অর্ধশত বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’

0
278

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ঘূর্ণিঝড় ফণীর আতঙ্কে কাঁপছে ভারতের তিন রাজ্য। তীব্র ঝড় ও প্রবল বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে ১০৩টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে এবং ২টি ট্রেনকে অন্য রুটে ঘুরিয়ে দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ভারতীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দু বলছে, ১৯৭৬ সালের পর এতো শক্তিশালী ঝড়ের মুখোমুখি হয়নি এই অঞ্চল।

ভারতের আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার ভারতের ওড়িশা উপকূলে ঘণ্টায় প্রায় ২০৫ কিলোমিটার গতিতে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ‘ফণী’র। শক্তি সঞ্চয় করে ধীর গতিতে বঙ্গোপসাগরে ঘোরপাক খাওয়া এই ঝড়ের তাণ্ডবে একেবারে ধ্বংসাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে ভারতের তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ।

বুধবার মধ্যরাতে পুরী থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল ফণী। সেটি ক্রমে উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইতোমধ্যেই পর্যটকদের পুরী ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।

ত্রাণ ও উদ্ধারকার্যের কথা মাথায় রেখে তৈরি রয়েছে নৌসেনা ও উপকূলরক্ষী বাহিনী। এছাড়াও ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে আঘাত হানার পর কিছুটা দুর্বল হয়ে আগামী ৪ মে (শনিবার) বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে। ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ তাণ্ডব চালাতে পারে দেশের উপকূলীয় ১৯টি জেলায়।

গতকাল বুধবার দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, বর্তমান গতিপথে ভারতের উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঘাত হানার পর বাংলাদেশের খুলনা-সাতক্ষীরা হয়ে রংপুর-দিনাজপুরের দিতে যেতে পারে। আর দিক পরিবর্তন করলে তা খুলনা, মোংলা, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার উপকূল পর্যন্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে।

এরই মধ্যে ‘সিভিয়ার সাইক্লোনে’ পরিণত হওয়া ফণীর সম্ভাব্য ছুটি মোকাবিলায় ঘূর্ণিঝড় প্রবণ এলাকার সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘তাদের সংশ্লিষ্ট কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে সবাইকে সহযোগিতার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, আমরা ভালো প্রস্তুতি নিতে পেরেছি।’

এদিকে বৃহস্পতিবার (২ মে) সকালে আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে (ক্রমিক নম্বর-২৮) জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ শক্তি সঞ্চয় করে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিলো।

মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। শুক্রবার (৩ মে) সন্ধ্যা নাগাদ অতি প্রবল এই ঝড়ের অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব বাংলাদেশে দেখা দিতে পারে।

ফণীর কারণে মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর ও কক্সবাজারকে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।