ‘দেবী‘।

তবে ব্যাবসায়িকভাবে সফলতা না পেলেও এবছর প্রশংসিত হয়েছে আরও বেশকয়েকটি ছবি। এরমধ্যে আছে- শাকিব খানের ‘মাস্ক’, পরীমনির ‘স্বপ্নজাল’ ও ববি হকের ‘বিজলী’।

এরবাইরে বছরের শেষের দিকে বাপ্পি চৌধুরীর বেশ কয়েকটি ছবি মুক্তি পেলেও তা লাভের মুখ দেখেনি। টেনেটুনে অনেক সিনেমার বাজেটও ওঠেনি। আর বাকিদের যেসব ছবি মুক্তি পেয়েছে তা সিনেমার সংখ্যা বাড়ানো ছাড়া ঢালিউডে আর কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি। এ নিয়ে বেশ হতাশা বইছে বাংলা সিনেমায়। অনেক প্রযোজকই সিনেমা বানানো বন্ধ করে দিচ্ছেন। অনেক অভিনেতা-অভিনত্রী বেকার হয়ে পড়ছেন।

চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ইফতেখার নওশাদ বলেন, ‘এই যদি হয় দেশীয় চলচ্চিত্রের ব্যবসার চালচিত্র তাহলে প্রযোজক কেন লোকসান গুনতে এ খাতে অর্থলগ্নী করবে। প্রযোজকের অভাবে ছবি নির্মাণ হচ্ছে না। ছবির অভাবে সিনেমা হল বন্ধ হচ্ছে । আর কাজের অভাবে নির্মাতা, শিল্পী, কলা-কুশলী বেকার হচ্ছেন। এই বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে কেউ কেউ কলকাতামুখী হচ্ছে।’

নির্মাতা শাহ আলম মণ্ডল বলেন, ‘প্রযোজকের অভাবে পরিচালনায় নিয়মিত হতে পারছি না। দেশে সিনেমা হল কমে গেছে। যা আছে তা দিয়ে ব্যবসা করা সম্ভব নয়। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’

ভাইজান এলো রে
চলচ্চিত্র অভিনেতা ও প্রযোজক ডি এ তায়েব বলেন, ‘চলচ্চিত্রের লোকজনের মধ্যে ঐক্য এবং চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারে সহায়তাই পারে দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পকে এই দুরাবস্থা থেকে উদ্ধার করতে। এফডিসিতে পার্টি হতে গেলে নির্মাতাদের পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘এখানে টেকনিক্যাল সাইড ও ফ্লোরসহ অন্যান্য ভাড়া বাইরের চেয়ে বেশি। সিনেমা হল ও প্রযোজনা সংস্থা একাধারে বন্ধ হচ্ছে। সরকার যদি ৬৪ জেলায় কমপক্ষে ৬৪টি সিনেপ্লেক্স নির্মাণ করে দেয় এবং সিনেমা হল নির্মাণ ও সংস্কারে সহজ শর্তে কম সুদে ঋণ দেয় তাহলে নিশ্চিতভাবে অবস্থার উন্নতি হবে।’

সিনেমা নিয়ে একাই লড়ে যাচ্ছেন শাকিব খান! ঢালিউডের এই যখন অবস্থা তখন একাই লড়ে যাচ্ছেন ঢালিউড কিং শাকিব খান। একের পর এক অভিনয় করে যাচ্ছেন নতুন নতুন সিনেমায়। তিনি ছাড়া আর কোন নায়কের কোন ছবি খুব একটা ছবির খরচ উঠিয়ে আনতে পারছে না। তারউপরে বাজেট সঙ্কটে অনেক প্রযোজক এখন তাকে নিয়েও সিনেমা বানানোর সাহস করছেন না। বাধ্য হয়ে কলকাতার ছবিতে আবার যুক্ত হচ্ছেন তিনি। শোনা যাচ্ছে, খুব শীগ্রই টালিউডের চারটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হবেন কিং খান।

কলকাতার শীর্ষ চলচ্চিত্র প্রযোজক বিজয় খেমকা জানান, ‘বাংলাদেশ থেকে অনেক শিল্পী তাদের সঙ্গে সেদেশের চলচ্চিত্রে অভিনয় করার জন্য যোগাযোগ করছেন। ঢাকার শিল্পীদের কথা হলো চলচ্চিত্রের অভাবে তারা বেকার। কিন্তু শাকিব খান জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে আমাদের কাছে বেশি পছন্দের। তাই তাকে নিয়ে ছবি নির্মাণ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এর বাইরে কাউকে দিয়ে সিনেমা বানালে তা চলবে না।’