নারী দেহের গোপন অঙ্গ যৌ’নি সম্পর্কে মানুষের মনে যত অষ্পষ্ট ধারনা

0
513

যোনি নারী দেহের একটি জটিল জিনিস। যোনি যথেষ্ট এক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকে। পুরুষাঙ্গের কার্যকারিতা দিয়ে তাকে বোঝা তাই এক প্রকার অসম্ভব! যোনি একজন নারীর যৌন-উত্তেজনার মূল ধারকও বটে। যৌন উত্তেজনা হলে সময় যোনি দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ উভয় দিকেই বৃদ্ধি পায়। মানুষের যোনি সারভিক্স থেকে ভালভা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নমনীয় ও মাংসল নালী। শরীরভেদে পার্থক্য হলেও সাধারণত একটি অনুত্তেজিত যোনির দৈর্ঘ্য সামনের দিকে ৬ থেকে ৬.৫ সে.মি. এবং পেছনের দিকে ৯ সে.মি.।

যোনি বিষয়ে আরো কিছু জানতে নিচের লেখাটি পড়ুন।

যোনি বড় হয়ে যায় কখন: শরীরবীদ এবং চিকিত্‍সকরা সেই রহস্য ভেদ করেছেন। যোনি প্রথমত বড় হয়ে যায় সন্তান জন্মের পরে। সিজার পদ্ধতিতে সন্তানের জন্ম না দিলে এই ব্যাপারটা ঘটেই থাকে। কেন না, যোনির অভ্যন্তরের দেওয়াল প্রচণ্ড ঘষা খায় সন্তান জন্মের সময়ে। সন্তানের পুরো শরীর বেরিয়ে আসে যোনিপথেই। তাই এই সময়টায় যোনি প্রসারিত হয়ে থাকে। সন্তান জন্মের পরে অন্তত মাস ছয়েক সব নারীই এই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যান। তার পর ধীরে ধীরে যোনি আবার তার আগের আয়তনে ফিরে আসে। এছাড়া যোনি বড় হয়ে যায় বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে। বয়স বাড়লে নারীদেহে বেশ কয়েকটি হরমোনের নিঃসরণ হয় না, যা পেশির নমনীয়তা রোধ করে। ফলে, এই সময়টায় ধীরে ধীরে যোনিগাত্রের পেশিগুলি ঢিলেঢালা হয়ে যায়। পরিণামে যোনির আয়তনও বেড়ে যায়।

যোনির সম্পর্কে কিছু তথ্য: যৌন সঙ্গম ও শিশুর জন্মে যোনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সর্বজনবিদিত। কিন্তু তা সত্ত্বেও যোনি সম্বন্ধে মানুষের মনে বহু অস্পষ্ট ধারণা রয়েইছে। নারীর এই ‘গোপন’ অঙ্গ সম্বন্ধে বিশেষ তথ্য এখানে তুলে ধরা হল:

কোনও মহিলা নিজের ভ্যাজিনা দেখতে পারেন না। প্রথমত, আপাত দৃষ্টিতে সবাই যে’টাকে ভ্যাজিনা বলে মনে করেন সে’টা আদতে তা নয়। নারীর গোপনাঙ্গের যে অংশটি দৃষ্টিগোচর (ইংরেজিতে যাকে বলে Geneitalia) সে’টা আদতে ভালভা (Vulva বা স্ত্রী যোনিদ্বার)। ভ্যাজিনার আকৃতি অনেকটা নলের মত (৩/৪ ইঞ্চি চওড়া আর ২-৪ ইঞ্চি লম্বা) যেটা যোনিদ্বারকে সারভিক্সের (cervix) সঙ্গে যুক্ত করে। কাজেই বসে, শুয়ে বা দাঁড়িয়ে; ভ্যাজাইনাকে কোনও ভাবেই প্রত্যক্ষ করা সম্ভব নয়।

