কুমিল্লায় ধর্ষণ শেষে স্তন কেটে ছুড়ি ঢুকিয়ে হত্যা!

0
612

কুমিল্লায় ধর্ষণ শেষে- কুমিল্লার মুরাদনরের ধনিরামপুর এলাকার গোমতী নদীতে ক্ষত বিক্ষত মহিলার লাশ আর কারো নয় সে দেবিদ্বার উপজেলার বাঙ্গরী গ্রামের হারুনুর রশিদের মেয়ে আকলিমা আক্তারের (৩২)। তাকে নির্মম ও নৃশংস ভাবে হত্যার বেরিয়ে এসেছে।

দেবিদ্বার উপজেলা পৌর এলাকার পুরান বাজার এলাকা থেকে চারদিন আগে নিখোঁজ গৃহবধু আকলিমা বেগমের (৩২) অর্ধ গলিত মরদেহ পাওয়া যায় মুরাদনগর উপজেলা এলাকার গোমতি নদীতে।

এ ঘটনায় মুরাদনগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘাকত মাদকাসেবী স্বামী পলাতক রয়েছে। গত বুধবার বিকেলে মুরাদনগর উপজেলার ধনিরামপুর গ্রাম দিয়ে বয়ে যাওয়া গোমতি নদী থেকে গৃহবধুর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

নিহত আকলিমা বেগম (৩২) দেবিদ্বার উপজেলার পৌর এলাকার পুরান বাজারের গ্রামের মৃত আবদুল হাকিম’র পুত্র রবিউল আউয়ালের স্ত্রী। আকলিমা বেগমের বাড়িও দেবিদ্বার উপজেলার বাঙ্গরীতে। রবিউল আউয়াল ১৩ বছর আগে আকলিমাকে ইসলামী সরিয়া মোতাবেক বিয়ে করেন।

মামলা এবং স্থানীয় সুত্রে জানা যায় ঘাকত মাদকাসেবী স্বামী রবিউল আউয়াল আকলিমা বেগম’র অনুমতি ছাড়াই শিল্পি নামে অন্য একটা মহিলাকে বিয়ে করেছেন। এর পর থেকে আকলিমা বেগম’র খোজ খবর কমই নিতেন রবিউল। আর তাই আকলিমা বেগম নিজের জিবিকা অর্জনের জন্য দেবিদ্বার স্কোয়ার হাসপাতালে চাকরি নেয়।

কিন্তু ঘাকত মাদকাসেবী স্বামী রবিউল আউয়াল তার টাকা পয়সা নিয়ে যেত। শিল্পীকে নিয়ে একক সংসার করার পথের কাটা ছিল আকলিমা। আর তাই আকলিমাকে ওই দিন পালাক্রমে ধর্ষণ শেষে আকলিমার নাক, একটি স্তন, গোপাঙ্গ কেটে গামছা ও ব্যবহৃত চাকু ডুকিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে এবং লাশ গোমতী নদীতে ফেলে দেয়।

এ বিষয়ে রবিউল আউয়ালসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মুরাদনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাদল জানান, ৮ তারিখ সন্ধার পর থেকে আকলিমা বেগমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ৯ তারিখ তার স্বামী দেবিদ্বার থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রি করে।

চারদিন পর তার মরদেহ মুরাদনগর উপজেলায় গোমতি নদীতে পাওয়া যায়। তার দেহ পচেঁ গলে গেছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের ভাই নাসির উদ্দিন’র অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে।

সাবধান হয়ে যান এখনি, যে কারণে বাংলাদেশেও বাড়ছে ক্যান্সার

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ২০১২ সালের তুলনায় ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও বিশ্বে বাড়ছে। দারিদ্র নয়, বরং জীবনযাপন মানের কারণে এটি ঘটছে বলে গবেষকরা মনে করেন। ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বে মোট ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হবে, যাদের মধ্যে ৯৬ লাখ মানুষ মারা যাবে বলে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার(আইএআরসি) বলছে, প্রতি পাঁচজন পুরুষের মধ্যে একজন আর প্রতি ছয়জন নারীর মধ্যে একজন ক্যান্সারে আক্রান্ত হবে। ওই প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে, এ বছর বিশ্বে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর অর্ধেকই ঘটবে এশিয়ার দেশগুলোতে।