সবচেয়ে মাংসল অঙ্গ হলো যোনি।যোনিদ্বার এবং মূল যোনি (বা ভ্যাজিনা) আসলে নারী দেহের অন্যতম মাংস পুষ্ট অঙ্গ। এ কারণেই আপনার যোনি যৌনসংগম বা শিশু জন্মের সময় সহজেই সম্প্রসারিত হয়। শুনে অবাক হতে পারেন যে যৌনসংগমের সময় যোনি সম্প্রসারিত হয়ে লম্বায় প্রায় ১০ থেকে ২০ সেন্টিমিটার আর চওড়ায় প্রায় আড়াই ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। এবার বুঝতে পারছেন তো আপাত দৃষ্টিতে সংকীর্ণ যোনিদ্বার দিয়েও কীভাবে একজন শিশু ভূমিষ্ঠ হতে পারে?

শুনতে অবাক লাগলেও সব নারীর কিন্তু সতীচ্ছদ থাকে না। সতীচ্ছদ বা হাইমেন হচ্ছে যোনিদ্বারের সামনের পাতলা আবরণটুকু। অনেকেই অক্ষত সতীচ্ছদের সঙ্গে কুমারীত্বকে জুড়ে ফেলেন। তাদের ধারণা হচ্ছে যে একমাত্র যৌনসংগমেই হাইমেন ছিঁড়ে যেতে পারে কিন্তু ঘটনা হচ্ছে যে বেশির ভাগ নারীর দেহেই হাইমেন আদৌ থাকে না। আর যাদের হাইমেন আছে, তাঁদের সতীচ্ছদ অক্ষত না থাকার মূলে যৌন মিলন ছাড়াও অন্য অনেক রকম কারণ থাকতে পারে যেমন শারীরিক কসরত, দৌড়ঝাঁপ বা হরমোন ঘটিত সমস্যা। কাজেই মনে রাখবেন যে অক্ষত হাইমেন বা প্রথম যৌন মিলনের সময় রক্তক্ষরণের সঙ্গে কুমারীত্বের বিশেষ যোগাযোগ নেই।

জি-স্পট সত্যিই আছে! আজ্ঞে হ্যাঁ, সত্যিই আছে। জি-স্পট হচ্ছে যোনির সেই অংশ যেটা যোনিদ্বার এর কাছেই থাকে আর এক নারীর জন্য প্রবল যৌনতৃপ্তির উত্‍স হতে পারে। স্নায়ু প্রাচুর্যের জন্য জিস্পট অত্যন্ত যৌন সংবেদনশীল আর নারীর যৌনতৃপ্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতএব জেনে রাখুন যে জি-স্পট কোনও আষাঢ়ে গল্প নয়, রীতিমত সত্যি।

যোনি আপনা থেকেই পিচ্ছিল হয়ে থাকে। যোনি পিচ্ছিল না হলে সঙ্গমের সময় নারীর যৌনতৃপ্তি সম্ভব হয় না তবে সেটা হওয়ার জন্য নারী কিন্তু অন্যর ওপর নির্ভরশীল নয়। বিশেষ এক ধরনের গ্ল্যান্ড, যাকে বলে বার্থোলিন গ্ল্যান্ড (Bartholin’s glands) নারী দেহে থাকে। এই গ্ল্যান্ড থেকে নিঃসৃত হয় এক ধরনের পিচ্ছিলকারক পদার্থ যাতে যোনিপথ যৌনসংগমের সময় ভেজা থাকে। এ ক্ষেত্রে যদি কোনও নারী সমস্যার সম্মুখীন হলে তত্‍ক্ষণাত্‍ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত্‍।

যোনি বা ভ্যাজাইনা ফেসিয়াল। শব্দটি বহুল প্রচারিত না হলেও মহিলা মহলে অপরিচিত নয়। গোটা বিশ্বে বহু মহিলাই এ কাজ করে থাকেন। উদ্দেশ্য দুটি। এক, যোনি পরিষ্কার রাখা। দ্বিতীয়ত, যোনির গন্ধ দূর করা। আর এ কাজ করতে ভরসা শশাতেই। নেট দুনিয়ায় এ পদ্ধতির কথা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বহু মহিলাই তা করছেন। কিন্তু ব্যাপারটা কতটা স্বাস্থ্যসম্মত?