আইএআরসির হিসাবে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৮১ জন।
আক্রান্ত তালিকায় মুখের ক্যান্সার, ফুসফুস, ব্রেস্ট, জরায়ু মুখের মতো ক্যান্সার রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষদের সংখ্যা যেখানে ৮২ হাজার ৭১৫জন, নারীদের সংখ্যা ৬৭ হাজার ৬৬জন।

বাংলাদেশে ২০১৮ সালে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যাবে প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার মানুষ। তবে বাংলাদেশে নারীদের মৃত্যুর শীর্ষে রয়েছে স্তন ক্যান্সার। এরপরেই রয়েছে জরায়ু মুখ এবং গল ব্লাডারের ক্যান্সার।

সর্বশেষ এই গবেষণা বলছে, বিশ্বের অন্তত ২৮টি দেশে ক্যান্সার আক্রান্ত নারীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ ফুসফুসের ক্যান্সার। এছাড়া নারীদের ব্রেস্ট ক্যান্সার আর অন্ত্রের ক্যান্সার রয়েছে। তবে মেয়েদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার সংখ্যা বাড়ছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী মেয়েদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বাড়ার কারণে মেয়েদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হারও বাড়ছে। বিশেষ করে ইউএসএ, হাঙ্গেরি, ডেনমার্ক, চীন এবং নিউজিল্যান্ডসহ ২৮টি দেশে এই প্রবণতা দেখা গেছে।

বাংলাদেশের চিকিৎসকরা বলছেন, ক্যান্সারের লক্ষণগুলো ধরতে না পারা বা সঠিক সময়ে চিকিৎসকের কাছে না যাওয়া বাংলাদেশে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর বড় কারণ।

ড. হাবিবুল্লাহ তালুকদার বলছেন, অনেক সময় লক্ষণগুলো দেখা দিলেও সেটা অবহেলা করে চিকিৎসকের কাছে আমরা যাই না বা নিজেরাই কোন ওষুধ খেয়ে ফেলি। ফলে পরে যখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া হয়, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়।

ফলে ওজন কমে যাওয়া, দুই সপ্তাহের বেশি খুসখুসে কাশি, পায়খানা বা মাসিকের সঙ্গে রক্ত বের হওয়া, হঠাৎ গলা ভেঙ্গে যাওয়া, মাঝে মাঝে জ্বর আসা ইত্যাদি হলেই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। এসব অন্য কারণেও হতে পারে। কিন্তু ক্যান্সার হলে প্রথমদিকেই ধরা পড়বে এবং চিকিৎসা পাওয়া যাবে।

তালুকদার বলেন, বাংলাদেশে এখন সব ধরণের ক্যান্সারের চিকিৎসা রয়েছে। হরমোন থেরাপি, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি থেকে শুরু করে সব ধরণের ওষুধও পাওয়া যায়।

তবে এসব সেবার বেশিরভাগই ঢাকা কেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে। ঢাকার বাইরে কয়েকটি মেডিকেল কলেজে সীমিত আকারে চিকিৎসা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চিকিৎসার জন্য রোগীদের ঢাকায় আসতে হচ্ছে। কয়েকটি সরকারি বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতালের বাইরেও বেসরকারিভাবে অনেক হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তবে অনেক রোগীর তুলনায় সরকারি হাসপাতালের সংখ্যা কম হওয়ায় রোগীদের সেবা পেতে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় খরচ অনেক কম বলে চিকিৎসকরা বলছেন। তবে আগের তুলনায় ক্যান্সারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষের সচেতনতা বাড়ছে বলে তিনি জানান।

সূত্র: বিবিসি বাংলা