প্রথমে জেনে নেওয়া যাক ‘ভ্যাজাইনা ফেসিয়াল’ ঠিক কী? বিভিন্ন ব্লগের মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে যোনিকে ঠিক রাখতে শশা অত্যন্ত উপকারী। তাই গোল গোল করে কাটা শশার টুকরো যোনিতে বেশ কিছুক্ষণ রাখতে হবে। মিনিট কুড়ি পর আবার সেটিকে ঘুরিয়ে দিতে হবে। উপকার হিসেবে বলা হয়েছে, শশার নিজস্ব প্রাকৃতির গুণের কারণে যোনি সংক্রমণ মুক্ত হবে। এবং, শশার গন্ধের জন্য যোনির দুর্গন্ধ দূর হবে। যেহেতু ঘরোয়া প্রক্রিয়া, এবং তেমন কোনও খরচ নেই, তাই বিশ্ব জুড়ে মহিলারা এ পদ্ধতির দ্বারস্থ হচ্ছেন। তাছাড়া যোনির সংক্রমণে কমবেশি প্রত্যেক মহিলাকেই ভুগতে হয়। তা থেকে যদি এত সহজে মুক্তি মেলে ও সে উপায় যদি হাতের কাছেই থাকে তবে তো কথাই নেই। ফলে শশার সাহায্যে ভ্যাজাইনা ফেসিয়ালের চাহিদা দিনে দিনে বাড়ছে।

কিন্তু চিকিত্‍সকরা বলছেন ঠিক উলটো কথা। তাঁদের আশঙ্কা, এতে হিতে বিপরীত হচ্ছে। যোনি তো সংক্রমণ মুক্ত হচ্ছে না। উলটে শশা রাখার ফলে স্বাভাবিক অম্লক্ষার ভারসাম্য বা পিএইচ ব্যালেন্স হারিয়ে যাচ্ছে। যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। এছাড়া এই পদ্ধতি গণোরিয়ার মতো রোগ ডেকে আনতে পারে বলেও মত তাঁদের। চিকিত্‍সকরা বলছেন, নারী শরীরে যোনি এমন একটি অঙ্গ, যা নিজেই নিজেকে পরিষ্কার করে নেয়। স্বয়ংক্রিয় শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় যোনি পরিচ্ছন্ন থাকে। তার জন্য বাড়তি উপকরণের কোনও দরকার নেই। শশা ছাড়াও অন্যান্য সবজিও মহিলারা প্যাচ হিসেবে ভ্যাজাইনা ফেসিয়ালে ব্যবহার করেন। তাতেও না বলছেন ডাক্তাররা। কেননা এতে কোনও উপকার হয় না। এমনকী যোনি পরিষ্কারের জন্য বাজার চলতি যে লোশন ইত্যাদি বিক্রি হয়, তার ব্যবহারেও চিকিত্‍সকদের মত নেই। তাঁদের দাবি, এই ধরনের লোশনে আদতে ওই পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক থাকে না। এর ফলে গণোরিয়া বা এইচআইভি-র মতো অসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় মহিলাদের। যোনি নিজেই নিজেকে পরিষ্কার করতে পারে। তা কখনওই নোংরা নয়।

যোনি নারী দেহের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গ। বিভিন্ন কারণে যোনি দুর্গন্ধ হয়। যোনি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখাটা খুবই জরুরী। প্রতিটি মানুষের শরীরে স্বাভাবিক একটি ঘ্রাণ আছে। মেয়েদের ক্ষেত্রে পিরিয়ডের সময় খুব সুক্ষ্মভাবে ঘ্রাণটি পরিবর্তিত হয়ে যায়। এছাড়াও মানুষের বগল, পায়ের পাতা কিংবা শরীরের অন্যান্য ভাঁজের জায়গায় দুর্গন্ধ হয়ে থাকে। যোনি বা গোপন অঙ্গটিও বাদ যায় না। তবে গোপন অঙ্গে দুর্গন্ধ হবার পেছনে আছে বেশ কিছু কারণ। যেমন, আপনার যদি স্বাস্থ্য ভালো হয়ে থাকে, তাহলে শরীরের ভাঁজে ভাঁজে ঘাম জমে যায়। সেখানে ব্যাকটেরিয়া জন্মায় ও দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। তবে মনে রাখবেন সমস্যা যেমন আছে তেমনি সমাধানও আছে।

যোনি দুর্গন্ধ হয় যে কারণে: যোনির দুর্গন্ধ অত্যন্ত সাধারণ বিষয়। সব মেয়েকেই জীবনে কখনও না কখনও এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। শুধুমাত্র কোনও রোগ নয়, আরও বহু কারণে এই দুর্গন্ধ হতে পারে। যোনির দুর্গন্ধ অত্যন্ত সাধারণ একটি সমস্যা। নীচে রইল যেসব কারণে সাধারণত এই সমস্যা হয়ে থাকে-

১. যোনি দুর্গন্ধ মূলত হয় এক ধরনের রোগের ফলে যার নাম ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস। এর ফলে যোনি থেকে এক বিশেষ ধরনের দুর্গন্ধযুক্ত ডিসচার্জ হয়।

২. বহু মেয়েদের কিছু বিশেষ ধরনের কন্ডমে অ্যালার্জি থাকে। পার্টনারের কন্ডম থেকে যোনি ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত হয় এবং দুর্গন্ধ ছড়ায়।

৩. ভ্যাজাইনাতে ভাল এবং খারাপ দু’ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে। বাজারের ভ্যাজাইনাল ওয়াশ অতিরিক্তি পরিমাণে ব্যবহারের ফলে ভাল ব্যাকটেরিয়া ধুয়ে গিয়ে খারাপ ব্যাকটেরিয়া যদি থেকে যায় তবে তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়।

৪. অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের ফলে ঘাম জমেও যোনি ও তার চারপাশে দুর্গন্ধ হতে পারে।

৫. খুব বেশি টাইট অন্তর্বাস যেমন স্প্যানডেক্স-এর বডি শেপার ইত্যাদি দীর্ঘক্ষণ পরে থাকলে তা থেকে ঘাম, স্কিন র‌্যাশ এবং ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত হয় যোনি। যথারীতি দুর্গন্ধ হয়।

৬. সারারাত প্যান্টি পরে ঘুমোলেও দুর্গন্ধ হতে পারে, বিশেষ করে গরম কালে।

৭. ক্ষতিকারক কেমিক্যাল দেওয়া বডিওয়াশ বা সাবান থেকেও দুর্গন্ধ করে। অন্তর্বাস কাচার সময়ে যদি সাবান ভাল করে না ধোয়া হয় তার থেকেও স্কিন র‌্যাশ এবং দুর্গন্ধ হতে পারে।

৮. যৌনকেশ খুব ঘন হলে নানা ধরনের ত্বকের রোগ হতে পারে এবং ঘাম বসে দুর্গন্ধ হতে পারে।

৯. সুতির অন্তর্বাস না পরে দীর্ঘ সময় কমদামি সিন্থেটিক ফেব্রিকের অন্তর্বাস পরলেও তা থেকে দুর্গন্ধ হতে পারে।

১০. খুব বেশি ঝালমশলা দেওয়া খাবার খেলে যোনি থেকে আকস্মিক ডিসচার্জ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যা থেকে দুর্গন্ধ হয়।

১১. সেক্স করার পরে যোনি ভাল করে না ধোয়া হলে সিমেনের অবশেষ থেকেও যোনিতে দুর্গন্ধ হয়।

১২. রসুন, পেঁয়াজ, অ্যাসপ্যারাগাস, কফি, মদ ইত্যাদি অতিরিক্ত খেলেও যোনিতে দুর্গন্ধ হতে পারে।

১৩. এছাড়া যৌনরোগ থেকেও যোনিতে দুর্গন্ধ হতে পারে।